রাহুল চক্রবর্তী: গণপিটুনি রুখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য৷ সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই এই অপরাধ রুখতে বিধানসভায় বিল আনতে চলেছে সরকার৷ যেখানে মান্যতা দেওয়া হবে মানুষের বাঁচার অধিকারকে৷ থাকবে গণপিটুনির মতো অপরাধে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির নিদান৷
[ আরও পড়ুন: যাদবপুরের পথে হেঁটেই প্রেসিডেন্সিতে খোলা আকাশের নিচে প্রদর্শিত হবে ‘রাম কে নাম’ তথ্যচিত্র]
জানা গিয়েছে, জীবনের অধিকারকে সুনিশ্চিত করতে এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার্থে, চলতি অধিবেশনে এই বিল পেশের কথা ভেবেছে রাজ্য৷ বিলে অপরাধের মান অনুযায়ী শাস্তিকে তিন পর্যায়কে ভাগ করা হয়েছে৷ যেখানে বলা হয়েছে, গণপিটুনির ঘটনায় কোনও একজন বা একাধিক ব্যক্তি আহত হলে, অভিযুক্তের তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে৷ অথবা ১ লক্ষ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে৷ প্রয়োজনে দুটোই হতে পারে৷ যদি আঘাত খুব গুরুতর হয়, তবে অভিযুক্তের যাবজ্জীবন
অথবা ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে৷ সঙ্গে ন্যূনতম ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা হতে পারে৷ এবং শেষে গণপিটুনিতে কারও মৃত্যু হলে বা মেরে ফেলার উদ্দেশেই পেটানো হলে, অভিযুক্তের আজীবন সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে৷ এছাড়া ন্যূনতম ১ লক্ষ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে৷
[ আরও পড়ুন: বুদ্ধ মন্দির উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষেছিল ইজাজ, জেরায় স্বীকার জেএমবি প্রধানের ]
জানা গিয়েছে, ২০১৮-র ১৭ জুলাইয়ের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রত্যেক রাজ্যকে গণপিটুনির বিষয়ে পদক্ষেপ করতে হবে৷ গণপিটুনির ব্যাধি বিষবাষ্পের মতো যেভাবে সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে ঘুম উড়েছে কেন্দ্রেরও৷ এই প্রসঙ্গে একাধিকবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে অন্যান্য শীর্ষ নেতারা৷ সরব হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু তাতেও কাজের কাজ হয়নি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশে গণপিটুনির ঘটনা রোজকার বিষয় হয়ে উঠেছে৷ এ রাজ্যেও সেই প্রবণতা ধীরে ধীরে জাল বিস্তার করছে৷ যা রুখতে তৎপর নবান্ন৷
[ আরও পড়ুন: পাওনা টাকা চাইতে খুনের হুমকি, টলিউডের প্রযোজকের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ মহিলা ]
বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, আগামী শুক্রবারই হয়তো বিধানসভায় এই গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার৷ অন্যদিকে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে ১৫টি বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার৷ যার মধ্যে অন্যতম হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয় বিল, মেডিক্যাল সার্ভিস অ্যান্ড প্রটেকশন বিল ইত্যাদি৷ মঙ্গলবার পাশ হয়েছে ট্রাভেলেটর সংক্রান্ত বিল৷ যার ফলে এবার দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক, কালীঘাট স্কাইওয়াকেও ট্রাভেলেটর বা চলমান পথ লাগানো যাবে৷ এবার ৬ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে অধিবেশন৷
সর্বশেষ খবর
-
বাতাসের ‘বিষে’ ফালাফালা মনও! বায়ুদূষণে বাড়ছে অবসাদ, আত্মহত্যার ভাবনা
-
ঘরোয়া ক্রিকেটে বাড়ছে বেতন, নতুন গ্রেডিং ব্যবস্থা বিসিসিআইয়ের, লাভবান হবেন কারা?
-
‘ইনফ্লুয়েন্সর ইমেজকে সরিয়ে চরিত্রটি দেখুন,’ সীতা বিতর্কে সরব ‘কাঁচাবাদাম গার্ল’ অঞ্জলি
-
উন্নতির শিখরে পৌঁছতে চান? বিশ্বকর্মা পুজোয় কর্মক্ষেত্রে এই কাজগুলি করতেই হবে
-
পুষ্টি পেতে বাজার থেকে আনা কলায় ভরসা? রাসায়নিকের কবল থেকে বাঁচুন ৫ উপায়ে