২২ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  সোমবার ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

শুভময় মণ্ডল: সুদীর্ঘ রক্তিম গালিচা। দর্শকদের করতালি, ফ্ল্যাশের ঝলকানি। একে একে হেঁটে আসছেন সুন্দরের প্রতিভূরা। মুহূর্মুহূ উচ্ছ্বসিত দর্শকদের আবেগ যেন আর বাঁধ মানছে না। ব়্যাম্প শো। সুদৃঢ় পেশিময় পদক্ষেপ, বিস্তৃত বক্ষপটে বহু সংগ্রাম-অভিজ্ঞতার ছাপ, শালগাছের ন্যায় বলিষ্ঠ কাঁধ, উন্নত-প্রশস্ত ললাটের জয়তিলক, দৃঢ় চিবুকে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাস – হাঁটছেন ওঁরা ছন্দোবদ্ধ গতিতে, স্বকীয় ভঙ্গিমায়। নিশ্চয়ই আর কোনও সংশয় নেই যে এই ব়্যাম্প শো’র প্রতিযোগীরা নারী নন, নর। প্রকৃতির অর্ধেক অংশ। আর তা ঘিরে অন্যরকম উৎসাহ, উদ্দীপনা।

[ আরও পড়ুন: নবরাত্রির নতুন ফ্যাশন, শরীরে চন্দ্রযান-২ ও ৩৭০ ধারার ট্যাটু আঁকছেন যুবতীরা]

‘আমরা নারী, আমরা পারি’। এই প্রবাদ এবার উলটে যাচ্ছে ‘লড়ছে পুরুষ, গড়ছে পুরুষ’-এর বহিঃপ্রকাশের মধ্যে দিয়ে। কী ভাবছেন? পুরুষশাসিত সমাজে আবার ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা প্রতিনিধিদের জন্য এমন আদিখ্যেতা ভরা স্লোগান কীসের? তাহলে বলতেই হচ্ছে, ভাবনায় কিঞ্চিৎ বদল আনুন। সমগ্র সৃষ্টিকর্মে মূল অবদান যদি নারীর হয়, তবে বাকিটা অবশ্যই নরের। নরনারী যদি সমকক্ষ হয়, তবে কেনই বা পুরুষ সৌন্দর্য প্রদর্শন করবেন না? কেনই বা প্রচলিত ধ্যানধারণা ভেঙে নিজের মধ্যে থাকা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে সাজগোজে মন দেবেন না? নারী-পুরুষের এই প্রভেদ যখন আজ ভেঙেই গিয়েছে, তখন পুরুষের ব়্যাম্প শো’ও একটি ইভেন্ট বইকি।

অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম এবং ফরএভার ফর ইউ – দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আজ বিকেলে এমন ইভেন্টের সাক্ষী থাকবে আইসিসিআর প্রেক্ষাগৃহ। যার পোশাকি নাম – ‘পুজোর সেরা পুরুষ ২০১৯’। বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান রাখা ১০জন পুরুষ ব়্যাম্পে হাঁটবেন। কেউ পেশাদার মডেল নন। কেউ ব্যাংক কর্মী, কেউ কর্পোরেট আইনজীবী, কেউ বা স্কুল শিক্ষক। যাঁরা প্রত্যেকেই নিজস্ব কাজের জন্য সমাজে প্রতিষ্ঠিত, পরিচিত। ৩০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে তিন পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে বেছে নেওয়া হয়েছে ১০জনকে। তাঁরাই আজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজেদের চেনাবেন অন্যভাবে, ভিন্নরূপে।
তবে আলোর ঝলকানি, রেড কার্পেটে এভাবে নিজেদের তুলে ধরা এই প্রতিযোগীদেরও একেকটা গল্প আছে। এঁরা অনেকেই আইনি ফাঁকের শিকার। সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে দেওয়ার যে সহায়ক আইন, তারই অপব্যবহার এঁদের জীবনকে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। বিশেষভাবে বলতে গেলে, কেড়ে নিয়েছে পুরুষের অধিকার। সেই জায়গা থেকে লড়াই করে নিজেদের হতভাগ্য পরিস্থিতি বদলে দেওয়া নায়করা আজ ব়্যাম্পের ‘মডেল’। শো’জ স্টপার প্যারাঅলিম্পিকজয়ী প্রবীর সরকার। অতিথিরাও সকলে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। বিচারকদের মধ্যেও আজ আর কোনও প্রভেদ নেই। ৩ নারী, ৩ পুরুষের প্রতিসম বিচারকমণ্ডলী। বেছে নেওয়া হবে  ‘পুজোর সেরা পুরুষ ২০১৯।’ 

sera-purush1
আগ্রহের বিষয় আছে আরও। এই ব়্যাম্প শো’র আয়োজক কারা? অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম এবং ফরএভার ফর ইউয়ের নাম তো আগেই বলেছি। কিন্তু এই দুই সংগঠনের সদস্যরাই মহিলা। তাঁদের উদ্যোগেই পুরুষ আজ ব়্যাম্পে অবতীর্ণ। উদ্যোগ থেকে শুরু করে মেকআপ, পোশাক – পুরুষকে সাজাতে এগিয়ে এসেছেন নারীরাই। পুরুষের অধিকার নিয়ে বিগত ৩ বছর করে কাজ করছেন অন্যতম উদ্যোক্তা নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, ‘দুর্গাপুজো যেমন নারী শক্তির উদযাপন, তেমনই এর নেপথ্যে কিন্তু পুরুষের ভূমিকাই মুখ্য। পুজো প্যান্ডেল থেকে প্রতিমা নির্মাণ, সমস্ত আয়োজন – সবই তো করেন একজন পুরুষ। আমরা তাই এমন কয়েকজনকে বেছে নিয়েছি, যাঁদের সমাজে বিশেষ অবদান আছে। যাঁদের ছাড়া কোথাও কোথাও দেবীশক্তির আরাধনাই বন্ধ হয়ে যেত। আমরা, যাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছি, তাঁরা সকলেই নারী।এও এক বিশেষত্ব।’

[ আরও পড়ুন: পুজোর আগে ত্বকে জেল্লা আনতে চান? রইল বিশেষজ্ঞের একগুচ্ছ টিপস]

কথায় বলে, প্রতিটি সফল পুরুষের নেপথ্যে রয়েছেন একেকজন নারী। কিন্তু ‘লড়ছে পুরুষ, গড়ছে পুরুষ’ যেন এই প্রবাদটিকে একেবারেই হাতেকলমে প্রমাণ করে দিচ্ছে। চিরায়ত নন্দনতত্ব বলে, বীরত্বের অধিকার যেমন পুরুষের একচেটিয়া নয়, সুন্দরের অধিকারীও কেবল নারীই নয়। তাই তো ঘুরেফিরে আমাদের মনে পড়ে যায় বৃহন্নলারূপী অর্জুনকে। আমরা মনে করি রানি লক্ষ্মীবাঈকে। সৌন্দর্যকে একপাশে সরিয়ে রেখে পুরুষের শৌর্য-বীর্যকেই গুরুত্ব দেওয়ার দিন শেষ। আজ বিকেলে আইসিসিআরে তারই উদযাপন।

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং