উত্তরবঙ্গের আসনগুলিতে বিজেপির পরিকল্পনায় ‘নেই’ মুকুল

ব্রতীন দাস, শিলিগুড়ি: বিস্তর ঢাক পিটিয়ে গেরুয়া শিবির তাঁকে দলে নিয়েছে। ৩ নভেম্বরের পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও মুকুল রায় এখনও বিজেপির স্রেফ সদস্য। সে অর্থে কোনও পদ পাননি। ঠিক কী পদ বা দায়িত্ব পাবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও রয়ে গেল। সেই কৌতুহল জিইয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিলেন তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। এমনকী রাজ্যে তিনিই যে দলের শেষ কথা তাও শিলিগুড়িতে আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন দিলীপ।

[বিজেপিতে যোগদানে ‘বাধা’ হয়েছিলেন দিলীপরা, বিস্ফোরক মুকুল]

ক্যাপ্টেন থেকে কোচ। একে অপরকে এমনই সব বিশ্লেষণে তাঁরা কয়েক দিন আগেই ভরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য বিজেপির নির্বাচন পরিকল্পনায় দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের এমন সমীকরণের কোনও ছাপ মিলছে না। আগেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি জানিয়েছিলেন পঞ্চায়েত ভোটের পরিকল্পনায় নেই মুকুল রায়। এবার উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকেও পরিষ্কার হয়ে গেল আগামী লোকসভা নির্বাচনে ওই এলাকায় মুকুলের ভূমিকা তেমন কিছু থাকছে না। ২০১৯ এর নির্বাচনের জন্য উত্তরবঙ্গে ৮টি জেলার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। ৬টি জেলার দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। রায়গঞ্জ দেখবেন দিলীপ ঘোষ এবং সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া পেয়েছেন দার্জিলিং লোকসভার দায়িত্ব। বিজেপির অন্দরের খবর, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি তাদের টার্গেট। এমনকী মুকুল রায়ও দাবি করেছেন মালদহ বাদে উত্তরবঙ্গের সবকটি কেন্দ্রে বিজেপি জিতবে। উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু তৃণমূল নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন বলেও জানান মুকুল। রাজনৈতিক বিশ্লষেকদের ধারণা এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রণকৌশল বুঝিয়ে দিল উত্তরবঙ্গে গেরুয়া শিবিরের পরিকল্পনায় মুকুল রায়কে প্রথম সারিতে দেখা যাবে না।

[‘মুকুল নয়, তৃণমূল ভাঙবে আমার হাত ধরেই’]

মুকুল রায়কে বিজেপি কাজে লাগাবে। কিন্তু কবে? কীভাবে? এ নিয়ে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট নয়। ফের দিলীপ ঘোষ জানালেন উনি একজন বিজেপির কর্মী হিসাবে কাজ করছেন, তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি দিলীপের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসাবে তিনিই দলের মাথা। অর্থাৎ এই মুহূর্তে বঙ্গ বিজেপিতে  তিনিই শেষ কথা। সপ্তাহ দুয়েক আগে উলুবেড়িয়ায় এক দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে মুকুল রায় জানিয়েছিলেন তাঁর বিজেপিতে যোগদানে বাধা হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষরা। বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই বিশ্লেষণ বুঝিয়ে দিল মুকুলকে নিয়ে রাজ্য বিজেপির টানাপোড়েন সহজে থামবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *