Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬
Calcutta HC

কলকাতার মায়ের কানাডিয়ান কন্যা, অধিকার পেতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ বাবা

বাবা-মায়ের দাম্পত্য সুখের নয়। পাঁচ বছরের শিশুকন্যা কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে বেনজির টানাপোড়েন।

Advertisement
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ১৩:০৬

link
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ১৩:০৬

options
link
কলকাতার মায়ের কানাডিয়ান কন্যা, অধিকার পেতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ বাবা zoom
মেয়েকে ফেরত পাবেন কানাডা নিবাসী বাবা, নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

বাবা কানাডায়। মা কলকাতায়। দাম্পত্য টানাপোড়েনে বিদ্ধ শৈশব। অবিলম্বে তাঁদের শিশুকে কানাডায় ফেরানো উচিত। আর যতদিন না ফিরছে, ততদিন ভিডিও কলে বাবার সঙ্গে কথা বলতে দিতে হবে। তার ব্যবস্থা করতে হবে মাকেই। তবে কথা বলার সময় থাকবেন না মা কিংবা পরিবারের কেউ। কানাডিয়ান কন্যাসন্তানকে ফিরে পেতে বাবার দায়ের করা মামলায় পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের সিঙ্গল বেঞ্চের।

বাবা-মায়ের দাম্পত্য সুখের নয়। পাঁচ বছরের শিশুকন্যা কার কাছে থাকবে, তা নিয়ে বেনজির টানাপোড়েন। কানাডার নাগরিক ওই শিশুকে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ঠাকুরপুকুরে মা নিয়ে চলে এসেছে বলেই অভিযোগ বাবার। শিশুকন্যাকে ফিরে পেতে গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বাবা। মঙ্গলবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের সিঙ্গল বেঞ্চে ওঠে মামলা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে সওয়াল জবাব। বাবার তরফের আইনজীবী বলেন, “শিশুটি কানাডার নাগরিক। ভারতের ভিসা শেষ হয়ে গিয়েছে। বাবা কানাডায় থাকেন। মা কানাডায় ব্যাঙ্ক অফ কানাডায় চাকরি করতেন।”

Advertisement

শুনেই বিচারপতি বলেন, “শিশুটিকে কানাডায় পাঠিয়ে দেওয়া হোক। যতদিন না ওই শিশু কানাডায় যাচ্ছে ততদিন সে চাইল্ড ওয়েলফেয়ারের দায়িত্বে থাকবে।” শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন শিশুর মায়ের আইনজীবী। তিনি বলেন, “মা কিছুতেই শিশুটিকে নিজের কাছছাড়া করতে চান না। মায়ের কাছ থেকে শিশুকে নিয়ে নেওয়া হলে তাঁর ট্রমা তৈরি হবে।” বিচারকের কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়ে শিশুর মায়ের আইনজীবী আরও বলেন, “মা শিশুটির সঙ্গে কানাডায় যাবে নাকি শুধুমাত্র মেয়ে কানাডায় ফেরত পাঠিয়ে দেবেন, সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় দেওয়া হোক।” এরপরই বিচারপতির প্রশ্ন, শিশুর বয়স কত? কোথায় পড়ে সে? শিশুর মায়ের আইনজীবী জবাবে জানান, শিশুটি পাঁচ বছর বয়সি। সে বর্তমানে ঠাকুরপুকুরের প্লে স্কুলে পড়ে।

শিশুটির বাবার আইনজীবীর অভিযোগ, “শিশুটির মা বাবার থেকে সর্বস্ব হাতিয়ে নিতে চান। এর আগে একটি শপিং মলে সন্তানের সঙ্গে বাবার দেখা করান ওই মহিলা। আইনজীবী হিসাবে আমিও উপস্থিত ছিলাম। সেদিনের সাক্ষাৎ পর্ব দুর্ব্যবহার করেন মহিলা।” বিচারপতি বসাক জানতে চান তবে কি শিশুটি মাঝেমধ্যে তার বাবার সঙ্গে কথা বলে। শিশুর বাবার আইনজীবীর অভিযোগ, তার মা ভালো করে কথা বলতে দেন না। তাঁর আরও অভিযোগ, শিশুটির ইন্ডিয়ান ওভারসিজ সিটিজেনশিপের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ভিসা শেষ হয়ে গিয়েছে। কানাডার কোর্টে নির্দেশ অমান্য করে শিশুটিকে ভারতে নিয়ে আসেন মা। যেকোনও শর্তে সন্তানকে বাবা ফিরে পেতে চান বলেই জানান আইনজীবী।

সওয়াল জবাব শোনার পর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপকি দেবাংশু বসাক জানান, শিশুটিকে ফের কানাডায় ফেরত পাঠানোই উচিত। আগামী ৩ দিনের মধ্যে এফিডেভিটের কপি আদালতে জমা দিতে হবে। আগামী সপ্তাহ দুয়েক পর এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। এই সময়ের মধ্যে শিশুটি যাতে তার বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। সকাল ৮টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত প্লে স্কুলে থাকে খুদে। সেই সময়ের সঙ্গে বাবার সঙ্গে কথা বলতে দিতে হবে। সেই সময় তার মা কিংবা পরিবারের কেউ থাকবেন না। শুধুমাত্র স্কুলের তরফে একজন প্রতিনিধি থাকবেন।মাকে একটি ডিভাইসের বন্দোবস্ত করতে হবে। শিশুটি যাতে প্রতিদিন সকাল ৮টায় স্কুলে উপস্থিত থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে মাকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.