‘সংস্কৃতি কি ক্লিভেজে আটকে?’, পোশাক বিতর্কে সমাজকে মোক্ষম খোঁচা নায়িকার
খোলামেলা পোশাক থেকে উঁকি দিচ্ছে বক্ষবিভাজিকা! বিতর্কের ঝড়ে নায়িকার প্রশ্ন, ‘দেশের জিডিপি নিয়ে কথা নেই, আমার বক্ষবিভাজিকায় নজর কেন?’
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য জানান, এক অনুষ্ঠানে পাপারাজ্জিদের আচরণে তিনি অস্বস্তিবোধ করছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, "ওঁরা আমার মুখের দিকে ফোকাস করছিলেন না। আমি এতটাই অস্বস্তি বোধ করছিলাম তখন। আর কেউ অস্বস্তিতে থাকলে তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজও বদলে যায়। আমার মনে হয়েছিল, আমার ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হচ্ছে।"
আরও পড়ুন:
পোশাক নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে ঐশ্বর্য বলেন, লোকজন আমায় জিজ্ঞেস করছিলেন, কেন আমার আচরণ, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বদলে যাচ্ছে! ওরা আসল সমস্যাটাই বুঝতে পারেনি। আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছিল, 'ও এত অস্বস্তি বোধ করছে কেন? ও কেন নিজের নেকলাইন ঢাকছে? পোশাকটা যদি এতই অস্বস্তিকর হয়, তা হলে এমন পোশাক পরল কেন? আসলে সেদিন ক্যামেরাম্যানদের আচরণই আমাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল।'
এরপরই খ্যাতনামা দক্ষিণী নায়িকা প্রশ্ন তোলেন, 'সংস্কৃতি কি শুধু একজন মহিলার ক্লিভেজে বা তাঁর পোশাকের দৈর্ঘ্যে আটকে থাকে? আমরা কীভাবে আচরণ করি, সেটাও তো সংস্কৃতির অংশ, তাই না? একজন মহিলাকে সবসময় নিজের পোশাক, বক্ষবিভাজিকা এবং শরীর নিয়ে সচেতন থাকতে বলা হয়। কোথায় সমাজের ধ্যানধারণা নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন তোলেন না!"
মণিরত্নমের 'পন্নিয়িন সেলভান' অভিনেত্রীর কথায়, "যাঁরা মহিলাদের নিয়ে ভুলভাল মন্তব্য করেন, তাঁদের খুব বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না। কিন্তু একজন মহিলাকে সবসময় নিজের ক্লিভেজ এবং পোশাক নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে! কেন?" গোড়ায় তিনি যে ট্রোলিং নিয়ে মাথা ঘামাননি, সেকথাও জানান ঐশ্বর্য। বলেন, "প্রথম ২৪ ঘণ্টা তো আমি হেসেই গড়িয়েছি। তবে বিতর্কটা যে এতব বড় হবে, সেটা ভাবিনি।"
আরও পড়ুন:
এরপরই সমাজের ধ্যানধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ঐশ্বর্য। তাঁর কথায়, "আমরা কেন দেশের জিডিপি নিয়ে আলোচনা করি না? কত বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা পরিত্যক্ত, সেটা নিয়ে কথা হয় না কেন? আমার ক্লিভেজ নিয়ে এত আলোচনা কেন?" ঐশ্বর্য লক্ষ্মী 'মায়ানধি', 'ভারথান', 'পন্নিয়ন সেলভান' ও 'গাট্টা কুস্থি'র মতো দনপ্রিয় দক্ষিণী সিনেমায় অভিনয় করেছেন।