‘মন্ত্রোচ্চারণ করতে করতেই আমার গোপনাঙ্গে হাত’, ভণ্ড বাবার কীর্তি ফাঁস নির্যাতিতার
স্রেফ ধর্মের ভীতি ও কুসংস্কারের ভয় দেখিয়ে এই বাবারা নিজেদের লালসা চরিতার্থ করছেন। অথচ সাধারণ মানুষ বা নিপীড়িতদের তরফে ন্যূনতম প্রতিরোধ নেই।
আরও পড়ুন:
নীরু জানাচ্ছেন, তখন তাঁর বয়স বছর কুড়ি। সেসময় এক জটিল রোগে আক্রান্ত হন তিনি। বহু চিকিৎসক দেখিয়েও লাভের লাভ হয়নি। শেষে তাঁর বাবা-মা তাঁকে এক ধর্মগুরুর কাছে পাঠান। নীরু বেশ কয়েকদিন ওই বাবার আশ্রমে যান। শুরুর দিকে সবটা ঠিকই ছিল। কিন্তু কয়েকদিন আসার পর আচমকা ওই সাধুবাবা তাঁকে দূরের একটি আশ্রমে ডেকে পাঠান।
আরও পড়ুন:
এরপর একদিন ওই বাবা নীরুকে বলেন, তাঁকে চিকিৎসার জন্য রাজস্থানের এক মন্দিরে যেতে হবে। সরল বিশ্বাসে তাতেও রাজি হয়ে যান নীরু। তারপরই শুরু হয় আসল খেলা। দিল্লি থেকে আশ্রমের বাসেই রাজস্থান যাচ্ছিলেন ওই তরুণী। সঙ্গে আরও অনেক মহিলাই ছিলেন। সেসময় ওই সাধু বাবা নীরুকে বলেন, "তোমার ভেতরে অশুভ আত্মা ঢুকে গিয়েছে। আমি প্রথমে তোমার শরীরের উপরের অংশের চিকিৎসা করব। তারপর নিম্নাংশের চিকিৎসা করব।"
বাবার কথায় নীরু অসাধু ইঙ্গিতের গন্ধ পান। কিন্তু তারপর আর কিছু করার ছিল না। এরপর রাজস্থানের ওই মন্দিরে গিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় নীরুকে। এরপরের ঘটনা ওই মহিলার মুখে, 'মন্দিরের একটা ঘরে আমাদের বসানো হল। সেখানে ওই সাধুবাবা এক মহিলাকে ডাকলেন। ডেকে ইশারায় তাঁর কুর্তাটা তুলে দিতে বললেন। তারপর ওই মহিলার স্তন চেপে ধরে মন্ত্র বলা শুরু করলেন।'
ওই দৃশ্য দেখে ভয়ে কাঁটা হয়ে যান তরুণী। তিনি বুঝতে পারেন, ওই মহিলা এভাবেই 'চিকিৎসা' নিতে অভ্যস্ত। নীরু বুঝতে পারেন, এরপরই তাঁর পালা। তড়িঘড়ি অসুস্থতার ভান করে ওই ঘর থেকে বেরিয়ে যান তিনি। কোনওক্রমে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে সবকিছু বললেও তাঁরা কোনও প্রতিক্রিয়া দেখাননি। তাতে আরও হতবাক হন নীরু। তিনি বলছেন, "আমি চমকে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল বাবা-মা আমার জন্য কিছুই করছে না।"
দীপিকার কথায়, "ওই বাবা আচমকা আমার গোপনাঙ্গে হাত দিলেন। তারপর সারা শরীর স্পর্শ করলেন। আমি নিথর হয়ে গিয়েছিলাম।" বেরিয়ে এসে ওই মহিলা তাঁর বাবাকে বলে দেন, আমি সুস্থ হয়ে গিয়েছি। স্রেফ ওই বাবার কাছে আবার যেতে হবে এই আশঙ্কায়। তিনি ভাবতেও পারেননি বাবাকে বাইরে বসিয়ে রেখে কোনও মহিলার এভাবে শ্লীলতাহানি করতে পারেন কেউ।
আসলে এই ঘটনাগুলি মোটেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই ধরনের হাজার হাজার ঘটনা বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরছে। স্রেফ ধর্মের ভীতি ও কুসংস্কারের ভয় দেখিয়ে এই বাবারা নিজেদের লালসা চরিতার্থ করছেন। অথচ সাধারণ মানুষ বা নিপীড়িতদের তরফে ন্যূনতম প্রতিরোধ নেই। এই কুসংস্কারের অন্ধকার থেকে বেরোতে না পারলে এই বাবাদের বাড়বাড়ন্ত রুখে দেওয়া যাবে না।