করোনার বন্ধ দরজাতেও থমকে যায়নি স্বপ্ন, সাঁতারু ছেলের জন্যই দেশ ছেড়েছিলেন মাধবন
‘থ্রি ইডিয়েটস’-এ ফারহান কুরেসির বাবার মতো আপত্তি নয়, বাস্তব জীবনে মাধবন ছেলের স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যরকম গল্পই লিখেছেন।
মাধবন তখন শুধু দূর থেকে দেখতেন না। তিনি বুঝতেন, এই স্বপ্নটা বড়। খুব বড়। আর বড় স্বপ্নের জন্য লাগে ত্যাগ। শুটিং, ব্যস্ততা, আলো-ঝলমলে জীবন - সব কিছুর মাঝেও তিনি খেয়াল রাখতেন ছেলের সময়মতো অনুশীলন হচ্ছে কি না, মন ঠিক আছে কি না। কিন্তু তিনি নিজেই একদিন বুঝলেন, এই পথটা শুধু নির্দেশ দিয়ে এগিয়ে দেওয়া যায় না, পাশে দাঁড়াতে হয়।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
বিগত কয়েক বছরে ছেলের কঠোর অনুশীলন ও তার নেপথ্যে পরিবারের ত্যাগের কথা একাধিকবার তুলে ধরেছেন মাধবন। তাঁর মতে, একজন ক্রীড়াবিদের সাফল্যের পিছনে শুধুমাত্র প্রতিভা নয়, প্রয়োজন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে করোনা অতিমারির সময় নেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। লকডাউনের মধ্যে ছেলের কেরিয়ার থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবার-সহ দুবাইয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
করোনা পরিস্থিতিতে মুম্বই-সহ গোটা ভারতে সুইমিং পুল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনুশীলনের সুযোগ কার্যত শূন্যে নেমে আসে বলে জানান অভিনেতা। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। মাধবনের বক্তব্য, “জার্মানি, ফ্রান্স, চিন - এই দেশগুলো তখন সুইমিং পুল খুলে দিয়েছিল। সেগুলোকে কোভিড-মুক্ত জোন হিসাবে রাখা হচ্ছিল।”
মাধবনের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট থেকেও বিরাট আয় করেন তিনি। দুবাই মেরিনায় তাঁর বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ব্যক্তিগত ইয়ট ও ক্যাপ্টেন লাইসেন্সও। মুম্বইয়ের বান্দ্রা কুর্লা কমপ্লেক্সে ১৭.৫ কোটির অ্যাপার্টমেন্ট এবং চেন্নাইয়ে নিজস্ব বাংলো রয়েছে তাঁর। 'থ্রি ইডিয়েটস'-এ ফারহান কুরেসির বাবার মতো আপত্তি নয়, বাস্তব জীবনে মাধবন ছেলের স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যরকম গল্পই লিখেছেন।