ইতিহাস সাক্ষী, বারবার ঘুরে দাঁড়াতে জানে ইস্টবেঙ্গল! ক্লাবের গরিমা ফিরিয়ে গর্বিত অস্কার-ইউসেফরা
অগণিত সমর্থকদেরই যেন বারবার কুর্নিশ জানালেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার থেকে কোচেরা।
এই জয় আজ সেই আট থেকে আশির, যাঁরা প্রবল হতাশা ও ব্যর্থতাতেও লাল-হলুদ জার্সিটা গা থেকে নামিয়ে রাখেনি। আজ সেই অগণিত সমর্থকদেরই যেন বারবার কুর্নিশ জানালেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলার থেকে কোচেরা। জয়ের পর মাঠের পরিবেশ দেখে উচ্ছ্বসিত দলের জয়সূচক গোল করা রশিদ। বলেন, "দারুণ পরিবেশ। সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। সবকিছুই আজ ওদের জন্যই।"
আরও পড়ুন:
পদ্মাপাড়ের ট্রফিজয়ের স্বপ্ন পূরণ করার জাদুকর অস্কার ব্রজো এদিন আবেগে ভাসলেন। লাল-হলুদের ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে কোচ বলেন, "ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিলাম। তবে কঠিন সময়ে জয়ের মানসিকতা, দৃঢ়তা আর প্রতিরোধের মধ্যে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ইস্টবেঙ্গলের তো এটাই ইতিহাস। বারবার ঘুরে দাঁড়াতে জানে তারা। এটাই ইস্টবেঙ্গলের ঐতিহ্য। আজ আবারও ইতিহাস তৈরি করলাম আমরা।"
উচ্ছ্বাস প্রকাশের ভাষা হারিয়েছেন মহেশ সিং নাওরেম। সতীর্থ, সমর্থকদের সঙ্গে সেলিব্রেশনের মাঝেই বলেন, "অনেক বছরের পরিশ্রমের পর এই জয়। আগামী বছরও ভালো খেলার চেষ্টা করব।" বহু ঝড়ঝাপ্টা পেরিয়ে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন আনোয়ার আলি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে চোখের কোণ যেন চিকচিক করছে তাঁর। বলে দিচ্ছেন, "জীবনে এমন মুহূর্তের সাক্ষী হইনি। ইস্টবেঙ্গল আমার পরিবার। এই দলের হয়ে খেলতে পারায় আমি গর্বিত।"
আরও পড়ুন:
লাল-হলুদ তারকা বলে দিচ্ছেন, "ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা এতদিন অপেক্ষা করেছিল। অনেক লাঞ্ছনা সহ্য করেছে ইস্টবেঙ্গল। যেগুলো হয়তো প্রাপ্যও ছিল না। তবে এই জয় সমর্থকদেরই। আমরা শুধু নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি যে আমরা এই ট্রফি ক্লাবকে এনে দিতে সাহায্য করতে পেরেছি। আশা করছি আগামীতেও ইস্টবেঙ্গল নিজের গরিমা ধরে রাখবে।"
কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ফুটবলারদের হাতে ট্রফি তুলে দেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। উপস্থিত ছিলেন আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। স্টেডিয়াম থেকে ট্রফি পৌঁছে যাবে ক্লাবে। শুক্রবার বিকেলে সকলের জন্য খুলে দেওয়া হবে লাল-হলুদ গেট। সমর্থকদের সঙ্গে মশাল জ্বালিয়ে সেলিব্রেট করার জন্য হাজির হবেন ফুটবলার-কোচ-সহ গোটা ক্লাব।