চাষের মাঝেই জীবনানন্দ-আবৃত্তি! ভাইরাল ‘কবিতাওয়ালা’ আজিবরের জীবনজুড়ে শুধুই কাব্য
উচ্চ মাধ্যমিক পাশ, পেটের দায়ে চাষের কাজ, কীভাবে ভিডিও শুরু আজিবরের?
নদিয়ার করিমপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম কিশোরপুরের বাসিন্দা আজিবর মণ্ডল। অভাব নিত্যসঙ্গী। তবে তা সত্ত্বেও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন আজিবর। তবে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। শুরু করেন চাষবাস। বিয়ে মানে বিরাট দায়িত্ব। তাই বিয়ে করেননি, দাদা-বউদি ও তাঁদের সন্তানদের নিয়েই সংসার আজিবরের। তবে বরাবরই কবিতা তাঁর জীবন। যদিও কবিতা পাঠ করে যে গোটা বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়, তা ভাবতেও পারেননি আজিবর।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে আজিবর জানান কবিতার প্রতি তাঁর ভালোবাসা, প্রথম ভিডিও করার কথা। তাঁর কথাতেই স্পষ্ট, তাঁর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে কবিতা। জীবনানন্দ দাশের লেখা 'আবার আসিব ফিরে, ধানসিঁড়িটির তীরে'র প্রতিটি শব্দ তিনি অনুভব করেন। তাঁর কথায়, ‘আমরা সবাই কবিতা। মাঠ-ঘাট, নদী-পুকুর, আকাশ-বাতাস সবই কবিতা। যুদ্ধ কবিতা। শান্তি কবিতা। সবকিছুই কবিতা।’
কীভাবে প্রথম ভিডিও করলেন? আজিবর জানান, অন্যান্য দিনের মতোই এক ডিসেম্বরের শীতে মাঠে কাজ করছিলেন তিনি। কাজের মাঝেও সর্বদা ফোনে কবিতা পাঠ শোনেন তিনি। সেদিন ইচ্ছে হয়েছিল কবিতা পাঠের। যেমন ভাবা তেমন কাজ। মোবাইলে সেলফি মোড অন করে সামনে থাকা কলার কাঁদিতে সেটা রেখে দেন। এরপর নিজের মতো করে কবিতা পড়েন। তা পোস্ট করেন নিজের ফেসবুক পেজে।
আজিবুর ভাবতেও পারেননি একটা ভিডিও তাঁকে এত পরিচিতি দেবে। কিন্তু কপালে কী আছে, তা কে জানে! পরেরদিন আজিবর দেখেন প্রচুর মানুষ তাঁর সেই ভিডিও দেখেছেন। ইতিবাচক মন্তব্যে ভরে গিয়েছে কমেন্ট বক্স। তারপর থেকেই প্রায় নিয়মিতই কাজের ফাঁকে ভিডিও করা শুরু করেন তিনি। যদিও এখনও কারও সামনে ভিডিও করতে পারেন না। সলজ্জ হাসি দিয়ে আজিবর বললেন, "ক্যামেরা অন করার আগে দেখে নিই আশপাশে কেউ আছে কিনা।"
আরও পড়ুন:
আজিবরের ঘরজুড়ে এখন শুধুই কবিতার বই। যদিও সবটা পড়ার সময় হয় না, তবে পড়েন। ভালোবাসেন শুনতে। ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়কে গুরু বলে মনে করেন আজিবর। কিন্তু এত কঠিন শব্দের কবিতার মর্মার্থ বুঝে তাঁকে হৃদয়ে লালন করা কতটা সহজ? রাখঢাক না করেই আজিবর বললেন, "আমারও কঠিনই মনে হয়। সব তো বুঝি না। যা বুঝি না তা বারবার পড়ি। তারপর বুঝি।" তাঁর একটাই কথা, 'কবিতা আমার জীবন। কবিতা ছাড়া...