নগ্ন হয়ে সৈকতে ধ্যান, ওশোর বাগানে মালির কাজ! মৃত্যুর ৯ বছর পর ফাঁস বিনোদ খান্নার রহস্যময় জীবনচর্যা
কেন কেরিয়ারের মধ্যগগনে বলিউড ছাড়েন বিনোদ খান্না? ওশোর আশ্রমে ঠিক কী করতেন তিনি? যাবতীয় গোপন কথা ফাঁস করলেন দ্বিতীয় স্ত্রী কবিতা খান্না।
আরও পড়ুন:
কবিতা জানান, ২০০১ সালে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময়ই চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিনেতাপত্নী জানান, দিনে ৪০ থেকে ৮০টি সিগারেট খেতেন বিনোদ। মুম্বইয়ের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিয়েছিলেন যে তাঁর ফুসফুসের অর্ধেকটা কেটে বাদ দিতে হবে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের আগেই ঘটে এক 'মিরাকল'! কেমন?
আরও পড়ুন:
কবিতা খান্নার মন্তব্য, ছোটবেলা থেকেই ও খুব আধ্যাত্মিক। ১৭ বছর বয়সে 'অটোবায়োগ্রাফি অফ আ যোগী' বইটি যখন কিনতে গিয়েছিলেন, তখন সেই দোকানে ওশোও ছিলেন। কিন্তু সেদিন তাঁর উপস্থিতি বিনোদ বুঝতে পারেননি। আর ঠিক বিষয়টিই বারবার তাঁর মনকে নাড়া দিত। কিন্তু পরিবারে বেশ কিছু অঘটনের পরই পুরোপুরি আধ্যাত্মিক পথ অনুসরণ করেন তিনি। কীরকম?
বিনোদ খান্নার ওশো অধ্যায়ের কথা কারও অজানা নয়। কিন্তু এবার স্ত্রী কবিতা যা জানালেন, তাতে অবাক হতে হয়! বিনোদ খান্নার মতো তৎকালীন সুপারস্টার ওশোর ব্যক্তিগত বাগানে মালির কাজও করেছেন। কেন? কারণ সেখানে সকলের প্রবেশের অনুমতি ছিল না। কিন্তু মালি হওয়ায় অনায়াসেই ওশোর অন্দরমহলে যাতায়াত করতে পারতেন বিনোদ। আর এটাই ছিল গুরুর প্রতি তাঁর সেবা। শুধু তাই নয়!
পুনের আশ্রমে যাওয়ার আগে তিনি বোম্বের চৌপত্তি নামক সমুদ্র সৈকতে নগ্ন হয়ে একধরণের ধ্যানে বসতেন। শরীরে একটা সুতোও থাকত না তখন। এবং সেখানে ওশোর আরও অনেক অনুগামীরা অংশ নিতেন। মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত শহরে বিনোদ খান্নার মতো স্টারকে এভাবে নগ্ন অবস্থায় দেখলে কার কী প্রতিক্রিয়া হবে? সেসব দিকে কোনও ভ্রুক্ষেপই ছিল না অভিনেতার। কিন্তু জীবন ওলটপালট হয়ে যায় ওশো ছেড়ে যাওয়ার পর!
কবিতা এও জানান, ওরেগাঁও থেকে ওশো এবং তাঁর অনুগামীদের যখন চলে যেতে বলা হয়, তখন বিনোদ খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। তবে গুরুর আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন তিনি। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে আবার বলিপাড়ায় ফিরে যান বিনোদ খান্না। সেসময়ে নাকি প্রায়ই স্ত্রী কবিতাকে বিনোদ বলতেন, আবারও সেটে ফেরার ইচ্ছের কথা। ক্যামেরার সামনে শট দিয়ে শান্ত মনে ভ্যানে ফেরার কথা। এবং অঝোরে কাঁদতে চাইতেন তখন।
কিন্তু ওরেগাঁও থেকে চলে আসার পর বিনোদ খান্না আর কোনও দিন পুনে আশ্রমে যাননি বা ওশোর সাথে দেখা করেননি। পরে এক আধ্যাত্মিক গুরু নিজেই বলিউড অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনের আশ্রমের দায়িত্ব তাঁর হাতে সঁপে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এই প্রথমবার গুরুর 'অবাধ্য শিষ্য' হয়ে মুখের উপর 'না' বলেছিলেন বিনোদ খান্না। (ছবি- সংগৃহীত)