Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছেলের বাঁশির সুরেই ম্যাজিক, সাত টুকরো হওয়া পায়েও জোর পাচ্ছেন বাবা

কী করে তা সম্ভব হল জানেন?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ০৯:০৯

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৪, ২০১৮, ০৯:০৯

options
link
ছেলের বাঁশির সুরেই ম্যাজিক, সাত টুকরো হওয়া পায়েও জোর পাচ্ছেন বাবা zoom
Advertisement

গৌতম ব্রহ্ম: বেপরোয়া লরির ধাক্কায় ভেঙেছিল হাত-পা। সাত টুকরো হওয়া সেই হাড় জুড়তে হাঁটুর নিচে  তিন দফায় ম্যারাথন অস্ত্রোপচার হয়েছে। হাড় জুড়লেও মন ভেঙেছে। অবসাদের চোরাবালিতে ডুবতে শুরু করেছিলেন বিরাটির তাপস দে। নাওয়া খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কোনও কিছুতেই মন বসাতে পারছিলেন না। হবে না কেন ?  একে তো দুর্ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতি,  চিকিৎসার খরচ। তার উপর ঘোরতর সংশয়। আবার কি আগের মতো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব ?  সুস্থ হতে পারব ? পরিস্থিতি এমন হয় যে অবসাদ কাটাতে কড়া ডোজের ‘অ্যান্টি ডিপ্রেশান্ট’ দিতে হয় তাপসবাবুকে। তাতেও তেমন কাজ হচ্ছিল না। চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন ডাক্তারবাবুরা।

[‘১’ টিপতেই ফোন হ্যাক, মোবাইলে আধার লিংকের নামে প্রতারণা]

কে জানত তাপসবাবুর বাড়িতেই রয়েছে অবসাদ সারানোর ওষুধ ? তাপসবাবু এখন প্রায় সুস্থ। নিজের পায়ে হাঁটছেনও। ফিরে পেয়েছেন হারানো মনের জোরও। বাঁশির সুরে বাবার হারিয়ে যাওয়া মনের জোর ফিরিয়ে এনেছেন ছেলে। ওষুধের মতোই এখন নিয়ম করে বাঁশি শুনছেন তাপসবাবু। তাতেই  হয়েছে অবসাদমুক্তি। শনিবার তাপসবাবুর তৃতীয় অপারেশনটি হয়। হাসপাতালে এসেই বাবাকে বাঁশি শুনিয়েছেন ছেলে। রবিবারও শোনালেন। ঘটনার সূত্রপাত মাস সাতেক আগে। হাবড়ায় সাইকেল চালিয়ে একটি কাজে যাচ্ছিলেন। এই সময় একটি লরির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন তাপসবাবু। বরাতজোরে বেঁচেও যান।  কিন্তু হাঁটুর নিচে দু’টো পা ভেঙে যায়। একটি পা চার টুকরো। অন্যটি তিন। ভেঙে যায় হাতের কব্জিও।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তাপসবাবুকে ওইদিনই বাগুইআটির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে আসা হয়। ভরতি করা হয় বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন তথা কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ ডা. সুনীল ঠাকুর ও তাঁর ছেলে ডা. সুমন্ত ঠাকুরের অধীনে। এঁরাই তিন দফার অস্ত্রোপচারে তাপসবাবুর ভাঙা পা জোড়া লাগান। কিন্তু তাতে কী?  ততদিনে অবসাদের ধাক্কায় তাপসবাবুর মন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ানোর মানসিক জোরটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন তাপসবাবু। বিছানা থেকে নামতেই চাইতেন না। কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইতেন না। শুধু বলতেন, “আমার দ্বারা আর কিছু হবে না। আমি আর সুস্থ হব না। নিজের পায়ে কোনওদিন দাঁড়াতে পারব না।”

[অন্তর্বাসের ভিতর ৪ লক্ষ টাকার জাল নোট, ময়দান চত্বর থেকে পাকড়াও পাচারকারী]

প্রমাদ গোনেন সুমন্তবাবু। মনের জোর না হলে মাল্টিপল ফ্র্যাকচারের রোগী নিজের পায়ে দাঁড়াবেন কী করে?  অনেক ভেবে মিউজিক থেরাপির সাহায্য নেন তিনি। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এসে থেরাপি করেন তাপসবাবুর। তারপরই জানা যায় তাপসবাবুর ছেলে সোহম ভাল বাঁশি বাজাতে পারেন। সুমন্তবাবু জানালেন, “ছেলেকে বলি দু’বেলা নিয়ম করে বাবাকে বাঁশি শোনাতে। কিন্তু সেই সুর যে এতটা কাজ করবে ভাবিনি। অবসাদ কাটানোর সব ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাপসবাবু এখন নিজের পায়ে হাঁটছেনও।”  বিশিষ্ট বংশীবাদক পাঞ্চজন্য দে জানালেন, “দারুণ ব্যাপার। বাঁশির ‘হিলিং পাওয়ার’  নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। বিদেশে তো বাঁশির সুর শুনে অনেকে কাজ করেন। ধ্যান করেন।”  মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাসও মেনে নিলেন,  “পছন্দের গান,  সুর মানুষের মনকে সতেজ করতে দারুণ সাহায্য করে। মনের উৎফুল্লতা বাড়িয়ে আরোগ্য লাভের পথ প্রশস্ত করে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।”

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.