প্রশ্ন বহু, সুযোগও! আইপিএলে কেমন হবে ‘আনফিট’ নাইটদের প্রথম একাদশ, একনজরে শক্তি-দুর্বলতা
নিলামের পর কেকেআরকে দেখে সত্যিই শক্তিশালী মনে হচ্ছিল। কিন্তু নিলামের পর থেকে টুর্নামেন্ট শুরু পর্যন্ত চোট ও অন্যান্য সমস্যায় নাইটরা প্রচুর শক্তিক্ষয় করে ফেলেছে।
আইপিএলের তৃতীয় সফলতম ফ্র্যাঞ্চাইজি। তিন বারের চ্যাম্পিয়ন। ৪ বারের ফাইনালিস্ট। সাফল্যের নিরিখে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের পরই কেকেআর। কেকেআরের এই সাফল্যের মূলমন্ত্র দলের ধারাবাহিকতা, তরুণ ক্রিকেটারদের উপর আস্থা। কিন্তু গত দু'বছর কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি নাইটরা। এ বছর নিলামে দলের পেস বিভাগকে শক্তিশালী করার যথেষ্ট চেষ্টা করেছিল নাইটরা। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে আঘাত হানে চোট-আঘাত। যার ফলে অনেকটাই দুর্বল হয়েছে নাইটরা।
আরও পড়ুন:
স্কোয়াড: আজিঙ্ক রাহানে, সুনীল নারিন, রিংকু সিং, অঙ্গকৃষ রঘুবংশী, মণীশ পাণ্ডে, বরুণ চক্রবর্তী, রমনদীপ সিং, অনুকুল রায়, রভম্যান পাওয়েল, বৈভব অরোরা, উমরান মালিক, ক্যামেরন গ্রিন, মাথিশা পাথিরানা, তেজস্বী সিং, ফিন অ্যালেন, রাহুল ত্রিপাঠী, দক্ষ কামরা, সার্থক রঞ্জন, প্রশান্ত সোলাঙ্কি, রাচীন রবীন্দ্র, সৌরভ দুবে, ব্লেসিং মুজারাবানি, নবদীপ সাইনি।
শক্তি ১: ব্যাটিং এবারের নাইটদের সবচেয়ে বড় শক্তি। এমনিতেই অজিঙ্কে রাহানে, রিঙ্কু সিং, রমণদীপ সিং, অঙ্গকৃষ রঘুবংশীদের মতো ভারতীয় ব্যাটার রয়েছেন। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফিন অ্যালেন, ক্যামেরন গ্রিন, টিম সাইফার্ট, রভম্যান পাওয়েলদের 'ফায়ার পাওয়ার' যুক্ত হয়েছে। ফলে খাতায়কলমে কেকেআর ব্যাটিং টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা।
আরও পড়ুন:
শক্তি ৩: শক্তিশালী ব্যাকরুম স্টাফ নাইটদের অন্যতম শক্তি। শেন ওয়াটসন, ডুয়েন ব্র্যাভো, আন্দ্রে রাসেল, টিম সাউদি-কে নেই নাইটদের থিংট্যাঙ্কে। এর মধ্যে রাসেলকে নিয়োগ করা হয়েছে স্রেফ ক্রিকেটারদের ছক্কা হাঁকানো শেখাতে। আর শেন ওয়াটসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যামেরন গ্রিনের মধ্যে থেকে সেরাটা বের করে আনতে। আর একজনের কথা বলা হয়নি, অভিষেক নায়ার। নাইটদের হেডকোচ। প্রত্যেক ভারতীয় তারকার সঙ্গে দুর্দান্ত সম্পর্ক তাঁর। অনেকেই তাঁকে নিজেদের অভিভাবক মনে...
দুর্বলতা ১: কেকেআরের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা পেস বোলিং। মুস্তাফিজুর রহমান নেই, হর্ষিত রানা নেই, আকাশদীপ নেই, পাথিরানা কবে আসবেন কারও জানা নেই। অতএব কেকেআরের পেস বোলিং এখন নির্ভর করছে বৈভব অরোরা, কার্তিক ত্যাগী, সৌরভ দুবেদের উপর। বিদেশিদের মধ্যে ব্লেসিং মুজারাবানির নাম আছে বটে। কিন্তু নাইটদের এই বোলিং বিভাগ দেখে আর যা-ই হোক, সম্মান জাগে না।
দুর্বলতা ২: নাইটদের একটি বড় সমস্যা হল ব্যাটিং বিভাগে অন্তত ৬ জন ওপেনার রয়েছেন, তুলনায় মিডল অর্ডার ব্যাটার কম, ফলে প্রথম একাদশ সাজাতে রীতিমতো চুল ছিঁড়তে হবে কেকেআরকে। তাছাড়া অজিঙ্ক রাহানে, অঙ্গকৃষ রঘুবংশীদের স্ট্রাইক রেট পাওয়ার প্লে-র পর অনেকটাই কমে যায়। আর একটা বড় সমস্যা হল মাঝের ওভারগুলিতে স্পিনের বিরুদ্ধে খুব একটা সাচ্ছন্দ্য নয় নাইট ব্যাটিং। সেটাও ভোগাতে পারে।
দুর্বলতা ৩: আন্দ্রে রাসেলের অনুপস্থিতি এবারও ভোগাবে নাইটদের। রাসেল যেমন ব্যাট হাতে ম্যাচ ফিনিশ করতে পারেন, তেমনি বল হাতেও ডেথ ওভারে কাজটা চালিয়ে দিতে পারতেন। তাঁর অবসরে একটা বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ক্যামেরন গ্রিনকে রাসেলের বদলি হিসাবে নাইটরা কিনলেও তিনি কতটা রাসেলের ক্যারিশমার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারবেন তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শুধু তাই নয়, সুনীল নারিনের বয়স এবং বরুণ চক্রবর্তীর ফর্মও সমস্যা নাইটদের।
সম্ভাবনা: নিলামের পর কেকেআরকে দেখে সত্যিই শক্তিশালী মনে হচ্ছিল। কিন্তু নিলামের পর থেকে টুর্নামেন্ট শুরু পর্যন্ত চোট ও অন্যান্য সমস্যায় নাইটরা প্রচুর শক্তিক্ষয় করে ফেলেছে। এতটাই যে এই মরশুমে কেকেআর বিরাট কিছু করবে, তেমন ভাবনা হয়তো অন্ধ নাইট ভক্তরাও ভাবছেন না। শেষ পর্যন্ত নাইটরা নক আউটে গেলে সেটা মিরাক্যাল হবে। অবশ্য নাইটরা অতীতেও একাধিকবার মিরাক্যাল ঘটিয়েছে।