প্রাক্তন স্ত্রীর ভাইঝিকেই ফের বিয়ে, ঠোঁটে চুমু এঁকে ব্রাজিলের হাল্ক বললেন, ‘তোমাকে ছাড়া বাঁচব না’
বিয়েতে কত খরচ হয়েছে শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।
এবার একটু অতীত খুঁড়ে দেখা যাক। সালটা ২০১৯। জুলাই মাসে জানা গেল, প্রাক্তন স্ত্রী ইরান অ্যাঞ্জেলোর সঙ্গে ১২ বছরের বৈবাহিক জীবনে দাঁড়ি টানতে চলেছেন হাল্ক। তাঁদের তিনটি সন্তানও রয়েছে। তবে সেসব 'সুখস্মৃতি'কে পাশ কাটিয়ে জীবনের নতুন রসায়ন খুঁজলেন তিনি। 'হাওয়া কি ঝোকা'র মতো তাঁর জীবনে এলেন ক্যামিলা অ্যাঞ্জেলো। পেশায় যিনি একজন চিকিৎসক। সম্পর্কে তিনি আবার প্রাক্তন স্ত্রীর ভাইঝি।
আরও পড়ুন:
হাল্কের জন্ম ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বে, ক্যাম্পিনা গ্র্যান্ডেতে। জন্মভূমির প্রতি নাড়ির টান থাকাটা স্বাভাবিক। তাই বিয়ের জন্য নিজ শহরের চেয়ে আদর্শ জায়গা আর কিই বা হতে পারে! গত শুক্রবার এখানকার শতবর্ষপ্রাচীন আওয়ার লেডি অফ দ্য কনসেপশন ক্যাথেড্রালে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দু'জনের বিয়ে আবারও যেন অন্য মাত্রা পেল। জানা গিয়েছে, ৩.২ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৯ কোটি টাকা) খরচ করে ধুমধামের সঙ্গে ক্যামিলার পাণিগ্রহণ করেছেন...
এই সম্পর্ক নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় আগেও উঠেছে, এখনও উঠছে। সেসবের থোড়াই কেয়ার! লাস্যময়ী পত্নীর সৌন্দর্যে মজে হাল্ক তাঁকে বলেন, "তুমিই আমার ভালোবাসা। ক্যাম্পিনা গ্র্যান্ডের ক্যাথেড্রালে আমার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার স্বপ্নটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। পাঁচ বছর আগে যখন আমাদের সম্পর্কের পথচলা শুরু হয়েছিল, তখনও ভাবিনি এভাবে আমাদের স্বপ্নপূরণ হবে!"
আরও পড়ুন:
এমন অনুষ্ঠানের পর ফের চর্চায় এসেছেন এই তারকা দম্পতি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁদের সামাজিক বিয়ে হয়। তবে গত বছর ৭ জানুয়ারি মহাসাড়ম্বরে হাল্ক-ক্যামিলার রিসেপশন হয়েছিল ব্রাজিলের জোয়াও পেসোয়া নামের একটি রিসর্টে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন দুই পক্ষের আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবরা। তবে বিয়ের পর ধর্মীয় অনুষ্ঠান এই প্রথম। তাঁদের জায়া এবং আয়েশা নামে দুই সন্তানও রয়েছে।
শোনা যায়, প্রথম স্ত্রী ইরানের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই তাঁর ভাইঝি ক্যামিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন হাল্ক। হাল্ক এবং ক্যামিলা প্রথম তাদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। সুজার সঙ্গে এক যুগের সম্পর্ক ভেঙে স্ত্রীর ভাইঝির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠায় প্রথম থেকেই বিস্তর চর্চা হয় সংবাদমাধ্যমে।
যদিও এই বিয়েকে অনেকেই স্বাগত জানায়নি। নেটিজেনদের এই বিয়েকে 'পারিবারিক বিশ্বাসঘাতকতার আখ্যান' বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। এমন বিয়ে মন থেকে মেনে নিতে পারেননি ইরানের বোন রেইসা অ্যাঞ্জেলাও। একে 'একধরনের প্রতারণা' বলে সোশাল মিডিয়ায় উল্লেখ করেছেন তিনি। এমনকী তাঁর মা বেঁচে থাকলে এই বিয়ে কোনও দিন মেনে নিতেন না, এ কথাও জানিয়েছেন তিনি।