রাহুলের সঙ্গে ছিল বিয়ের গুঞ্জন, বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরছেন সেই বিধায়ক?
জল্পনা বেড়েছে রাহুলের সাম্প্রতিক রায়বরেলি সফর থেকে।
অদিতি সিং। ৩৮ বছর বয়সি ওই নেত্রী এই মুহূর্তে রায়বরেলি সদর কেন্দ্রের বিধায়ক। তিনি সুশ্রী, বাগ্মি। এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের টিকিটে গান্ধী পরিবারের গড় রায়বরেলি সদর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তাঁর বাবা অখিলেশ কুমার সিং দীর্ঘদিনের কংগ্রেস নেতা এবং গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই সূত্রে অদিতিরও পরিচয় হয় রাহুল প্রিয়াঙ্কাদের সঙ্গে।
আরও পড়ুন:
২০১৮ সাল নাগাদ সোশাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর কয়েকটি ছবি দেখে নেটিজেনরা অনুমান করেন, সোনিয়া সম্ভবত নিজের পুত্রবধূ হিসাবে পছন্দ করে ফেলেছেন অদিতিকে। সেই গুঞ্জন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে অদিতিকে সেটা নিয়ে মুখ খুলতে হয়। অদিতি বলে দেন, রাহুল তাঁর দাদার মতো। রীতি মেনে রাখি বাঁধেন তিনি।
ওই বয়ানের পরই অদিতির সঙ্গে রাহুলের বিয়ের গুঞ্জনে ইতি পড়ে। পরে ২০১৯ সালে পাঞ্জাবের এক কংগ্রেস বিধায়ক তথা ব্যবসায়ী অঙ্গদ সিংকে বিয়ে করেন। এর মধ্যে আবার দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে বিজেপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার শুরু হন। আসলে সেসময় গোটা দেশের মতো উত্তরপ্রদেশেও কংগ্রেসের সংগঠন ছিল তলানিতে। শেষমেশ ২০২২ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন অদিতি।
কিন্তু বিজেপিতে যোগ দিলেও কোনওদিন বিশেষ গুরুত্ব পাননি। রায়বরেলির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও সেভাবে দলের প্রথম সারিতে তুলে আনা হয়নি। তাঁর প্রতিপক্ষ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এমনকী মন্ত্রীও করা হয়েছে। তাতে আবার বিজেপির সঙ্গেও দূরত্ব বাড়া শুরু করেছে অদিতির। সূত্রের দাবি, ইদানিং ফের কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে নাকি সম্প্রতি অন্তত বার দু'য়েক কথা হয়েছে অদিতির। আমেঠির কংগ্রেস সাংসদ কিশোরীলাল শর্মার সঙ্গেও তিনি যোগাযোগ রাখছেন বলে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি। তাছাড়া বিজেপি নেতাদের সঙ্গে অদিতির সেভাবে যোগাযোগ নেই। এমনকী প্রকাশ্যে সরকারের কাজের সমালোচনাও করেছেন একাধিকবার। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, ২০২৭ ভোটের ঠিক আগে আগে তিনি কংগ্রেসে ফিরতে পারেন।
জল্পনা তুঙ্গে ওঠে সম্প্রতি রাহুল গান্ধীর রায়বরেলি সফর থেকে। রাহুলের ওই সফরে স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে যে 'দিশা' বৈঠক হয়, তাতে অন্য বিজেপি বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রাহুলের সব দাবির অভিযোগের বিরোধিতা করেন। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ ওই বৈঠকে অদিতি সিং উপস্থিত ছিলেন না। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, সরাসরি রাহুলের বিরোধিতা করতে চাননি বলেই অদিতি গরহাজির ছিলেন।