পিতাহি পরমং তপঃ… বাবারা পারেননি, নকআউটে উঠে স্বপ্ন পূরণ করলেন হালান্ডরা, রূপকথা লিখবে নরওয়ে?
৩২ বছর আগে বিশ্বকাপ অধরা থেকে গিয়েছিল, এবার ছেলেদের হাত ধরে সেই স্বপ্ন পূরণ হোক- প্রার্থনা নরওয়েবাসী তিন পিতার।
একটা সময় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখতেন আলফ ইঙ্গে হালান্ড। ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপে তিনি নেমে পড়েছিলেন নরওয়ের জার্সিতে। সেবারই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা গিয়েছিল নরওয়েকে। দারুণ ছন্দে বিশ্বকাপের শুরুটাও হয়েছিল। কিন্তু ট্রফি জয়ের স্বপ্ন আর সত্যি হয়নি। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়। ফুটবল কেরিয়ারে দ্বিতীয়বার আর বিশ্বকাপে নামা হয়নি আলফের।
আরও পড়ুন:
আলফের সেই যন্ত্রণাকে সঙ্গী করেই হয়তো এবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেছেন আর্লিং হালান্ড। ৩২ বছর আগে তাঁর বাবা যে স্বপ্ন অধরা রেখে বিদায় নিয়েছিলেন বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে, সেই স্বপ্ন সত্যি করার তাগিদ নিয়ে এসেছেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটি তারকা। প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে নরওয়ে। বাবার স্বপ্নপূরণের জন্য হালান্ডকে এখনও হাঁটতে হবে অনেকটা পথ।
একা হালান্ড নন। বাবার স্বপ্নকে সত্যি করার তাগিদ মাথাচাড়া দেয় আলেকজান্ডার সরলথের মনেও। মাত্র ১২ বছর বয়সে নরওয়ের জাতীয় হ্যান্ডবল দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন। সেখান থেকে হঠাৎই ফুটবলে চলে আসা। নেপথ্যে কি বাবার স্বপ্ন? হতেও পারে। কারণ ৩২ বছর আগে তাঁর বাবাও তো ছিলেন নরওয়ের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। আজ ছেলেকে বিশ্বকাপ খেলতে দেখে গর্বে ফুলে উঠছে আলেকজান্ডারের বাবা গোরান সরলথের ছাতি।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে গোরানদের পারফরম্যান্স মোটেই খারাপ ছিল না। প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোকে ১-০ হারায় নরওয়ে। পরের ম্যাচে শক্তিশালী ইটালির বিরুদ্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কিন্তু ১-০ হারতে হয় নরওয়েকে। তৃতীয় ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র। স্রেফ গোল না করার জেরে শেষ হয়ে যায় গোরানদের বিশ্বকাপ অভিযান। নরওয়ের ফুটবল মননে আজও রয়ে গিয়েছে সেই দুঃখ।
আরও পড়ুন:
৩২ বছর অপেক্ষার পর নরওয়ে খেলছে বিশ্বকাপে। সেই দলে রয়েছে ছেলেও! সেই দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এরিক থর্স্টভেট। জানিয়েছেন, ইরাকের বিরুদ্ধে ছেলে ক্রিস্টিয়ানকে খেলতে দেখে কেঁদে ফেলেছিলেন। যদিও ফুটবল খেলার জন্য ছেলেকে কখনই চাপ দেননি। নিজের অপূর্ণ ইচ্ছার ভার ছেলের কাঁধে চাপিয়ে দেননি। ভেবেছিলেন, ইচ্ছা হলে ছেলে অবশ্যই ফুটবল খেলবে।
ফুটবল দেবতাও হয়তো সেরকমই চেয়েছিলেন। ক্রিস্টিয়ান ছোট থেকেই ফুটবল খেলতে শুরু করেন। আজ বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। যদিও ছেলের খেলা দেখতে গিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ভোগেন এরিক। বাবার মন শঙ্কায় ভোগে, যদি ছেলে কোনও ভুল করে ফেলে! তবে এখনও পর্যন্ত নরওয়ে ভালো ছন্দে রয়েছে। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন নরওয়ের প্রাক্তন গোলকিপার।
৩২ বছর আগে যা অধরা থেকে গিয়েছিল, এবার ছেলেদের হাত ধরে সেই স্বপ্ন পূরণ হোক- প্রার্থনা নরওয়েবাসী তিন পিতার। কেউ বলছেন, নিজের থেকেও বেশি পছন্দ করেন ছেলের খেলা দেখা। কেউ বা মাঠে বসে ছেলের খেলা দেখার জন্য পাড়ি দিয়েছেন মার্কিন মুলুকে। রাউন্ড অফ ৩২তে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে নামবে নরওয়ে। বাবাদের স্বপ্নপূরণে কতদূর এগোতে পারবেন হালান্ডরা?