যুদ্ধ, জঙ্গি হানা, পিচ খোঁড়া! বারবার ভারত-পাক ক্রিকেটে বাধা হিংসা, এবার মহারণে পুরোপুরি ইতি?
বাজপেয়ী, মনমোহনদের ক্রিকেট কূটনীতি কি ব্যর্থ হচ্ছে মোদি জমানার উগ্র জাতীয়তাবাদে?
আরও পড়ুন:
কিন্তু বাধা এরপরও এসেছে। ১৯৯৯ কার্গিল যুদ্ধ এবং ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা ফের প্রশ্নের মুখে তুলে দিয়েছে দুদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক। ১৯৯৯ কার্গিল যুদ্ধের পর ফের দু'দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যায়। মজার কথা হল, সেবছরই পাকিস্তানের ভারত সফর ছিল। সেই সফরে বাধা দেওয়ার কম চেষ্টা হয়নি। এমনকী দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে শিব সেনার কিছু অনুগামী ঢুকে পিচ খুঁড়ে দিয়েছিল। যা নিয়ে আজও গর্ববোধ...
আরও পড়ুন:
কার্গিল যুদ্ধের বছর পাঁচেক বাদে অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং পারভেজ মুশারফের উদ্যোগে ফের দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে। ২০০১ সালে সংসদে হামলার পর যা অকল্পনীয় ছিল। কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে বাজপেয়ী সেটাও করেন। ২০০৩-০৪ সালে পাকিস্তান সফরে যায় ভারতীয় দল। প্রায় ১৪ বছর পর ভারতীয় দল পাকিস্তানে পা রাখে। সেই সিরিজ ঐতিহাসিকভাবে সফল। ওই সিরিজের পর দুই দেশের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে।
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মনমোহন সিং আসার পরও বাজপেয়ীর মতোই পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার চেষ্টা করেন। পণ্ডিত নেহেরুর মতো তিনিও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না রাখলে দেশের আর্থিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। ব্যতিক্রম নয় পাকিস্তানও। ওয়াঘা সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে হিংসা, সন্ত্রাসের চেষ্টা যখন সমানে চলছে তখনও তিনি ভারত-পাক সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন। আর সেই কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করে গিয়েছেন ক্রিকেটকে।
ফের সমস্যা শুরু হয় ২০০৮ মুম্বই হামলার পর। মুম্বইয়ের তাজ হোটেলে পাক সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ১৭৫ জনের মৃত্যুর পর তলানিতে ঠেকে দুদেশের সম্পর্ক। গোটা দেশ তখন ক্ষোভে ফুঁসছে। ফের বন্ধ হয় ক্রিকেট। ২০১১ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালকে ফের কূটনীতির মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করেন মনমোহন। মোহালিতে সেমিফাইনালে ভারত-পাক মহারণ দেখতে প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানান পাক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানিকে। মোহালিতে পাশাপাশি বসে সেই সেমিফাইনাল দেখেন গিলানি এবং মনমোহন।...
পরে নরেন্দ্র মোদির সরকার অবশ্য পাকিস্তানের প্রতি মনমোহনের এই ‘নরমপন্থী’ মনোভাব পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। মোদি সরকারের সাফ বার্তা, সন্ত্রাস আর খেলাধুলো একসঙ্গে চলতে পারে না। এরপর ২০১৯ পুলওয়ামা হামলা, ২০২৫ পহেলগাম হামলা পরিস্থিতি আরও বিগড়ে দেয়। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতেও ভারত পাকিস্তানে যায়নি। ওই টুর্নামেন্ট হয় হাইব্রিড মডেলে। ঠিক হয়, এবারে ভারতের মাটিতে যে বিশ্বকাপ হওয়ার কথা তাতেও পাকিস্তান খেলতে আসবে না। তাই পাকিস্তানের...
কিন্তু এবার মহসিন নকভির পাক বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নিল, সেটা শুধু বেনজির নয়, অভাবনীয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এই ম্যাচে পাকিস্তানের দল না নামানোর অর্থ কি? এরপর কি তবে আইসিসি টুর্নামেন্টেও বহু প্রতীক্ষিত এই মহারণ বন্ধ হয়ে যাবে? ভারত-পাক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কি চিরতরে ইতি পড়ে গেল? বাজপেয়ী, মনমোহনদের ক্রিকেট কূটনীতি কি ব্যর্থ হচ্ছে মোদি জমানার উগ্র জাতীয়তাবাদে?