নিয়োগ দুর্নীতি থেকে ডিএ, মামলার চাপে তৃণমূল সরকারের নাভিশ্বাস তুলেছিলেন বিকাশ! কোন কোন মামলা লড়েন?
সম্প্রতি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও তাঁর স্বামীর হয়ে মামলা লড়ে বিতর্কেও জড়িয়েছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার নেপথ্যে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার। যোগ্য বঞ্চিতদের হয়ে আদালতে সোচ্চার হয়েছিলেন এই বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যই। দীর্ঘ শুনানির পর এসএসসির ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য। তাতেও লাভ হয়নি। চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী।
আরও পড়ুন:
প্রাথমিকে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেও রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালতে ছুটেছিলেন বিকাশ। অভিযোগ ছিল, ২০১৪ সালের টেটের নিয়োগে বিস্তর কারচুপি হয়েছিল। নিযুক্ত প্রায় ৪৩ হাজারের মধ্যে ৩২ হাজারের ক্ষেত্রেই কারচুরি হয়েছে। সিঙ্গল বেঞ্চ তাঁদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয়। স্বাভাবিকভাবেই চাপের মুখে পড়ে রাজ্য। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় সরকার। মানবিকতার খাতিরে চাকরি বজায় রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।
রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলায় সরকারি কর্মীদের পক্ষের অন্যতম প্রধান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর যুক্তি অনুযায়ী, কর্মচারীদের ডিএ পাওয়া আইনি অধিকার। সেই মামলার জল গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আদালতে ধাক্কা খায় তৎকালীন রাজ্য সরকার। বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। পরবর্তীতে রাজ্যের তরফে তহবিলের পরিস্থিতি তুলে সমস্যার কথা জানালে একটা অংশ মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
একুশের নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসার ঘটনা ঘটেছে। বহু বিজেপি কর্মী সেই সময় খুন হন। ঘর ছাড়েন অনেকে। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে সোচ্চার হয়েছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে একাধিক মামলা দায়ের করেছিলেন। যা খানিকটা হলেও বিপাকে ফেলেছিল তৃণমূল সরকারকে।
আরও পড়ুন:
পেশার কারণে বিতর্কেও জড়িয়েছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বেআইনি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় তাঁদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী। দুর্নীতিবাজদের হয়ে মামলা লড়াকে মোটেই ভালোভাবে নেয়নি বামশিবির থেকে শুরু করে আমজনতা। যদিও আত্মপক্ষ সমর্থন করে বিকাশ বারবার বলেছেন, 'পেশা হিসেবে মামলা লড়াই আমার কাজ। যেমন রোগী অন্য দলের হলেও চিকিৎসক চিকিৎসা করেন।'