দুর্গাষষ্ঠীতে পূজিতা হন দেবী কাত্যায়নী! ঋষি কন্যার ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ হয়ে ওঠার কাহিনি জানেন?
নবদুর্গার ষষ্ঠী তিথিতে আদিশক্তি দেবী কাত্যায়নীর আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তেরা। মহিষাসুরমর্দিনী রূপে আবির্ভূত এই চতুর্ভুজা দেবী ভক্তদের রোগ, শোক, দুঃখ ও ভয় থেকে মুক্তি দেন। কালিকা পুরাণ থেকে যোগশাস্ত্র— সর্বত্রই রয়েছে তাঁর মহিমার বর্ণনা।
আরও পড়ুন:
পুরাণ অনুযায়ী, দেবতাদের ক্রোধতেজ থেকে দেবী কাত্যায়নীর উৎপত্তি হয়েছিল। বামন, স্কন্দ এবং কালিকা পুরাণে মহিষাসুর বধের কাহিনিতে দেবীর উপস্থিতি স্পষ্ট। শাস্ত্র মতে, মহর্ষি কাত্যায়নের কন্যা হিসেবে তিনি পরিচিত। কালিকা পুরাণ অনুসারে, মহর্ষি কাত্যায়ন স্বয়ং প্রথম এই দেবীর পূজার প্রচলন করেছিলেন। তিনি হার ও মুকুটে সুশোভিত এক দিব্য রূপ।
তন্ত্রসার অনুযায়ী দেবী কাত্যায়নী দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী রূপেও পূজিতা হন। তিনি চণ্ডী বা ভদ্রকালীর মতো যুদ্ধের দেবী হিসেবেই সর্বজনবিদিত। দেবতারা তাঁদের নিজস্ব তেজ ও অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন দেবীর হাতে। মার্কণ্ডেয় পুরাণের 'দেবী মাহাত্ম্যম্' এবং দেবীভাগবত পুরাণেও দেবীর এই ভয়ংকর ও দিব্যলীলার কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে বর্ণনা করা হয়েছে।
যোগশাস্ত্র এবং তন্ত্রসাধনায় দেবী কাত্যায়নীর স্থান অত্যন্ত উচ্চে। মানবশরীরের ষষ্ঠ চক্র অর্থাৎ 'আজ্ঞা চক্র'-এর অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন কাত্যায়নী। সাধকেরা ধ্যানমগ্ন হয়ে আজ্ঞা চক্রে মনোনিবেশ করতে পারলে সহজেই দেবীর আশীর্বাদ লাভ করেন। এছাড়া তন্ত্রমতে, ভগবান শিবের উত্তর মুখ থেকে দেবী কাত্যায়নীর শুভ আবির্ভাব ঘটেছিল বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন:
মনোমতো স্বামী পাওয়ার কামনায় ভক্তেরা দেবী কাত্যায়নীর বিশেষ ব্রত পালন করে থাকেন। টানা এক মাস ধরে উপবাস থেকে এই ব্রত পালন করার বিধান রয়েছে। এই সময়ে প্রতিদিন চন্দন, ধূপ এবং দীপ জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অবিবাহিতদের দ্রুত বিবাহ এবং যোগ্য জীবনসঙ্গী লাভের জন্য দেবীর কৃপা একান্ত আবশ্যক।
নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে দেবী কাত্যায়নীর গায়ের রং উদীয়মান সূর্যের মতো রক্তিম দেখায়। এই কারণে দুর্গাষ্ঠীর দিন ভক্তদের লাল রঙের পোশাক পরা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। শাস্ত্রে দেবীকে ১৮টি হাতের দিব্য বর্ণনায় আবাহন করার বিধানও পাওয়া যায়। উজ্জ্বল মুকুট ও সর্বাঙ্গে হার পরিহিতা দেবীর এই রূপ ভক্তদের মোহিত করে।