মোদক দেখলে মন চাইলেও ডায়াবেটিসের কারণে অনেকেই হাত সরিয়ে নেন। গণেশ চতুর্থীতে (Ganesh Chaturthi) সেই দ্বিধা আরও বাড়ে। প্রিয় মিষ্টি খাবেন, নাকি রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ভয়ে এড়িয়ে যাবেন?
আসলে ডায়াবেটিস থাকলে মোদক পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে মিষ্টিমুখের আনন্দটা যেন মাত্রা না ছাড়ায়, সেদিকে নজর রাখাই সবচেয়ে জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সঠিক পরিমাণ ও খাবারের ভারসাম্য মেনে চললে উৎসবের দিনেও মোদক উপভোগ করা যায়।
আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের কথায়, উৎসবের খাবার নিয়ে অযথা অপরাধবোধে ভোগার প্রয়োজন নেই। বরং সচেতনভাবে খাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস থাকলেই সব উৎসবের খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, এমন নয়। পরিমাণের দিকে নজর রেখে এবং সার্বিক খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই উৎসব উপভোগ করা যায়।
আরও পড়ুন:

মোদক কি একেবারেই নিষেধ?
সাধারণ মোদকে শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। তাই বেশি পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তবে কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করে মোদকের উপকরণ, তৈরির পদ্ধতি এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে তার উপর।
তাই মোদককে একেবারে ‘নিষিদ্ধ’ খাবার না ভেবে পরিমাণের দিকে নজর দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। একটি মোদক খেতে চাইলে ধীরে ধীরে খান। পাশাপাশি সেই সময়ে আর কী খাচ্ছেন, সেদিকেও নজর রাখুন।
একসঙ্গে অনেকটা নয়
উৎসবের দিনে বাড়ি, আত্মীয়ের বাড়ি বা পুজোর অনুষ্ঠানে বারবার মিষ্টি খাওয়ার সুযোগ আসে। ফলে অজান্তেই দিনের শেষে মিষ্টির পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। তাই একসঙ্গে একাধিক মিষ্টি না খাওয়াই ভালো।
মোদকের সঙ্গে ঠান্ডা মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলুন। তার বদলে নর্মাল জল পান করুন। আর উৎসবের মূল খাবারে শাকসবজি, প্রোটিন ও ফাইবার রাখুন। শাকসবজি খাবারে ফাইবার যোগ করার পাশাপাশি পেট ভরাতেও সাহায্য করে।

‘হেলদি’ মোদকেও মাপ জরুরি
এখন অনেকেই দনা শস্য, বাদাম ও বীজ দিয়ে তৈরি মোদক বেছে নিচ্ছেন। উপকরণ বদলে পুষ্টিগুণে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু তাই বলে এই মোদক যত খুশি খাওয়া যাবে, এমন নয়।
বাড়িতে তৈরি মোদক বা তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর উপকরণে তৈরি মোদকেও কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি থাকতে পারে। তাই মোদক যে ধরনেরই হোক, ডায়াবেটিস থাকলে মূল কথা একই—পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
উৎসবে সুগার সামলাবেন কীভাবে?
শুধু মিষ্টি খাবেন বলে আগে থেকে খাবার বাদ দেবেন না। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে পরে বেশি খেয়ে ফেলার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। তাই রোজের খাবারের সময় যতটা সম্ভব একই রাখুন।
উৎসবের খাবারেও শাকসবজি, প্রোটিন ও ফাইবার রাখুন। মিষ্টি পানীয়ের বদলে জল বেছে নিন। মিষ্টি ধীরে ধীরে খান এবং দিনে মোট কতটা মিষ্টি খাচ্ছেন, তার হিসেব রাখুন। খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করাও উপকারী। এতে উৎসবের ব্যস্ততার মধ্যেও দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা যায়।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিসের ওষুধ নিয়মিত খান। উৎসবের খাবার খাওয়ার জন্য নিজের ইচ্ছায় ওষুধের ডোজ কমানো বা বাড়ানো উচিত নয়।
মোদক থাক, তবে পরিমাণে
ডায়াবেটিস থাকলেই উৎসবের আনন্দ থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে হবে না। গণেশ চতুর্থীতে মোদক খেতে ইচ্ছে হলে অল্প পরিমাণে খান, ধীরে খান এবং বাকি খাবারে ভারসাম্য রাখুন। একটি মোদক খাওয়াই সমস্যা নয়, সমস্যা হতে পারে যখন একটি মোদক থেকেই শুরু হয় একের পর এক মিষ্টি খাওয়া। তাই উৎসবের আনন্দ থাকুক, মিষ্টিমুখও হোক, শুধু একটু মেপে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাঁদরের থেকে কম ঘুমিয়েই পৃথিবীর রাশ মানুষের হাতে! আশ্চর্য দাবি বিজ্ঞানীর
-
বালোচিস্তানে পাক সেনার কনভয়ে ভয়ংকর হামলা! অন্তত ২৩ জওয়ানের মৃত্যু
-
গোয়েঙ্কার দলের জার্সিতেই বৈভবের শুরু! ‘বেবি বস’কে না পাওয়ায় এখন আক্ষেপ লখনউ মালিকের
-
গায়ের রং যেন অপরাজিতা ফুল, বাংলার কোথায় পূজিতা হন নীলবর্ণা দুর্গা?
-
পাঞ্জাবি গায়ক গুলাবের বাড়িতে গুলিবর্ষণ, ‘বন্ধু’ সিধু মুসেওয়ালার খুনের বিচার চাওয়াই কাল?