সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পুলওয়ামা হামলা নিয়ে ভোটের রাজনীতি করছেন মোদি। সোমবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নজরুল মঞ্চে দলের কোর কমিটির বৈঠক তিনি সরাসরিই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পুলওয়ামায় যে এই ঘটনা ঘটবে, আপনি তো জানতেন। কোথায় ছিলেন তখন? গোয়েন্দা সূত্রে সতর্কবার্তা ছিলই। তবু কেন ওভাবে সেদিন জওয়ানদের পাঠাচ্ছিলেন? কেন এয়ারলিফট না করে সড়কপথে পাঠাচ্ছিলেন? কেন এতজন জওয়ানকে মৃত্যমুখে ঠেলে দেওয়া হল? উপযুক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি কেন? জওয়ানদের রক্তে ভোটের রাজনীতি করছেন?’
বিয়াল্লিশে ৪২ চাই, কোর কমিটির বৈঠক থেকে লোকসভার মন্ত্র তৃণমূল সুপ্রিমোর
এ প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সিওল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়েও কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মন্তব্য, ‘দাঙ্গা বাঁধিয়ে শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন।’ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও এদিন তাঁর তোপ, ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে। রাজনীতির জন্য সব করতে পারেন। কিন্তু বেশিদিন দেশের মানুষকে এভাবে বুঝিয়ে রাখা যাবে না। মানুষ ঠিক সব বুঝতে পারেন।’ এর আগেও পুলওয়ামা হামলা নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্য ছিল, এতে রাজনীতি কাম্য নয়। বরং একসঙ্গে জঙ্গিদমনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নাম না করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দায়িত্বশীলতাকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন তিনি। হামলার নেপথ্যে কারা, তদন্ত করে দেখা উচিত বলেও মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সরাসরি নরেন্দ্র মোদির নাম করেই বিঁধলেন তিনি।
উপাচার্যকে নিগ্রহের নিন্দা, যাদবপুরের পড়ুয়াদের শৃঙ্খলারক্ষার পরামর্শ রাজ্যপালের
বিজেপি বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, নির্বাচনের সময় টাকা ছড়িয়ে সমর্থন টানা হচ্ছে। অন্যান্য দলের নেতাদের কাছে বিজেপিতে যোগদানের প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ফোনে সবাইকে বলা হচ্ছে – চলে আয়। কত টাকা লাগবে? এত টাকা কোথায় পাচ্ছে? উত্তরপ্রদেশ, ত্রিপুরায় যেমন টাকা দিয়ে ভোট হয়, তেমন এখানে হবে না।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘কেউ কেউ গেরুয়া পরে এখন সাধু সাজছে। কেউ সাধু নয়, সবাই বিদ্বেষী। সকলের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরির রাজনীতি করছে। এই ফাঁকে ভোট টানার চেষ্টা করছে। এসব বরদাস্ত নয়।’ এরপর তিনি উপস্থিত সব নেতা, কর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, সবাই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে পুরোদমে প্রস্তুত কি না। সকলেই দলনেত্রীর সুরে সুর মিলিয়ে জানান, তাঁরা প্রস্তত। এদিন বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাষণ থেকেই স্পষ্ট, বিজেপিই তাঁদের একমাত্র প্রতিপক্ষ। বিজেপি বিরোধিতাই তৃণমূলের ওয়ান পয়েন্ট অ্যাজেন্ডা।
ছবি: অরিজিৎ সাহা
সর্বশেষ খবর
-
‘বহিষ্কারের চিঠি বৈধ নয়’, তৃণমূলের সংবিধান তুলে ঋতব্রত-প্রশ্নে জবাব স্পিকারের
-
সময়ের ধুলো ঝেরে ঝকঝকে ঋত্বিকের কালজয়ী কীর্তি, লন্ডনে দেখানো হবে ‘অযান্ত্রিক’ সহ ৮ সিনেমা
-
১৫ বছর বয়সেই কোটি কোটি সম্পত্তি, নাবালক বৈভবকে কি আয়কর দিতে হয়?
-
দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট, হরমুজ হাহাকারে মিলবে জ্বালানি সমাধান?
-
প্রয়াত পদ্মশ্রী সাহিত্যিক রবিলাল টুডু, রোগভোগের পর না ফেরার দেশে ‘বীর বীরসা’র স্রষ্টা