‘রাজনীতিমুক্ত’ ক্রীড়াজগতের সাফল্যের কারিগর রাজনীতিই! কেন্দ্রের দাবির সঙ্গে মিলছে পরিসংখ্যান?
‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য বলেন, সরকারের ক্রীড়ানীতির কারণেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারত আগের তুলনায় ভালো ফল করছে।
২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ১১৭ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে ভারত জিতেছিল মাত্র দু’টি পদক জিতে ৬৭ নম্বরে শেষ করেছিল। টোকিও অলিম্পিকে সাতটি পদক জিতে ভারত ৪৮ নম্বরে উঠে এলেও, ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ছ’টি পদক জয়ের সাফল্যের তুলনায় সেই উন্নতি খুব বেশি নয়। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকে আবার ছ’টি পদক নিয়েই ভারত নেমে যায় ৭১তম স্থানে।
আরও পড়ুন:
কমনওয়েলথ গেমসের দিকে লক্ষ্য করুন। ২০১০ সালের দিল্লিতে ভারত জিতেছিল ১০১ পদক। ২০১৪-তে ৬৪, ২০১৮-তে ৬৬, ২০২২-এ ৬১ এবং গ্লাসগো আসরে এসেছে ৩৯ পদক। তবে এই প্রতিযোগিতায় আমেরিকা, চিন, জার্মানির মতো বিশ্বের বড় শক্তিশালী দল অংশ নেয় না। ফলে প্রতিযোগিতার মান অলিম্পিকের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে শুটিং, ব্যাডমিন্টন, কুস্তি, হকি এবং টেবিল টেনিসের মতো খেলা বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ক্রীড়াক্ষেত্রে বিনিয়োগের হিসাবেও উঠে এসেছে উদ্বেগের ছবি। সংসদে ক্রীড়ামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে (এনএসডিএফ) কেন্দ্রের অনুদান ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৪৬ কোটি টাকা থেকে ২০২৪-২৫-এ ১৩ কোটি এবং ২০২৫-২৬-এ কমে ১০.৫৮ কোটিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ তিন বছরে সরকারি অনুদান প্রায় ৭৭ শতাংশ কমেছে।
২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এনএসডিএফের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, কমনওয়েলথ গেমসের জন্য রাখা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে চলতি আসরে ভারতের ৩৯টি পদক ধরলে, প্রতি পদকের পিছনে সরকারি বরাদ্দের অঙ্ক দাঁড়ায় আনুমানিক ১.২৮ কোটি টাকা। যদিও ক্রীড়াক্ষেত্রে ব্যয়ের সামগ্রিক হিসাব কেবল এই ফান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
আরও পড়ুন:
অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিকের প্রতিশ্রুতিবান ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (টপস)-এর ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে সীমিত। প্যারিস অলিম্পিক সার্কেলে এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ১৪.৬৬ কোটি টাকা। লস অ্যাঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিক চক্রে এখনও পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৮.৬৬ কোটি। জাপানের মতো দেশ প্রতি বছর খেলাধুলার উন্নয়নে কয়েকশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। প্যারিস অলিম্পিকে জাপান জিতেছে ৪৫টি পদক, যার মধ্যে ২০টি সোনা।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলির জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা। দেশে স্বীকৃত ৫৬টি ক্রীড়া ফেডারেশনের অনেকগুলির নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এর মধ্যে অন্যতম উদাহরণ কুস্তি ফেডারেশন। যার প্রাক্তন প্রধান ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংহ। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ক্রীড়াবিদদের সরাসরি সহায়তার বদলে প্রশাসনিক কাঠামোতেই কি বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে?