কোটি কোটি টাকার মালিক ক্যাটরিনা, মায়ের ঠিকানা কেন বিদ্যুৎহীন প্রত্যন্ত গ্রাম?
ক্যাটরিনার লড়াকু মায়ের জীবনের গল্প জানেন?
বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি নিয়ে সুখী ঘরকন্না ক্যাটরিনা। কিন্তু মায়ের ঠিকানা প্রায় বিদ্যুৎহীন এক প্রত্যন্ত গ্রাম! বাবার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ক্যাটরিনা ও বোনকে একাই বড় করেছেন। 'সিঙ্গল মাদার' হিসেবে জার্নিটা মোটেই খুব একটা সহজ ছিল না। আড বলিউডের সফল নায়িকা ক্যাটরিনা মায়ের দিকে ফিরেও তাকান না? মায়ের দুঃখ কষ্ট বোঝেন না?
আরও পড়ুন:
না, একদমই তা নয়। গ্ল্যামার, খ্যাতি ও আন্তর্জাতিক সাফল্যে ভরা জীবনযাপন করছেন ঠিকই কিন্তু, তার মানে এটা নয় মায়ের খেয়াল রাখেন না। আসলে ক্যাটরিনার মা স্বইচ্ছায় এই জীবনটা বেছে নিয়েছেন। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে তামিলনাড়ুর গ্রামীণ এলাকায় চলে আসেন। সেখানেই প্রায় দুই দশক ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। নিজের একটা আলাদা জগৎ তৈরি করেছন। আর সেই দুনিয়াতেই তাঁর স্বর্গসুখ।
বিলাসবহুল জীবনযাপন থেকে দূরে থেকে মাদুরাইয়ের কাছে 'রিলিফ প্রজেক্টস ইন্ডিয়া' এবং 'মাউন্টেন ভিউ স্কুল' পরিচালনা করেন। এই স্কুলে ৩০০-রও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেখানের জীবনযাপন মোটেও সহজ নয়। প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় বারো ঘণ্টা মতো বিদ্যুৎ থাকে না। তবুও এই জীবনযাত্রাকেই বেছে নিয়েছেন সুজান।
মায়ের প্রসঙ্গে ক্যাটরিনা সাম্প্রতিক অতীতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, "আমার মা মাদুরাইয়ে থাকেন। সেখানে তিনি শিশুদের জন্য একটি স্কুল শুরু করেছেন। তিনি একজন শিক্ষিকা। সেখানে পড়ান এবং এই জীবনটায় সুখী। কাজের প্রতি একাগ্রতা ও আশীর্বাদের কারণেই আমি আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি। ওখানের জীবন সত্যিই খুবই কঠিন। ইন্টারনেটও থাকে না। সাধারণ ফোনে কথা বলতে হয়।"
আরও পড়ুন:
এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ক্যাটরিনাও নিয়মিত তাঁর সিনেমা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয় থেকে ফাউন্ডেশনে অর্থ দান করেন। বর্তমানে এই উদ্যোগ প্রায় ২৫টি গ্রামে কাজ করছে এবং স্বাস্থ্যসেবা, প্রশিক্ষণ ও ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। মায়ের দৃঢ়তা ও আত্মনিবেদনের প্রশংসা করে ক্যাটরিনা স্বীকার করেছিলেন মা যে জীবনটা বেছে নিয়েছেন আমি সেটা পারতাম কিনা জানি না।"