সকালে বেশ স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েছেন। কিন্তু ঘড়িতে ১১টা বাজতেই পেট থেকে আওয়াজ! ফের কিছু খেতে ইচ্ছে করছে? অনেকেই এমন হলে ভাবেন, বুঝি খিদেটাই বেশি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যাটা সব সময় আপনার খিদেতে নয়, বরং প্রাতঃরাশের প্লেটেই থাকতে পারে।
‘হেলদি’ তকমাতেই ভুল
কর্নফ্লেক্স ও দুধ, জ্যাম-পাউরুটি, চায়ের সঙ্গে বিস্কুট বা শুধু ফল। দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এই খাবারগুলির কোনওটি একা খেলেই যে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকবে, এমন নয়। পুষ্টিবিদদের কথায়, কোনও একটি খাবারকে ‘হেলদি’ বললেই ব্রেকফাস্ট ব্যালান্সড হয়ে যায় না। খাবারে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের মধ্যে সঠিক সমন্বয় থাকা জরুরি। তাই ১১টার আগেই খিদে পেলে নিজের খাওয়ার ইচ্ছাকে দোষ দেওয়ার আগে একবার দেখে নিন সকালের প্লেটে কী কী আছে।
আরও পড়ুন:
প্রোটিন বাদ পড়ছে?
প্রাতঃরাশের পর তাড়াতাড়ি খিদে পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন তৃপ্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং পেশি তৈরিতেও প্রয়োজনীয়। শুধু চা-পাউরুটির বদলে ডিম বা পনির যোগ করা যেতে পারে। মুগ ডালের চিলা ও পনির, কিংবা সবজি দেওয়া পোহা ও দইও হতে পারে ভালো বিকল্প। অর্থাৎ, পছন্দের খাবার ছেড়ে দেওয়ার দরকার নেই। খাবারের সঙ্গে একটি ভালো প্রোটিনের উৎস যোগ করলেই ব্রেকফাস্টের ভারসাম্য অনেকটাই বদলে যেতে পারে।

কার্বস দেখলেই ভয়?
ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেন। কিন্তু কার্বোহাইড্রেট নিজেই সমস্যার কারণ নয়। কোন ধরনের কার্বোহাইড্রেট খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে কী রাখছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সবজি দেওয়া পোহা যদি বাদাম ও দইয়ের সঙ্গে খাওয়া হয়, তাহলে খাবারে একসঙ্গে একাধিক পুষ্টি উপাদান যোগ হয়। তাই কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়ার বদলে প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঙ্গে তার ভারসাম্য তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ফলেই সকাল কাটছে?
ফল স্বাস্থ্যকর। কিন্তু শুধু ফল খেয়ে ব্রেকফাস্ট সারলে অনেকেরই লাঞ্চ পর্যন্ত পেট ভরা নাও থাকতে পারে। ফলের স্মুদিও সব সময় পেট ভর্তি ব্রেকফাস্ট নয়। শুধুমাত্র ফল দিয়ে তৈরি স্মুদিতে ভিটামিন ও প্রাকৃতিক শর্করা থাকলেও প্রোটিন ও ফাইবার কম থাকতে পারে। স্মুদি খেতে চাইলে দই বা গ্রিক ইয়োগার্ট যোগ করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী বাদাম ও দানাশস্যও রাখা যায়।

১১টার খিদে কি সত্যিই খারাপ?
একেবারেই নয়। সকাল ১১টার দিকে খিদে পাওয়া শরীরের স্বাভাবিক সংকেত। প্রাতঃরাশের উদ্দেশ্য লাঞ্চ পর্যন্ত জোর করে খিদে আটকে রাখা নয়। তবে নিয়মিত প্রাতঃরাশের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রবল খিদে পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। কারণ শুধু সকালের খাবার নয়, ঘুম, মানসিক চাপ, শরীরে জলের পরিমাণ, শারীরিক পরিশ্রম এবং সারাদিনের খাদ্যাভ্যাসও খিদের উপর প্রভাব ফেলে।
তাই পরের বার ১১টার আগেই পেটে ছুঁচো দৌড়লে নিজেকে দোষ দেবেন না। বরং একবার নিজের ব্রেকফাস্টের প্লেটটা দেখুন। ‘হেলদি’ খাবার খাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু সেখানে প্রোটিন-ফাইবারের ব্যালান্সটা ঠিক আছে তো?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘লর্ডে’র ব্যাটে লর্ডসে সেঞ্চুরি, ২২ গজে মায়ের টোটকা! টিভি শোয়ের অভিষেকে সিক্রেট ফাঁস রোহিতের
-
ভাষা-ধর্মের নামে বিভেদ নয়, রাধাষ্টমীর সন্ধ্যায় ঐক্যের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
-
মাও বঙ্গ ব্রিগেডের কফিনে শেষ পেরেক! পুলিশের জালে কিষানজি-আকাশের ২ দেহরক্ষী
-
হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় চাঙ্গা লিগ, মিছিল ঘিরে তপ্ত ঢাকা, ৫০০-র বেশি গ্রেপ্তার
-
রোহিত ইস্যুতে সংঘাত, মতবিরোধ লক্ষ্মণের সঙ্গেও! আগরকরের বিদায়ের নেপথ্যে একাধিক বিস্ফোরক কারণ