১৫ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  বৃহস্পতিবার ২ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই আজ ফাইনাল, টগবগ করে ফুটছে ইন্দো-বাংলা দুই শিবির

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: March 18, 2018 1:16 pm|    Updated: August 14, 2019 2:14 pm

Nidahas Trophy: India and Bangladesh to clash in final showdown

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এশীয় টিমগুলোকে নিয়ে আপাত নিরামিষ একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান নেই। বিরাট কোহলি-মহেন্দ্র সিং ধোনি নেই। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং বেশ কিছু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটার নিয়ে রোহিত শর্মার ভারত। কেউ কষ্টার্জিত কল্পনাতেও ভাবতে পারবে না যে, এ রকম টুর্নামেন্টেও উত্তেজনা সৃষ্টি সম্ভব। মাঠে হাতাহাতির উপক্রম হওয়া সম্ভব। ড্রেসিংরুমের কাঁচ ভাঙা সম্ভব।

মুশকিল হল, শ্রীলঙ্কায় চলতি নিদাহাস ট্রফি ঘিরে যা যা ভাবা যায়নি, ঠিক সবই শুক্রবার রাত থেকে পরপর হয়ে চলেছে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার ম্যাচ শেষ ওভারে এক বল বাকি থাকতে মাহমুদউল্লাহ রিয়াধের ছক্কায় জিতে গিয়েছে বাংলাদেশ! আর শুধু কলম্বোর মাঠে ‘লঙ্কাকাণ্ডের’ শেষ এখানেই নয়। ম্যাচের শেষ ওভারেই আম্পায়ারের ‘নো’ বল না দেওয়ার প্রতিবাদে টিম তুলে নিতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শাকিব আল-হাসান। আর সেই ‘নো’ বল না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কল্পনাতীত ব্যাপারস্যাপার শুরু হয়ে যায়। বাংলাদেশের পরিবর্ত ফিল্ডার নুরুল হাসানের সঙ্গে লেগে যায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটার থিসারা পেরিরার। প্রায় হাতাহাতি বাঁধার উপক্রম হয়। মাঠে উত্তেজিত হয়ে পড়ার জন্য সাকিবের জরিমানা হয়। এবং রাতে আবিষ্কার হয় যে, বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমের কাঁচ ভাঙা। কেউ কাঁচ ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে!

[মাঠে অভব্য আচরণ, আইসিসি-র কড়া শাস্তির মুখে শাকিব ও নুরুল]

একটা টানটান উত্তেজনার ক্রিকেটীয় উপাখ্যান লিখতে এত কিছু যথেষ্ট। কিন্তু ঘটনা হল, এখানেই নাটকীয়তার শেষ হচ্ছে না। এ সবের মধ্যেই রবিবার ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশ যাদের মুখোমুখি হচ্ছে, সেই ভারতের সঙ্গেও ক্রিকেটীয় হানাহানির পূর্ব ইতিহাস যথেষ্ট আকর্ষণীয়। যেমন ২০১৫ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল। রোহিত শর্মার আউট নিয়ে যে ম্যাচে তুলকালাম বেঁধে গিয়েছিল। যেমন ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে জেতা ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে হেরে আসা। যেখানে শেষ তিন বলে দু’রান তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। হার্দিক পাণ্ডিয়ার বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির বিদ্যুৎগতির কিপিং পদ্মাপারের আশা শেষ করে দিয়েছিল।

আজ পর্যন্ত সাতটা টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে খেলেছে ভারত। এবং সব ক’টাতেই ভারত জিতেছে। বিরাট কোহলি খেলুন না খেলুন। ভারত ফাইনালে মানে যে ফেভরিটের তাজ মাথায় পরে নামবে, সেটা মেনে নিলেন রোহিতের ভারতের অন্যতম সেরা ভরসা দীনেশ কার্তিক। কেকেআর অধিনায়ক শনিবার বলে দিয়েছেন যে, ভারতের দ্বিতীয় সারির টিম খেলছে কী খেলছে না, সেটা বড় কথা নয়। আসল হল, ভারত খেলছে। “দেখুন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আমরা জিতলে লোকে বলবে ওহ্, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জিতেছ। কিন্তু হারলে বলবে, বাংলাদেশকেও হারাতে পারছ না! কী করছ তোমরা? আমি জানি, সেটা এ বারও বলা হবে,” বলে দিয়েছেন কার্তিক। আর বাংলাদেশকে যিনি রোহিতের ভারত প্রবল গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তা কার্তিকের কথাবার্তাতে স্পষ্ট। “উপমহাদেশে বাংলাদেশ খুব টাফ টিম। ওরা শেষ পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যায়। খুব বেশি দিন হয়নি বাংলাদেশ টেস্ট স্টেটাস পেয়েছে। কিন্তু সব ফর্ম্যাটে ওরা ভাল করে দেখিয়েছে।”

[শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে মাঠেই নাগিন ডান্স বাংলাদেশের, ভাঙল ড্রেসিংরুমের কাচ]

অর্থাৎ, ভারত ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। চিন্তিত, বাংলাদেশে ক্রিকেটারদের মরণপণ যুদ্ধের উদগ্র বাসনা নিয়ে। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক- তিনি আবার শেষ যুদ্ধে নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রাখতে চান। শাকিব আল-হাসান ফাইনালে ওঠার পর মানতে রাজি হননি যে, তিনি মাঠ থেকে টিম তুলে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে যে আরও শান্ত থাকতে হবে, সেটা বলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলে দেন, “আমি মাঠ থেকে টিম নিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইছি। বরং টিমকে খেলতেই বলছিলাম,” বলে দিয়েছেন সাকিব। যদিও আম্পায়ার ‘নো’ বল না দেওয়ায় শাকিব উত্তেজিত ভাবে ব্যাটসম্যানকে ডাকছেন বেরিয়ে আসার জন্য। “এটা ঠিক যে এমন কিছু কিছু জিনিস ঘটে যা ঘটা উচিত নয়। আমার আরও শান্ত থাকা দরকার। আমি একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। ভবিষ্যতে আমাকে সতর্ক থাকতে হবে,” বলে দেন শাকিব।

মুশকিল হল, তাতে দারুণ কিছু প্রলেপ পড়েনি। বরং আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে শাকিবের অসন্তোষ প্রদর্শন, তার পর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’টো টিমে প্রায় হাতাহাতি লেগে যাওয়া- শ্রীলঙ্কা খুব ভাল ভাবে দেখছে না। শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্ট থিলাঙ্গা সুমাতিপালা বলেছেন, “আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে এ রকম অসন্তোষ দেখানো কোনও ভাবে মেনে নেওয়া যায় না।” আইসিসি ইতিমধ্যে সাকিব এবং নুরুল- দু’জনেরই ম্যাচ ফি-র পঁচিশ শতাংশ জরিমানা করেছে। এ সবের মধ্যেই আবার গত রাতে বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমের কাঁচ ভাঙার ঘটনা। গত রাতে মাঠের ধুন্ধুমার ঝামেলার পর আবিষ্কার হয় বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমের কাঁচের টুকরো-টুকরো অবস্থা। অভিযোগ- এক ক্রিকেটারই এটা ঘটিয়েছেন। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড ড্রেসিংরুমের ফুটেজ চেয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হতে চান, কোন ক্রিকেটার ড্রেসিংরুমের কাঁচ ভেঙেছেন।

[গড়াপেটায় যুক্ত শামি? তিন ঘণ্টা ধরে হাসিনকে জেরা দুর্নীতি দমন শাখার]

ঘুরেফিরে কী দাঁড়াল? আজ, রবিবার উপমহাদেশীয় ক্রিকেটের বর্তমান সবচেয়ে টগবগে যুদ্ধ আবার হতে চলেছে। আর তা হতে চলেছে গনগনে পরিবেশে। এবং দুইয়ের সংযোগে আজ যদি আবার স্ফুলিঙ্গ ছড়ায়, অবাক হওয়ার থাকবে না।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে