রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে এবার আসরে রাষ্ট্রসংঘ

সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনে এবার আসরে নামল রাষ্ট্রসংঘ। শুক্রবার, হাসিনা সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই-কমিশনার (ইউএনএইচসিআর)। রাষ্ট্রসংঘের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহেসিক জানিয়েছেন, শরণার্থীদের মত নিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। কাউকেই জোর করে মায়ানমার ফেরত পাঠানো হবে না।

[বাঘটিকে আস্তানায় ফিরিয়ে দিতে পারলাম না, লজ্জায় মরা উচিত’]

এদিন ইউএনএইচসিআর-এর সদর দপ্তরে এই চুক্তিতে সই হয়। বাংলাদেশের বিদেশসচিব এম শহিদুল হক ও ইউএনএইচসিআর-এর কমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি এই চুক্তি সই করেন। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আর্থিক সাহায্য দেবে রাষ্ট্রসংঘের সংস্থাটি। এছাড়াও সীমান্তে গড়ে তোলা হবে ‘ট্রানজিট সাইট’। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, এই চুক্তির ফলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি সহজ হবে। শরণার্থীদের সম্মতি নিয়েই তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে। এর আগে ১৯৯২ সালেও এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। নয়া চুক্তি অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের তথ্য সরবরাহ, পরিকাঠামো তৈরি সংক্রান্ত কাজ করবে সরকার। অন্যদিকে, রোহিঙ্গাদের পরিচয় খতিয়ে দেখা, তাঁদের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া, চিকিৎসা ব্যবস্থা সংক্রান্ত কাজ করবে ইউএনএইচসিআর। শুধু তাই নয় মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর পর তাঁদের সুরক্ষার বিষয়টিও দেখবে রাষ্ট্রসংঘের সংস্থাটি।

রাখাইন প্রদেশে সংঘর্ষের জেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় সাত লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী। বিশ্ব মানচিত্রে ব্রাত্য হলেও তাঁদের আশ্রয় দিয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় শরণার্থী শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন শরণার্থীরা। তবে ক্রমশই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। শরণার্থীদের সাহায্য করতে গিয়ে চাপ বাড়ছে দেশের অর্থনীতির উপর। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলার পক্ষেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। রোহিঙ্গা শিবিরে সন্ত্রাসবাদীদের আনাগোনায় প্রশ্নের মুখে অভ্যন্তরীণ সুরক্ষাও। এদিকে শরণার্থীদের ফেরত নেওয়ার চুক্তি সস্বাক্ষর করলেও, টালবাহানা উড়ছে মায়ানমার সরকার। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসংঘের এই পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্থিতে বাংলাদেশ।

[ভোটযুদ্ধে মুখোমুখি বাবা-ছেলে, উন্নয়নেই ভরসা দু’পক্ষের]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *