সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে ভেবেছেন নির্মাতারা, সাহসী এই ছবিগুলি দেখেছেন তো?
দেখে নিন তালিকায় রয়েছে কোন কোন ছবি।
বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের 'চারুলতা' দিয়েই বোধহয় সাহসী ছবি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প 'নষ্টনীড়' অবলম্বনে ছবিটি তৈরি। চারুলতার স্বামী ব্যস্ত। তাঁর নিঃসঙ্গতা কাটাতে বাড়িতে আসেন স্বামীর ভাই অমল। সাহিত্য অনুরাগী অমলের সঙ্গে চারুলতার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। যা পরে জটিল মানসিক দ্বন্দ্বের রূপ নেয়। এই ছবিতে মাধবী মুখোপাধ্যায়ের একটি দৃশ্যের ছবি ব্যাপক জনপ্রিয়।
আরও পড়ুন:
১৯৭০ সালে তৈরি সত্যজিৎ রায়ের 'প্রতিদ্বন্দ্বী' ছবিটিও নিঃসন্দেহে সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে থাকা একটি ছবি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিটি। শিক্ষিত যুবকের বেকারত্ব, নকশাল আন্দোলন, পারিবারিক টানাপোড়েনের উপর তৈরি এই ছবিটি এককথায় অসামান্য। চাইলে ইউটিউবে এই ছবিটি একবার দেখে ফেলতেই পারেন।
আদ্যোপান্ত পারিবারিক ছবি 'মাসুম'। নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি অভিনীত এই ছবিটি সেই সময় ঝড় তোলে। নাসিরুদ্দিন ও শাবানা দম্পতি। দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁদের সংসার। হঠাৎই জানতে পারেন প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের সময় এক সন্তান ছিল। তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে সংঘাত। এই টানাপোড়েনেই তৈরি 'মাসুম'। ছবির গল্প যেমন টানটান। তেমনই আর ডি বর্মনের গান মন কাড়ে সকলের।
আটের দশকের কালজয়ী হিন্দি ছবি 'পার্টি'। গোবিন্দ নিহালানি পরিচালিত ছবিটি মারাঠি নাটক 'পার্টি' থেকে তৈরি। মুম্বইয়ের উচ্চবিত্ত ও শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী সমাজের ভণ্ডামি ও নৈতিক অবক্ষয়কে ব্যঙ্গ করে এগিয়েছে ছবির চিত্রনাট্য। এক উচ্চবিত্ত মহিলা নাট্যকারের রাষ্ট্রীয় সাহিত্যিক পুরস্কার প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে পার্টির আয়োজন করেন। মদ্যপানের মাঝে একে একে পার্টিতে উপস্থিত সকলের মুখোশ খোলে। অনুপস্থিত একমাত্র আদিবাসীদের নিয়ে লড়াই করা এক ব্যক্তি। বিজয়া মেহতা, ওম পুরী, নাসিরুদ্দিন...
আরও পড়ুন:
তিন রুমমেট ভুল করে একটি অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়়ে। তারপর কী হল তাঁদের? এই নিয়ে তৈরি ছবি 'দিল্লি বেলি'। ইমরান খান, বীর দাস, কুণাল রায় কাপুর অভিনীত এই ছবি নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। প্রযোজনায় আমির খান। ছবির 'ভাগ ডিকে বোস' গান নিয়েও চর্চা কম হয়নি। চাইলে আপনিও এই ছবিটি একবার দেখে নিতেই পারেন। বাড়ি বসে নেটফ্লিক্স কিংবা আমাজন প্রাইমে দেখে নিন ছবিটি।
কুন্দন শাহ পরিচালিত 'জানে ভি দো ইয়ারো' ছবিটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ব্ল্যাক কমেডি। দুই চিত্রগ্রাহক পত্রিকার সম্পাদকের হয়ে শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে অজান্তে খুনের ছবি তুলে ফেলেন। দুর্নীতির জালের ভিতরে ঢুকে হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। তা নিয়েই এগোতে থাকে ছবিটি। নাসিরুদ্দিন শাহ অভিনীত এই ছবিটির প্রযোজনায় ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। ইউটিউব এবং আমাজন প্রাইম, জিও হটস্টার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবিটি দেখতে...
আনন্দ গান্ধী ও সোহম শাহ পরিচালিত ও প্রযোজিত ছবি 'শিপ অফ থেসাস'। গ্রিক দার্শনিক প্লুটার্কের 'শিপ অফ থেসাস' প্যারাডক্সের উপর ভিত্তি করে তৈরি ছবি। একজন দৃষ্টিশক্তিহীন ফটোগ্রাফার, একজন অসুস্থ সন্ন্যাসী এবং একজন স্টকব্রোকারের জীবনী নিয়ে এগোয় গল্প। ২০১৩ সালে এই ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। এই ছবিটি আপনিও চাইলে একবার দেখে নিতেই পারেন।