ভারত যেন পদক না পায়! চিনা ‘ষড়যন্ত্রে’ বিদ্ধ অ্যাথলিটরা? এশিয়াডে ‘ছড়ি ঘোরাচ্ছে’ বেজিং
চিনা অ্যাথলিটদের দক্ষতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে দিতে কি আলাদা খেলা খেলছে চিন?
এশিয়াডে বরাবরই শুটিংয়ে ভারতের দাপট থাকে। তবে এবছর শুটারদের পারফরম্যান্স সেরকম হয়নি। অলিম্পিকে জোড়া পদকজয়ী মনু ভাকের এশিয়াড থেকে ফিরেছেন খালি হাতে। এছাড়াও মহিলাদের এয়ার পিস্তল টিম, এয়ার রাইফেল মিক্সড, স্কিটের ব্যক্তিগত বিভাগ থেকে পদক আসেনি। অন্যদিকে, শুটিংয়ের একাধিক ইভেন্টে সোনাজয়ের খুব কাছে গিয়েও চিনের কাছে হেরে রুপো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকত হয়েছে ভারতকে।
আরও পড়ুন:
প্রতিযোগিতা শুরুর প্রথম দিন থেকেই অভিযোগ উঠেছে এশিয়াডের অব্যবস্থা নিয়ে। বিশেষত ভারতের শুটারদের ব্যাপক ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছে থাকার জায়গা নিয়ে। প্রাথমিকভাবে কোনও ঘর দেওয়া হয়নি ভারতীয় শুটারদের। প্রায় সারা রাত সেন্টারের লবিতে অপেক্ষার পর একটা হোটেলে ঠাঁই পান তাঁরা। কিন্তু দেখা যায়, সেখানে অন্য দলের থাকার কথা। সে সব বিপত্তি উপেক্ষা করেই প্রতিযোগিতায় নামতে হয়েছে শুটারদের।
এহেন পরিস্থিতিতেই প্রকাশ্যে এসেছে হংকংয়ের এক সংবাদমাধ্য়মের রিপোর্ট। তাদের দাবি, আয়োজক দেশের নাম জাপান। খেলাগুলোও হচ্ছে তাদেরই মাটিতে। কিন্তু এশিয়াডে আসলে ছড়ি ঘোরাচ্ছে চিন। বলা যেতে পারে, বেজিংয়ের অঙ্গুলিহেলনেই প্রতিযোগিতার একাধিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হচ্ছে। সম্প্রচার, খেলার সরঞ্জাম, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে অস্থায়ী বিদ্যুৎ পরিষেবা-প্রায় সবটাই চিনা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত।
গতবছরের এশিয়াড হয়েছিল চিনের মাটিতে। সেই পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়েই এবার জাপানে কার্যত থাবা বসিয়েছে চিনের একাধিক সংস্থা। প্রয়োজনীয় অস্থায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে 'সাংহাই ইয়ুদে এনার্জি'। এশিয়াডে পদক রয়েছে ভিডিও গেমেও। সেই পরিকাঠামো পুরোটাই চিনা সংস্থাগুলির দখলে। এছাড়াও বক্সিং, কুস্তি, জিমন্যাস্টিক্স, তায়কোন্ডো, উশু, জুজুৎসু, ক্যারাটে থেকে তিরন্দাজি—অন্তত ন'টি খেলার সমস্ত অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে চিনা সংস্থা।
আরও পড়ুন:
চিনের দাপট এতটাই যে এশিয়াডের প্রত্যেক স্টেডিয়ামের কর্মীদের পরতে হচ্ছে চিনা সংস্থার লোগো দেওয়া পোশাক। আয়োজক শহর আইচি নাগোয়ার গভর্নর হিদেয়াকি অমুরাও উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ার সময় চিনা লোগো বসানো পোশাক পরে এসেছিলেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এতখানি চিন নির্ভরতার পর কি আয়োজক হিসাবে জাপান নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে? অ্যাথলিটদের দুর্ভোগ দেখে প্রশ্ন উঠছে, স্রেফ অব্যবস্থা নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ?
ইতিমধ্যেই চলতি এশিয়াডকে 'নিকৃষ্টতম' আখ্যা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এছাড়াও একাধিক দেশ সুর চড়িয়েছে অব্যবস্থা নিয়ে। এমনকী জাপানের আমজনতা এবং মিডিয়াও আয়োজন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, জাপানের মতো উন্নত দেশে এতখানি অব্যবস্থা ঘটে কীভাবে? শুধুই খরচ কমানোর জন্য এত খারাপ আয়োজন? সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেই উঁকি দিচ্ছে এশিয়াডের সঙ্গে চিনের ওতপ্রোত যোগাযোগ।