ভিডিও গেম মানেই শুধু বিনোদন নয়। অনেকের কাছে তা অবসর কাটানোর মাধ্যম, কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জায়গা, আবার কারও ক্ষেত্রে পেশাও। কিন্তু সেই গেমিং যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকা, রাত জাগা, শরীরচর্চার অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইনের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন বদলে যেতে পারে ছবিটা। প্রশ্ন উঠছে, এমন জীবনযাপন কি হৃদ্যন্ত্রের উপরও চাপ তৈরি করতে পারে?
প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের সময় উত্তেজনা, রাগ, টেনশন বা জেতার প্রবল তাগিদ শরীরে শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ফলে শুধু মাঠে খেলাধুলো নয়, স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা নিয়েও নজর দিতে হচ্ছে জীবনযাপনের দিকে।
আরও পড়ুন:
আসল সমস্যা শুধু গেম নয়
সাধারণভাবে ভিডিও গেমকে হৃদ্যন্ত্রের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর বলা যায় না। সমস্যা তৈরি হয় যখন গেমিংয়ের সঙ্গে একের পর এক অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস জুড়ে যায়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের কথায়, প্রতিযোগিতামূলক গেম সত্যিকারের স্ট্রেস রেসপন্স তৈরি করতে পারে। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সময় শরীরে অ্যাড্রিনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়, যা সাময়িকভাবে হৃদ্স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।
অর্থাৎ, একটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সময় হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা শরীরে স্ট্রেস রেসপন্স তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে বারবার যদি চরম মানসিক উত্তেজনার মধ্যে গেমিং চলতে থাকে, তা সামগ্রিক জীবনযাপনের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এক জায়গায় বসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা
একটি ম্যাচ শেষ হচ্ছে, শুরু হচ্ছে পরেরটি। কখনও বিরতি নেই। এভাবেই দিনের বড় একটা সময় কেটে যাচ্ছে চেয়ারে বসে। শারীরিক নড়াচড়া প্রায় নেই বললেই চলে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, বিশেষ করে অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত শরীরচর্চার অভাবের সঙ্গে যুক্ত হলে সময়ের সঙ্গে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের অস্বাভাবিক মাত্রার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। যা বাড়ায় হৃদ্রোগের ঝুঁকি।
তাই দীর্ঘক্ষণ গেম খেলার সমস্যা শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার সঙ্গে যদি দিনের পর দিন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হয়, তাহলে তৈরি হতে পারে হৃদ্রোগের একাধিক পরিচিত ঝুঁকি।
রাত জাগার সঙ্গে ক্যাফেইনের চাপ
গেমিংয়ের সময় আরও একটি অভ্যাস পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। দীর্ঘক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে অনেকেই ঘুম কমান, রাতে জেগে থাকেন এবং ক্লান্তি কাটাতে বারবার কফি, ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বা এনার্জি ড্রিঙ্ক খান।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বুক ধড়ফড়, হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং সাময়িকভাবে রক্তচাপ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তার সঙ্গে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি যোগ হলে শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান রিদমও ব্যাহত হতে পারে।

উত্তেজনা ভেবে ভুল করবেন না
গেম চলাকালীন বা খেলা শেষ হওয়ার পর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, তীব্র মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা বা চাপ, খুব দ্রুত কিংবা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন অথবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে শুধুই গেমের উত্তেজনা বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এই ধরনের উপসর্গের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। বিশেষ করে উপসর্গ হঠাৎ ও তীব্রভাবে শুরু হলে অথবা তার সঙ্গে ঘাম, বমি বমি ভাব বা অস্বস্তি হাত, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
বিশেষ করে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা স্থূলতা রয়েছে বা পরিবারে কম বয়সে হৃদ্রোগের ইতিহাস রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। গেমিং থেকে দূরে থাকা নয়, বরং খেয়াল রাখা দরকার, স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় যেন ঘুম, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং নিজের শরীরের সতর্ক সংকেতকে উপেক্ষা না করা হয়।
সর্বশেষ খবর
-
যৌন ক্ষুধা মেটাতে ছেলেকে ব্যবহার মায়ের, শতাধিকবার মিলন! দু’জনকেই হাজতে ঢোকাল পুলিশ
-
ডিম ‘খেয়ে’ রেগে আগুন মহুয়া! ৮ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে তেহট্ট থানায় দায়ের অভিযোগ
-
দ্বিতীয় সন্তান আসতে আর ক’দিন! শ্বশুর-শাশুড়ি, রণবীরকে নিয়ে সিদ্ধিবিনায়কে পুজো দীপিকার
-
এক সপ্তাহে দ্বিতীয়বার, পাঞ্জাবে আততায়ীর গুলিতে নিহত পুলিশকর্মী! দায় স্বীকার জঙ্গি সংগঠনের
-
এবার হোয়াটসঅ্যাপই জানাবে পিএফ ব্যালান্স, জেনে নিন কীভাবে করবেন