Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিপার আতঙ্কে বিধানসভার সাজানো ফলের বাগানে অচলাবস্থা

গাছেরও খাবে না, তলারও কুড়োবে না বিধানসভা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৮, ২০:২১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৮, ২০:২১

options
link
নিপার আতঙ্কে বিধানসভার সাজানো ফলের বাগানে অচলাবস্থা zoom
Advertisement

ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: খয়রাটে কুতকুতে একজোড়া চোখ। অপার বিস্ময়মাখা আপাতনিরীহ সেই চোখের পিছনেই সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাতছানি। আচমকা চিঁ চিঁ শব্দে পতপত করে পাখা ঝাপটে পলকে উড়ে গেল সব ডানা মেলে। ঝুপঝাপ খসে পড়ল দু’চারটে সদ্য আধখাওয়া আলফানসো। কিংবা পশ্চিম গেটের গায়ের গাছটা থেকে ঝরে পড়ল থোকা ছেঁড়া গোটাকতক কালোজাম। বাদুড়ের আস্তানা। ফলাহারী বাদুড়, যে কিনা কালান্তক নিপার বাহক। তাই দক্ষিণের প্রবেশদ্বার পার করে ভিতরে পা রাখতেই গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে এখন দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে কর্মীদের। নিপার আতঙ্কে তাই বাগানের ঝরে পড়া ফল খেতে কড়া ‘নিষেধ’ জারি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা চত্বরে।

কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও আতঙ্ক তো রয়েইছে। তার জন্যই মালি থেকে নিরাপত্তারক্ষী, পুলিশকর্মী থেকে বিধানসভার কর্মী, প্রত্যেকের মুখে মুখে ফিরছে সাবধানবাণী। এক নিরাপত্তা আধিকারিকের কথায়, “সাবধানের মার নেই। এখন নিপার আতঙ্ক সর্বত্র। আর বিধানসভায় এত গাছ। গরমের এত ফল। পাখি তো খাবেই। এবার বাদুড়ের ভয়ও ঘাড়ে চেপেছে। তাই আমরা মৌখিকভাবে সাবধান করেছি পড়ে থাকা ফল একেবারেই না ছুঁতে।” বিধানসভা প্রাঙ্গণের গাছগাছালি থেকে ফুল ছেঁড়া বা ফল পাড়ায় আগে থেকেই বিধিনিষেধ রয়েছে। শেষবার কে কবে গাছে উঠে ফল পেড়ে বিলিয়েছেন, তা কারও স্মরণে নেই। এক বৃদ্ধ কর্মী মনে করে বললেন, শেষ ফল পাড়া হয়েছিল তাও প্রায় বছর আঠারো হবে! মালি ও তাঁর সঙ্গীরা সেবার সব ফল পেড়ে ঘরে ঘরে বিলিয়েছিলেন।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
[লাভের মুখ দেখছে SAIL, স্বস্তিতে কর্মীরা]

এমনিতেই সরকারি সম্পত্তিতে হাত দেওয়ার নিয়ম নেই। এতদিন মাটিতে খসে পড়া ফল আনন্দে কুড়িয়ে খেয়েছেন কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা। কিন্তু এবার? এবার তো তলারও খাওয়া যাবে না, গাছে উঠে পাড়াও বিধিবিরুদ্ধ। কথায় বলে মরশুমি ফল নাকি খেতে হয়। তবে কি বাগানসুদ্ধ ফল গাছেই নষ্ট হবে? বিধানসভার সাজানো বাগানে নয় নয় করে এই মুহূর্তে দণ্ডায়মান প্রায় ৫০টি আমগাছ। যার মধ্যে রয়েছে আলফানসো, ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোলাপখাস, চৌসা, সুরমা ফজলি, বোম্বাই আম। মালিরা জানাচ্ছেন, শুধু আমের মরশুমেই নষ্ট হয় ছয় থেকে আট লরি ফল। রয়েছে প্রায় ৪০টি জামরুল গাছ। সঙ্গে নারকেল, কালোজাম, গোলাপজাম। আর ফল পাকলে তো ফুলের বাগানের কাছেই ভারে নুয়ে পড়ে বাতাবির ডাল। তাও আছে প্রায় ৭-৮টা। এছাড়াও কাঁঠাল, পেয়ারার হরেক কিসিমের গাছ। পাশাপাশি কেয়ারি করা ফুলের বাহার তো চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দেয়। লিচুর গাছ থাকলেও তাতে অবশ্য ফলন তেমন হয় না। তাতে কী? আম-জামেই তো বাগান মাত! আর সেসবের মাথাতেই এখন বাদুড়ের ডানায় ভর করে উড়ছে নিপার ছায়া।

[লাফিয়ে বাড়ছে কেরোসিনের দাম, জ্বালানি যন্ত্রণায় জেরবার মধ্যবিত্ত]

তবে কি ফল সব পাড়িয়ে ফেলা হবে? পালটা প্রশ্ন উঠেছে, এত ফল পাড়ানোর দায়িত্ব কে নেবে?  কর্তৃপক্ষের কথায়, এত ফল পাড়া হাতেগোনা কয়েকজনের পক্ষে সম্ভব নয় বলেই টেন্ডার দেওয়ার নীতি চালু হয়। কিন্তু এই বাগানের ফল নিয়ে কারও কোনও আগ্রহ না থাকায় কার্যক্ষেত্রে সেই টেন্ডারও ডাকা হয়নি কখনও। এখন অন্তত ১০ জন মালি কাজ করেন গোটা বাগানে। তাঁদের মধ্যে বিরাজমোহন ধর কাজ করছেন তেত্রিশ বছর ধরে। তিনি জানাচ্ছেন, “আমরা একবার কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম এই ফল পাড়ানোর ব্যবস্থা করুন। কিন্তু তা আর বেশিদূর এগোয়নি। ফল পাখিতে, বাদুড়ে খেয়ে নষ্ট করে যাচ্ছে। এখন তো ভয়ে মাটিতে পড়ে থাকা ফলও খাওয়া যাচ্ছে না।”

নিপাতঙ্কের কথা স্বীকার করেছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তা সত্ত্বেও এখনই ফল পাড়ানোর কোনও উদে্যাগ নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিমানবাবুর কথায়, ফল পাড়ানোর ঝক্কি কম নয়। গাছে চড়তে জানেন, এমন দক্ষ শ্রমিকের জন্য টেন্ডার দিতে হবে। সব কিছু বেশ শ্রমসাধ্য। তবে নিপা নিয়ে আলাদা করে ফল পরীক্ষা করানোর কোনও উদে্যাগ এখনই নেওয়া হচ্ছে না। তাহলে? বিধানসভার এক আধিকারিকের গলায় অবশ্য অগাধ আত্মবিশ্বাস। তিনি বলেন, “এ বিধানসভায় বাদুড়-টাদুড় নেই। তবে লক্ষ্মীপেঁচা আছে জানি। দোতলার কার্নিশে সন্ধ্যার মুখে মাঝেমাঝে দেখা যায়। নিপা কিছু করতে পারবে না।”

[OMG! এ শহরেই মাত্র ৬ টাকায় মিলছে নিরামিষ ভাতের থালি!]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.