জশ হ্যাজেলউড। এককথায় তাঁকে বলা যেতে পারে অজি পরশপাথর। আজ পর্যন্ত যতবার ফাইনাল খেলেছেন, কোনওদিন হারেনি তাঁর দল। সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ণ থাকল আইপিএল ফাইনালেও।
২১০
২০১০ সালে প্রথমবার ফাইনাল খেলতে নামেন অজি পেসার। খেতাবি যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩০ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন, সঙ্গে জেতেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ।
২০১২ চ্যাম্পিয়ন্স টি-২০ ফাইনালে খেলেন সিডনি সিক্সার্সের জার্সিতে। লায়ন্সের বিরুদ্ধে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন।
৪১০
২০১৪ সালের শেফিল্ড শিল্ড ফাইনালে নিউ সাউথ ওয়েলসের হয়ে খেলতে নামেন। ৬ উইকেট তুলে নেন ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। ম্যাচ ড্র হলেও বেশি পয়েন্ট থাকার সুবাদে চ্যাম্পিয়ন হেজেলউডের দল।
৫১০
২০১৫ বিশ্বকাপ ফাইনালে উইকেট পাননি। তা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে প্রথমবার সিনিয়র বিশ্বকাপের স্বাদ পান জশ হ্যাজেলউড।
২০১৯-২০২০ সালের বিগ ব্যাশ ফাইনালেও সিডনি সিক্সার্সের জার্সিতে খেলতে নেমেছিলেন। মেলবোর্ন স্টার্সের বিরুদ্ধে তিন উইকেট তুলে নিয়ে ফের বিগ ব্যাশ জেতেন।
৭১০
২০২১ আইপিএলে খেলেছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে। ফাইনালে কেকেআরের বিরুদ্ধে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন করেন ধোনির চেন্নাইকে।
৮১০
২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন উইকেট তুলে নেন। প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পেয়েছিলেন।
৯১০
২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামেন ভারতের বিরুদ্ধে। জোড়া উইকেট তুলে নেন। রবীন্দ্র জাদেজা এবং সূর্যকুমার যাদবের উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের রান তোলার গতি আটকে দেন।
১০১০
২০২৫ আইপিএল ফাইনালে খেলেন আরসিবি জার্সিতে। একটি উইকেট পেলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেই ফাইনালের মঞ্চকে বিদায় জানিয়েছেন।
আকর্ষক প্রতিভা: বৈভব সূর্যবংশী: রাজস্থান রয়্যালসের চোদ্দ বছরের 'বালক বীর' তর্কাতীত ভাবে এবারের আইপিএলের শ্রেষ্ঠ উদীয়মান তারকা ব্যাটার। যিনি প্রথম আইপিএলেই ধুন্ধুমার ফেলে দিয়েছেন। মাত্র চোদ্দো বছরে তাঁর শটের পাওয়ার, অনুতোভয় মানসিকতা তাক লাগিয়ে নিয়েছে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের। আইপিএল অভিষেকে প্রথম বলটাই মাঠের বাইরে ফেলে শুরু করেন। বৈভব। পরবর্তীতে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করে যান। রাজস্থানের হয়ে সমস্ত ম্যাচ খেলেননি বৈভব। সাতটা ম্যাচ...
২১১
প্রিয়াংশ আর্য: দিল্লি প্রিমিয়ার লিগ থেকে উঠে আসা এই বিস্ফোরক তরুণ ওপেনার নজর কেড়েছেন অষ্টাদশ আইপিএলে। অসম্ভব স্টাইলিশ এই বাঁহাতি ওপেনার বলকে যেমন সজোরে হিট করতে পারেন, তেমনই দারুণ প্লেসও করতে পারেন। ফাইনালের আগে পর্যন্ত ১৭ ম্যাচে তাঁর রান ৪৫১। সেঞ্চুরি একটা। স্ট্রাইক রেট ১৮৩।
দিগ্বেশ রাঠি: লখনউ সুপার জায়ান্টসের লেগস্পিনার প্রথমবার আইপিএল খেলতে এসে যত না বেশি বেলিংয়ে মাতিয়েছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি নজর কেড়েছেন উইকেট পাওয়ার পর তাঁর উৎসব ভঙ্গিমায়। দিগ্বেশের 'নোটবুক সেলিব্রেশন' চর্চার বিষয় হয়ে গিয়েছিল এবার। তবে আচরণের কারণে বিতর্কেও জড়িয়েছেন তিনি।
৪১১
দুই মেগা বিতর্ক: ইডেন থেকে তার প্রাপ্য দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও আইপিএল ফাইনাল ভারতীয় বোর্ডের সরিয়ে নেওয়া! বৃষ্টির কারণ দেখিয়ে যা হয়েছে আমেদাবাদে। অথচ গত ১ জুন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের দিন কলকাতায় বৃষ্টিই হয়নি। বরং আমেদাবাদে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়।
৫১১
রিটায়ার্ড আউট। এবারের আইপিএলে একাধিক টিমকে দেখা গিয়েছে ছন্দে না থাকা ব্যাটারদের রিটায়ার্ড আউট করিয়ে দিতে। যেমন চেন্নাই সুপার কিংস রিটায়ার্ড আউট করিয়ে দেয় ডেভন কনওয়েকে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স আবার একটা ম্যাচে তিলক বর্মাকে রিটায়ার্ড আউট করিয়ে দেয়।
সুপারহিট দুই: শ্রেয়স আইয়ার: ব্যাটিং হোক বা অধিনায়কত্ব, সব বিভাগেই মুগ্ধ করেছেন পাঞ্জাব কিংস অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। চোদ্দো বছর পর শ্রেয়াসেরই নেতৃত্বে আইপিএল ফাইনালে উঠেছিল পাঞ্জাব। যাকে পাঞ্জাব কিংস সংসারে ডাকাই হচ্ছে 'সরপঞ্চ' নামে।
৮১১
অভূতপূর্ব মুহূর্ত: ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার কারণে আইপিএলের মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া। দশ দিন স্থগিত থাকার পর আবার শুরু হয় টুর্নামেন্ট। সীমান্তে সংঘর্ষ বিরতির পরে। অতীতে কোভিডের কারণে আইপিএল মাঝপথে বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্ট স্থগিত হল এবারই প্রথম।
৯১১
সেরা বিনোদন: রোবট সারমেয় 'চম্পক'। যত্র-তত্র-সর্বত্র যার বিচরণ তাকে প্লেয়ারদের মতোই তারকা করে দিয়েছে।
১০১১
সুপারফ্লপ দুই: ভেঙ্কটেশ আইয়ার: গত নিলাম থেকে বিশাল ২৩.৭৫ কোটি টাকায় ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে কিনেছিল কেকেআর। কিন্তু সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন তিনি। ১১-টা ম্যাচ খেলে মাত্র ১৪২ রান করেন ভেঙ্কটেশ। শেষ দিকে বাদও পড়ে যান।
১১১১
ঋষভ পন্থ: গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক সেঞ্চুরি করেন বটে, কিন্তু তাতে লাভ কিছুই হয়নি। শেষ ম্যাচের আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল লখনউয়ের। নিলাম থেকে ২৭ কোটি টাকা দিয়ে ঋষভকে কিনেছিল লখনউ। কিন্তু ১৪ ম্যাচ খেলে মাত্র ২৬৯ রান করেন তিনি।
১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে চ্যাম্পিয়নের খেতাব পেল সাবালক আরসিবি। আহমেদাবাদের মেগা ফাইনালে পাঞ্জাব কিংসকে ৬ রানে হারিয়ে দিয়ে প্রথমবারের মতো আইপিএল জয়ের স্বাদ পেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
২৯
১৭ বছরের জমানো আক্ষেপ এদিন অশ্রুধারার হয়ে বয়ে গেল বিরাটের চোখ দিয়ে। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর চোখের জল আর ধরে রাখতে পারেননি কিং। পারবেনই বা কী করে। এতগুলো বছর নিজের সর্বস্ব দিয়েও যা পাননি, সেই মহার্ঘ্য ট্রফি হাতে আসার আনন্দে অশ্রু ধারা বয়ে যাওয়ার স্বাভাবিক।
দীর্ঘ ব্যর্থতার সময় স্তম্ভের মতো বিরাটের পাশে থেকেছেন স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা। ট্রফিজয়ের দিনে তাই স্ত্রীর বাহুডোরে যে তিনি ধরা দেবেন, সেটা জানাই ছিল। ভরা স্টেডিয়ামেই বিরাটকে জড়িয়ে ধরে তাঁর চোখের জল মোছালেন অনুষ্কা।
৪৯
এই সাফল্য অবশ্য একা এই আরসিবি দলের নয়। এতদিন ধরে যারা আরসিবির অস্থিমজ্জায় জুড়ে রয়েছেন সেই এবি ডি'ভিলিয়র্স, ক্রিস গেইলরা। ইউনিভার্স বসও এদিন হাজির ছিলেন আহমেদাবাদে। প্রিয় দল জিততেই ভাংড়ায় মাতলেন তিনি।
৫৯
ট্রফি জেতার আনন্দে বিরাটের মতো চোখ ভিজে এসেছিল এবি ডিভিলিয়র্সেরও। এবিকে আলিঙ্গন করে সেই অশ্রু ভুলিয়ে আনন্দে মাতলেন বিরাট।
সুদূর ইংল্যান্ড থেকে খেলা দেখতে এসেছিলেন আরসিবির সুপার ফ্যান ঋষি সুনাকও। গোটা ম্যাচ বিরাটদের জন্য 'চিয়ার' করে গেলেন তিনি।
৭৯
ক্রুণাল পাণ্ডিয়া। ফাইনালে ম্যাচের সেরা। এর আগেও ৩ বার মুম্বইয়ের হয়ে আইপিএল জিতেছেন। তবে এবারেরটা স্পেশাল। ফাইনালের ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার সেলিব্রেট করলেন সন্তানদের সঙ্গে।
৮৯
আরসিবির দুই অধিনায়ক রজত পাতিদার এবং তাঁর অসুস্থতার সময় দায়িত্বে থাকা জিতেশ শর্মা। দুজনেই আলাদা কৃতিত্বের দাবি রাখেন। ফাইনালের পর একত্রে সেলিব্রেট করলেন তাঁরাও।
৯৯
ট্রফি জেতার মুহূর্তে। যে মুহূর্তের জন্য ১৭ বছর ধরে অপেক্ষায় আরসিবির কোটি কোটি ভক্ত।