ক্রিকেট মাঠের ফিনিশার থেকে ‘ব্যবসায়ী’, দীনেশ কার্তিকের ১০০ কোটির সাম্রাজ্য গড়ার গল্প
ওঠা-নামার মধ্যেই তিনি শিখেছেন টিকে থাকার লড়াই।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:
ধোনির দীর্ঘ আধিপত্যে কার্তিকের মতো প্রতিভা আড়ালে পড়ে যায়। তবে যেখানে অনেকে হার মেনে সরে যান, কার্তিক বেছে নেন লড়াই। বারবার নিজেকে বদলে, বিভিন্ন ভূমিকায় মানিয়ে নিয়ে তিনি দলে ফিরে আসেন। তাঁর কেরিয়ার প্রমাণ করে, শুধু প্রতিভা নয়, টিকে থাকতে দরকার মানসিক দৃঢ়তা। সেই কারণেই ছায়াতেও তিনি গড়েছেন নিজের আলাদা পরিচয়।
২০১২ সাল। ব্যক্তিগত ঝড় জনসমক্ষে এসে পড়ে। ভারতীয় ক্রিকেটমহল নায়কদের নিখুঁতভাবেই দেখতে অভ্যস্ত। আর সেই প্রেক্ষাপটেই কার্তিকের ব্যক্তিগত জীবন ট্যাবলয়েডের আলোচনায় উঠে আসে। তাঁর বিয়ে ভেঙে যায়। প্রথম স্ত্রী নিকিতা বানজারা ঘোর বাঁধেন 'সতীর্থ' মুরলী বিজয়ের সঙ্গে। সেই অস্থিরতা প্রভাব ফেলে তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারেও। দল থেকে বাদ পড়া, ফর্ম হারানো - সব মিলিয়ে যেন এক পতনের গল্পই তৈরি হচ্ছিল।
আইপিএল শুরুর পর ২০০৮ সাল থেকে কার্তিক বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ধারাবাহিকভাবে খেলেছেন। এই লিগ থেকেই তাঁর মোট আয় প্রায় ৯২.৪২ কোটির কাছাকাছি। কার্তিকের কেরিয়ারের সর্বোচ্চ চুক্তি ২০১৪ সালে। সেবছর দিল্লি ডেয়ারডেভিলস তাঁকে ১২.৫ কোটি টাকায় কিনে নিইয়েছিল। ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত তিনি আরসিবি'র হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যেখানে তাঁর বার্ষিক বেতন ছিল ৫.৫ কোটি।
ক্রিকেটের বাইরেও আর্থিকভাবে নিজেকে সুসংগঠিত করেছেন দীনেশ কার্তিক। বিনিয়োগ ও ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৯৫-১০০ কোটির মধ্যে বলে জানা যায়। স্পোর্টস-টেক, ইভি ট্যুরিজম, গেমিং এবং ফিটনেস ওয়্যারেবল প্রযুক্তির মতো আধুনিক খাতে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। পাশাপাশি, একাধিক স্টার্টআপে অংশগ্রহণ তাঁর আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট থেকেও তাঁর উল্লেখযোগ্য আয় হয়। ঝন্ডু বাম, খাদিম এবং ব্ল্যাকবেরির মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। তাছাড়াও আইপিএল, ধারাভাষ্য এবং ব্র্যান্ড প্রমোশন তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। সম্পত্তির দিক থেকেও তিনি সমৃদ্ধ। চেন্নাইয়ে একটি বিলাসবহুল বাড়ির পাশাপাশি তাঁর কাছে রয়েছে পোর্শে কেম্যান এসের মতো বিলাসবহুল গাড়ি।