দূষিত বাতাসে শ্বাস নিলে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে, বাড়তে পারে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও। কিন্তু দূষণের প্রভাব কি পৌঁছতে পারে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যে?
নতুন এক গবেষণায় উঠে এল তেমনই ইঙ্গিত। নির্দিষ্ট কিছু বায়ুদূষণের সংস্পর্শের সঙ্গে আত্মহত্যার চিন্তা, আত্মহত্যার চেষ্টা, এমনকী আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর সম্পর্কও খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা!
আরও পড়ুন:
কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের গবেষকরা পরিবেশগত দূষণ এবং আত্মহত্যা বা আত্মহত্যাজনিত আচরণের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশিত একাধিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে ‘জার্নাল অফ এপিডেমিওলজি অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ’ জার্নালে।
আরও পড়ুন:

নজরে PM 2.5, PM 10
গবেষণার শুরুতে ২৮৭টি গবেষণা চিহ্নিত করা হয়েছিল। নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে তার মধ্যে ৪৫টি গবেষণা চূড়ান্ত পর্যালোচনায় জায়গা পায়। এর মধ্যে ৩৮টি গবেষণার বিষয় ছিল বায়ুদূষণ।
পরে ২৯টি গবেষণার তথ্য একত্র করে মেটা-অ্যানালিসিস করা হয়। তাতে দেখা যায়, অল্প সময়ের জন্য PM 2.5 এবং PM 10-এর সংস্পর্শের সঙ্গে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু, আত্মহত্যার চেষ্টা এবং আত্মহত্যার চিন্তার উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন PM 2.5 এবং নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের সংস্পর্শেও একই ধরনের সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে।
PM 2.5 হল অত্যন্ত সূক্ষ্ম বায়ুকণা, যা শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছতে পারে। নাইট্রোজেন-ডাই-অক্সাইডের অন্যতম প্রধান উৎস যানবাহনের ধোঁয়া এবং জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো।
শুধু বায়ুদূষণ নয়
গবেষণায় সালফার-ডাই-অক্সাইড এবং ওজোনের মতো অন্যান্য দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থের সঙ্গেও আত্মহত্যাজনিত বিভিন্ন ফলাফলের সম্পর্কের কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। পরিবেশগত শব্দদূষণের ক্ষেত্রেও এমন যোগসূত্রের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রগুলিতে প্রমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষকদের মতে, পরিবেশগত দূষণকে আত্মহত্যা প্রতিরোধের আলোচনায় সম্ভাব্য পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। দূষণ কমানোর উদ্যোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবাকে পাশাপাশি দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

মস্তিষ্কে কীভাবে প্রভাব?
ঠিক কীভাবে দূষিত বাতাস মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বিজ্ঞানীদের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপর দূষণের প্রভাব রয়েছে।
PM 2.5-এর মতো সূক্ষ্ম কণা ফুসফুসের গভীরে পৌঁছতে পারে। দূষণের ধরন এবং শরীরে প্রবেশের পথের উপর নির্ভর করে তা শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। আগের গবেষণাতেও বায়ুদূষণের সঙ্গে স্নায়বিক পরিবর্তন এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাবের সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।
গবেষকদের ধারণা, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং স্নায়ুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব মেজাজ, মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং সামগ্রিক মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এগুলি এখনও সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, নিশ্চিত কারণ নয়।

ঘুমেও ধাক্কা?
পরিবেশগত দূষণের প্রভাব আবার পরোক্ষভাবেও মানসিক স্বাস্থ্যে পড়তে পারে। যেমন, যানবাহন বা শিল্পক্ষেত্রের শব্দ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ির ছন্দও নষ্ট করতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং বিশ্রামের অভাব মেজাজ ও মানসিক সুস্থতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বায়ুদূষণ আত্মহত্যার সরাসরি কারণ, এমন প্রমাণ এই গবেষণায় নেই। গবেষণায় মূলত নির্দিষ্ট দূষণের সংস্পর্শ এবং আত্মহত্যাজনিত বিভিন্ন ফলাফলের মধ্যে একটি সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছে। সামাজিক পরিস্থিতি, মানসিক স্বাস্থ্য, আর্থিক চাপ, ঘুম, জীবনযাপনসহ আরও বহু কারণ একই সঙ্গে ভূমিকা নিতে পারে।
ফলে দূষিত বাতাস এবং মানসিক স্বাস্থ্যের এই যোগসূত্র কতটা সরাসরি, কোন মানুষ বেশি ঝুঁকিতে এবং কীভাবে দূষণ কমানোর মাধ্যমে সেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব, তা বুঝতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
এবার বন্দে ভারতে চড়েই প্রতিমা দর্শন, পুজোর বাংলায় নয়া চমক
-
‘কলকাতা’কে ধাক্কা মেরে সোজা ‘হাসপাতালে’ পাক রণতরী! ‘আমরা মারলে…’, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
-
৩০ বলে ১০০! আফগান বোলিং নিয়ে ‘ছেলেখেলা’ করে টি২০-তে দ্রুততম শতরানের রেকর্ড অভিষেকের
-
বঙ্গে এল বিশ্বকর্মা! খরা কাটিয়ে শিল্পের জোয়ার রাজ্যে, ‘নেগেটিভ সরকার’কে দুষে কী বললেন শুভেন্দু?
-
১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন! তিন দশক পর জেল খাটতে হবে ৭৫-এর বৃদ্ধকে