একাধিক প্রেম, ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’র আগে আর কোন বিতর্কে জড়ান নোরা?
নোরা ফতেহি এবং সঞ্জয় দত্তের ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ ছবির গান ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক।
গানটি আপাতত আর দেখা যাচ্ছে না। গীতিকার আবারও গানটির একটি মার্জিত সংস্করণ লিখছেন বলেই জানা গিয়েছে। পরবর্তীকালে গানের সেই সংস্করণটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে বলেই খবর। গত বুধবার প্রকাশে দুঃখপ্রকাশও করেন অভিনেত্রী। তিনি দাবি করেন, কন্নড় ভাষায় তেমন দখল নেই তাঁর। গানটি শুটিংয়ের সময় নির্মাতাদের থেকে কথার অর্থ বুঝতে চান। বলাও হয় তাঁকে। তবে খুবই কুরুচিকর বলে মনে হয়নি অভিনেত্রীর।
আরও পড়ুন:
নোরা দাবি করেছেন, হিন্দি ভাষায় তৈরি গানটির ভাষা অত্যন্ত অসংযত ও কুরুচিকর। ইতিমধ্যে জাতীয় মহিলা কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে সমন পাঠানো হয়েছে। মুসলিম পার্সোনাল দারুল ইফতার তরফেও ফতোয়া জারি হয়েছে নোরার বিরুদ্ধে। তীব্র সমালোচনার মাঝে যদিও সঞ্জয় দত্তের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 'মুন্নাভাই' একেবারে স্পিকটি নট!
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও একেবারে বিতর্কে জড়িয়েছেন নোরা। মডেল-অভিনেত্রী এবং বিতর্ক যেন একে অপরের পরিপূরক। একসময় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপ মামলায় নাম জড়িয়েছিল নোরার। 'ঠগ' সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে নাম জড়ায় তাঁর। সুকেশের দাবি, নানা বহুমূল্য উপহারও নাকি নিয়েছিলেন নোরা। দু'জনকে একাধিকবার একসঙ্গে ইতিউতি দেখাও গিয়েছিল। যদিও অভিনেত্রীর দাবি, গণ্ডগোল বুঝেই সুকেশের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।
নোরার সঙ্গে কোরিওগ্রাফার টেরেন্স লুইসের সম্পর্ক নিয়ে একসময় বিতর্ক দানা বাঁধে। বি-টাউনে কান পাতলেই শোনা যেত, একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মন দেওয়া নেওয়া হয়েছিল দু'জনের। যদিও সে গুঞ্জনে কোনওদিনই সিলমোহর দেননি নোরা-টেরেন্স। তবে দু'জনের বেশ ঘনিষ্ঠ একটি ছবি প্রকাশ্যে চলে আসে। অভিনেত্রী অবশ্য দাবি করেন, এই ছবিটিকে বিকৃত করা হয়েছে। তার কোনও সত্যতা নেই।
আরও পড়ুন:
শুধু টেরেন্স লুইস নন। নোরা নাকি অঙ্গদ বেদির 'হৃদয়চুরি'ও করেছিলেন। শোনা গিয়েছিল, একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে ভালোলাগা। খুব কম সময়ের মধ্যে সম্পর্ক বেশ মাখোমাখো হয়ে যায়। তবে একসময় নাকি অঙ্গদই নোরার মন ভাঙেন। সম্পর্ক পরিণতি পাওয়ার আগেই ছারখার হয়ে যায়। বি-টাউনে অঙ্গদ ও নোরার সম্পর্ক নিয়ে কানাঘুষো হয়েছে ঠিকই। তবে সম্পর্কের কথা সকলের সামনে বলেননি কেউ।
টি-সিরিজের চেয়ারম্যান ভূষণ কুমারের সঙ্গে একবার নাম জড়ায় অভিনেত্রীর। সকলের জানা, নোরা টি-সিরিজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। গত ২০১৯ সাল থেকেই তিনি চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। আর সেই সুবাদেই চেয়ারম্যান ভূষণ কুমারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ। ২০২২ সাল থেকে নোরার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায় ভূষণ কুমারের। সেই সময় আবার ভূষণ কুমার ছিলেন বিবাহিত। দিব্যা খোসলা কুমারের সঙ্গে দিব্যি চুটিয়ে সংসার করছিলেন।
দিব্যা ও ভূষণের মাঝেই নাকি তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে নোরার প্রবেশ। একাধিকবার ইতিউতি দেখাও গিয়েছে দু'জনকে। তবে গত বেশ কয়েকটি সম্পর্কের মতো এবারও গুঞ্জনে সিলমোহর দেননি তিনি। শুধু রঙিন প্রেমময় জীবনের জন্য নয়, আলটপকা নানা মন্তব্য করেও বিতর্কে জড়িয়েছেন নোরা। মডেল-অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে 'ঝলক দিখলা জা ৯'-এ অংশ নেতা বিখ্যাত অভিনেতা-কোরিওগ্রাফার সলমন ইউসুফ খানকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
কোভিডকালেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নোরা। ২০২১ সালে তিনি করোনা আক্রান্ত হন। অভিযোগ, সেই সময় কোভিডবিধি লঙ্ঘন করেন মডেল-অভিনেত্রী। নিজে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও একসময় বাড়ির বাইরে ঘুরে বেরিয়েছিলেন বলেই অভিযোগ। বেশ কয়েকটি ছবি ভাইরালও হয়ে যায়। যদিও অভিনেত্রী অভিযোগ খারিজ করেছেন। শুধু তাই নয়, পরে অবশ্য নোরা সকলরে মাস্ক পরে কোভিডবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন অভিনেতা।