নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশন ঘিরে তুমুল হইহট্টগোল। সোমবার বাজেট পেশের পর আজ, মঙ্গলবার তা নিয়ে আলোচনার শুরুতেই বাকবিতণ্ডা দুই শিবিরের বিধায়কদের মধ্যে। জড়িয়ে পড়লেন স্পিকারও। তবে এদিন প্রথমবার অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে উঠেই কথার মার-প্যাঁচে বাকিদের টেক্কা দিলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বিজেপি বিধায়কদের আক্রমণের পালটা দেওয়ার পাশাপাশি নিশানা করেন ‘আসল’ তৃণমূল তথা বিরোধী দলনেতার তকমা পাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর উদ্দেশেই তিনি বলেন, ‘‘আপনি একজন ধর্ষণে অভিযুক্তকে বিরোধী দলনেতা করবেন, এটা হয় নাকি?” স্পিকার তাঁকে থামাতে গেলে তৃণমূল বিধায়ক রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘‘আপনি এভাবে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন না।” বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে অবশ্য কুণালের সরস মন্তব্য, ‘‘আমাকে ভয় পান বলে বলতে দিচ্ছেন না। ৫ বছর আমায় ভয় পেয়ে চলুন। গুরুত্ব দিয়ে চলুন।”
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে কুণালের মন্তব্য, ‘‘বালুরঘাটে যে ধর্ষণের মামলা রয়েছে, তাকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। বিজেপি বা বিজেপির স্পনসর বিধায়ক এঁরা। পাণ্ডবরা কিন্তু পাঁচজন ছিল। কৌরবরা একশো হয়েও বাঁচেনি।” ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা তাঁর এসব মন্তব্যের বিরোধিতা করলে কুণাল তাঁকে মেসি কাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেন।
আরও পড়ুন:

সোমবারই পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন শুভেন্দু সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তা নিয়ে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত আলোচনা চলবে। মঙ্গলবার সেই আলোচনা চলছিল। রাজ্যপালের ভাষণ নিয়ে বক্তব্য রাখতে ওঠেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তাঁকে লক্ষ্য করে বিজেপি বিধায়করা একযোগে আক্রমণ শানান। কেউ প্রশ্ন তোলেন, ‘‘আপনি কোন তৃণমূল?” কুণালের সপাট জবাব, ‘‘এখনও হাতের আঙুলের কালি যায়নি। আমি বেইমান নই।” এরপর অধ্যক্ষের উদ্দেশে বলেন, ‘‘স্যর, ওরা আমায় ভয় পায়। তাই বলতে দিচ্ছে না।”
পাশাপাশি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে কুণালের মন্তব্য, ‘‘বালুরঘাটে যে ধর্ষণের মামলা রয়েছে, তাকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে। বিজেপি বা বিজেপির স্পনসর বিধায়ক এঁরা। পাণ্ডবরা কিন্তু পাঁচজন ছিল। কৌরবরা একশো হয়েও বাঁচেনি।” ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা তাঁর এসব মন্তব্যের বিরোধিতা করলে কুণাল তাঁকে মেসি কাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেন।
বাকবিতণ্ডা থামাতে আসরে নামেন পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘প্রথমত বিধানসভার প্রথাগত প্রক্রিয়ায় প্রথম বক্তৃতা করছেন। সবার কাছে অনুরোধ, রাজ্যপালের ভাষণের উপর বলুন। প্রথম বক্তৃতায় শাসক ও বিরোধী পারস্পরিক সৌজন্য, সৌহার্দ্য বজায় রেখে চলুন। আরও পাঁচ বছর সময় আছে। অনেক বলার সময় পাবেন। কুণাল বাবু-সহ আমাদের সবাইকে একথা বলব।” কুণাল ঘোষ এদিন হাথরাস-উন্নাও, অনুপ্রবেশ, রেড রোডে নমাজ বন্ধ-সহ বহু প্রসঙ্গ তোলেন নিজের বক্তব্যে। এসব শব্দ অবশ্য স্পিকার বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কেন আইএসএফের প্রতীক খাম হাতছাড়া? কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের
-
মেরুকরণ হলেই সম্ভব! উত্তরপ্রদেশের ছকে রেজিনগর জয়ের অঙ্ক বিজেপির
-
বেড়াতে গিয়ে প্রথম দেখাতেই প্রেম! কেন বাড়ছে ‘ওয়ান্ডারলাভ ডেটিং’য়ের প্রবণতা
-
এনসিপিআই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কুণাল! ‘স্ক্রিনশট নিয়েছি’, বোমা তৃণমূল বিধায়কের
-
সারা বছর ফিট, পুজোর ডায়েট প্ল্যানে ‘বেহিসেবি’ হতে চান ফেলুদা ‘টোটা’!