শেখ হাসিনার শাসনকালের শেষ পর্বে পতন হয়েছিল বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার। ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার আমলে তা মাত্রা ছাড়া পর্যায় পৌঁছে যায়। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলেও পথেঘাটে আমজনতার সুরক্ষা কোথায়? প্রশ্ন লাগাতার বাসে আগুন, ককটেল বোমা বিস্ফোরণ-সহ একাধিক অরাজক ঘটনায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫১৫ সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, বেছে বেছে ছুটির দিন শুক্রবারে বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। উদ্দেশ্য হল আমজনতাকে হয়রানির মধ্যে ফেলা। গত পক্ষকাল যাবৎ রাজধানী-সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাসে আগুন দেওয়া এবং ইউনূস সরকারের শাসনকালে নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগ নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। টানা কয়েক শুক্রবার রাজধানী ঢাকার গুলশান, মালিবাগ, মহাখালী ও কাফরুল-সহ
বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন এবং ঝটিকা মিছিল বের করেছে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলটি।
পুলিশের দাবি, শুক্রবার জুম্মার নমাজের সময় সাধারণ মানুষের বিপুল সমাগমকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা কয়েক মিনিটে নাশকতা চালিয়ে ভিড়ে মিশে যাচ্ছে। ফলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অপরাধীরা সটকে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। কারা এমনটা ঘটাচ্ছে তা নিয়ে ধন্ধে তদন্তকারীরা। যেহেতু সাম্প্রতিককালে পদ্মাপাড়ের জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরাও বেশ সক্রিয়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আওয়ামি লিগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের সমর্থকরা দু’বছর আত্মগোপন করার পর ফের সক্রিয় হয়ে উঠছে।
ফার্মগেটের তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠক ও জঙ্গি কার্যকলাপ চালানোর সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা ‘মিটআপ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। দেশে অস্থিরতা ও জেহাদের জন্য লোক সংগ্রহের অভিযোগে তাঁদের ৩ দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছে আদালত।
শনিবার ভোররাতে পদ্মাপাড়ের রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পার্ক করে রাখা একটি লোকাল বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। ময়মনসিং নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ডের পাশে রাস্তার দাঁড়িয়ে থাকা ‘সৌখিন পরিবহন’ নামের একটি বাসে আগুন লাগানো হয়। ফরিদপুর সদর উপজেলার করিমপুর হাইওয়ে থানার পাশে পুলিশের হেফাজতে রাখা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন লেগে পুড়ে গিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে মিরপুর-১ ওভারব্রিজের নিচে অভিজাত পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে মিরপুর-১১ মেইন রোডের জমজম টাওয়ারের বিপরীতে শিকড় পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে বাসটির চালক ও হেলপারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাত ৮টা থেকে ৮টা ১০ মিনিটের মধ্যে বাড্ডা-রামপুরা সংযোগ সড়কে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে হামিম গ্রুপের একটি স্টাফ বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসটির পেছনের অংশ পুড়ে যায়। একই রাতে কদমতলীর মেইন রোডে শান্ত ফিলিং স্টেশনের পাশে পার্ক করে রাখা ঠিকানা পরিবহনের একটি বাসেও আগুন লাগে। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই।
সন্ধ্যে ৭টা ৩৫ মিনিটে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার সামাদ সুপার মার্কেটের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে একই এলাকার শহিদ ফারুক রোডের মাথায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইনকামিং ফ্লাইওভার থেকে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কদমতলীর পোস্তগোলা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় একটি ককটেল নিক্ষেপ করে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
রাত ৯টা ২০ মিনিটে ধানমণ্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আহমদ মেডিক্যালের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে মতিঝিলের শাপলা চত্বরসংলগ্ন এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এসব ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে শাহবাগের তিন নেতার মাজার সংলগ্ন মেট্রো রেলের নিচে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। একই সময়ে বাড্ডার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লাল টেপে মোড়ানো একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে লালবাগে একটি বাউন্ডারি ওয়ালে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। সেটি দেয়ালে আঘাত লেগে সামনের সড়কে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে কোনও হতাহত হয়নি।
রাত ১২টা ৫ মিনিটে মহাখালীর আমতলী এলাকায় চারটি ককটেল নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন গ্রামীণ ব্যাঙ্ক সেন্টার লক্ষ্য করে মোটরবাইকে আসা দুই ব্যক্তি একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় মোটরবাইক জব্দ-সহ একজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এই পরিস্থিতিতে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। ডিএমপি জানিয়েছে, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের মিছিলের ঘটনায় গতকাল
পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপির অভিযানে ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ৪৭টি মামলা করা হয়েছে।
বাসে আগুন দেওয়া, পেট্রল বোমা বিস্ফোরণ, গোলমাল বাঁধানোর ঘটনা বাড়ায় বাংলাদেশের রাজধানী শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বিভিন্ন এলাকায় ২০০টি চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে তারেক মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের দাবি, দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে আওয়ামি লিগ। তিনি বলেন, “আওয়ামি লিগের এমন কাজে সরকার মোটেই শঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন নয়। সরকার এগুলোকে খুব একটা মনোযোগ বা গুরুত্বও দিচ্ছে না। কারণ দেশের জনগণ গণহত্যাকারীদের এই ধরনের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে।”
সর্বশেষ খবর
-
কাল হল প্রতিকূল আবহে শৃঙ্গজয়ের জেদ! নেপালে তুষারধসে মৃত্যু বাংলার পর্বতারোহীর
-
বালতি হাতে বাড়িতে ঢুকল কে? তারপরই তীব্র বিস্ফোরণ, কর্নাটকে মৃত একই পরিবারের ৬ জন
-
‘নিজে ড্রাইভ করে গড়িয়াহাটে শপিং করি,’ পুজো নিয়ে আড্ডায় দিতিপ্রিয়া
-
সিনেমা হলের মধ্যেই অবাধ যৌনতা! ‘প্রান্তিকে’ একী কাণ্ড, হুলস্থুল তেহট্টে
-
বিরাট সিদ্ধান্ত বিসিসিআইয়ের, ভারতীয় দলের কোচ হলেন বালাজি!