ম্যাচের আগেই ঘাড়ধাক্কা, খাপ্পা দেশের প্রেসিডেন্ট! বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গে চাকরি গেল কোন কোচেদের?
সুতোয় ঝুলছে কাদের ভাগ্য?
গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো পদত্যাগ করেছেন। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গোটা দেশে ক্ষোভের আগুন। তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সোশাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনার পাশাপাশি গণপিটিশনও পর্যন্ত জমা পড়েছ। এমনকী কড়া মন্তব্য করেছেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট। এত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম ম্যাচে চেকিয়াকে হারিয়ে অভিযান শুরু করে। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে থেকেও নকআউটে উঠতে না পারায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। শেষ ম্যাচে অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখা, ম্যাচে আক্রমণ শক্তিশালী করার পরিবর্তে বাড়তি ডিফেন্ডার নামানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সোশাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, 'এই ফল হতাশাজনক, অবিশ্বাস্য! যখন যোগ্যতার পরিবর্তে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন এমন ফল অবশ্যম্ভাবী।” একই সঙ্গে তিনি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে গোটা ঘটনার তদন্ত করে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের নির্দেশ দেন।
হং মিউং-বোকে সরানর দাবিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদের ওয়েবসাইটে দাখিল হওয়া গণপিটিশন অল্প সময়ের মধ্যেই সমর্থন পায়। নেটভুবনে ‘হংয়ের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে জুরগেন ক্লিন্সম্যানের জায়গায় দ্বিতীয়বার জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন হং। তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। কোরিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চুং মং-গিউ বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। বিষয়টি এখনও আইনি জটিলতায়।
আরও পড়ুন:
২০১৪ বিশ্বকাপে তাঁর অধীনে দক্ষিণ কোরিয়া একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। এবারও বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ৫-০ এবং আইভরি কোস্টের কাছে ৪-০ গোলে হারের পর থেকেই তাঁকে নিয়ে মনক্ষুণ্ণ ছিলেন সমর্থকরা। তবুও তাঁর হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা আর পূরণ হল না।
এখানেই শেষ নয়। ব্রাজিলের কাছে হেরে ইস্তফা দেন স্কটল্যান্ডের কোচ স্টিভ ক্লার্ক। শনিবারই শার্লটের টিম বাসে থাকা ফুটবলারদের পদত্যাগের কথা জানিয়ে দেন। অথচ এক মাস আগেই চার বছরের চুক্তিতে সই করেছিলেন। ক্লার্কের কথায়, “২০১৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সুন্দর সব স্মৃতি জমা করেছি ফুটবলারদের জন্যই। ওরাই প্রশংসার যোগ্য। কোচ হতে পারাটা সম্মানের। সুযোগ দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। উত্তরসূরির জন্য শুভকামনা।”
সৌদি আরবের বিদায়ঘণ্টা বাজার পর গ্রিক কোচ জর্জিয়োস ডোনিসের বিদায় কার্যত পাকা। গ্রুপ পর্বে উরুগুয়ে, কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করে সৌদি আরব। স্পেনের কাছে ০-৪ ব্যবধানে হারে তারা। বিদায়ের পর দলের পারফরম্যান্স, কোচের কৌশল এবং দল নির্বাচন - সমস্ত কিছু আতশকাচের তলায়। সূত্রের খবর, সৌদি ফেডারেশন ডোনিসকে ছাঁটাইয়ের ব্যাপারে ভাবনাচিন্তা করছে। মনে করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বিদায় নিতেই জায়গা টলমল উরুগুয়ে কোচ মার্সেলো বিয়েলসার। তাঁর কোচিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ফুটবলাররা। কোচকে পরিষ্কার বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তাঁর ট্রেনিংয়ের ধরন একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না টিমের। উরুগুয়ের এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, স্পেনের বিরুদ্ধে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামার আগেই কয়েকজন ফুটবলারদের সঙ্গে বিয়েলসার অশান্তি হয়। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির প্রভাব ম্যাচেও পড়ে। স্পেনের বিরুদ্ধে হেরে বিদায় নিতে হয় উরুগুয়েকে।