ধর্মে মিলে যায় ভারত-ইরান, ‘ইসলামিক’ দেশের বিশ্বাসেও লুকিয়ে হিন্দু দেবতারা!
ভাষা, লোককথা, ইতিহাস খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় ভারত এবং ইরান কার্যত ভাই-ভাই।
আরও পড়ুন:
খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ শতকের শেষদিকে পারস্যে জন্ম হয় জরথ্রুষ্টের। তাঁর প্রচারিত জরথ্রুষ্টীয় ধর্মের প্রধান ঈশ্বর ছিলেন আহুর মাজদা। উচ্চারণগত দিক থেকে জরথ্রুষ্টীয় 'আহুর' এবং বেদে বর্ণিত 'অসুর' খুবই কাছাকাছি। বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, একটা সময়ে আহুর এবং অসুর দেবতার মর্যাদা পেতেন। পরবর্তীকালে 'অসুর' দেবত্ব হারিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
জরথ্রুষ্টীয় ধর্ম বিশেষজ্ঞ মারিয়ানো এরিচেলোর কথায়, জরথ্রুষ্টীয় জেন্দ আবেস্তায় রয়েছে 'হাপ্তা হেন্দু'র উল্লেখ, যেটাকে সপ্তসিন্ধু অঞ্চল বলা যেতেই পারে। পার্সিয়ান এবং সংস্কৃত দুই ভাষাতেও রয়েছে প্রচুর সাদৃশ্য। এমনকী ঋকবেদ এবং জরথ্রুষ্টীয় গাথার ছন্দেও রয়েছে মিল। ঋকবেদের সাহায্যেই জরথ্রুষ্টীয় ধর্মগ্রন্থগুলির পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
প্রাচীন পারস্য এবং ভারতের ধর্ম বিশ্বাসে সবচেয়ে বড় মিল-অগ্নি। সীতার অগ্নিপরীক্ষা হোক বা পুজোর যজ্ঞ-সবেতেই আগুনের গুরুত্ব রয়েছে ভারতের হিন্দু সমাজে। অন্যদিকে, অগ্নিকে আলো এবং জ্ঞানের প্রতীক হিসাবে উপাসনা করে জরথ্রুষ্টীয়রা। এখনও সেই বিশ্বাস বেঁচে রয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা 'ফায়ার টেম্পলে'র মাধ্যমে।