১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘অশান্তিতে জড়িও না’, বাবার পরামর্শে বীজপুরের বাইরে বেরলেন না শুভ্রাংশু

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: May 6, 2019 6:21 pm|    Updated: May 6, 2019 6:32 pm

An Images

শুভময় মণ্ডল, বারাকপুর: পঞ্চম দফা ভোটে রাজ্যের ৭ কেন্দ্রের মধ্যে বারাকপুর কেন্দ্রে অর্জুন-দীনেশ লড়াইয়ের বাইরে আর একজনের দিকেও কিন্তু নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের৷ তিনিও আরেক ভোট সেনাপতি৷ এখানে আবার রাজনীতিটা পারিবারিকও বটে৷ বাবা একদলের বড় মাপের নেতা৷ ছেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিধায়ক৷ সারাবছর বাবা-ছেলের রাজনৈতিক লড়াই জারি থাকলেও, লোকসভা ভোটের দিন দ্বন্দ্ব ছাপিয়ে উঠে এল পিতৃস্নেহ৷ ভোটের দিন কোনও অশান্তিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ছেলে শুভ্রাংশুকে পথ দেখালেন বাবা মুকুল রায়৷

[ আরও পড়ুন: টানা ৫৯ দিন বন্ধ থাকবে স্কুল, ছুটি কমানোর দাবিতে সরব পড়ুয়ারা]

পিতা একসময়ে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বীজপুর, হালিশহর এলাকায় তৃণমূল সংগঠন তৈরি করেছিলেন৷ দক্ষ সংগঠক হিসেবে পালন করেছিলেন বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব৷ হয়ে উঠেছিলেন দলের বড় এক ভরসার পাত্র৷ ততদিনে ছেলে শুভ্রাংশুও বাবার দেখাদেখি রাজনীতিতে চলে এসেছেন৷ ভোটে লড়াই করে বীজপুরের বিধায়কও হয়েছেন৷ কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু৷ মুকুল রায়ের জীবনে বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়৷ একদা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক, প্রাক্তন সাংসদ এখন গেরুয়া শিবিরের বড় মুখ৷  বাংলায় তৃণমূলের শক্তিক্ষয় এবং বিজেপির উত্থানের গুরু দায়িত্ব তাঁর কাঁধেই অর্পিত৷ আর সেখানেই জল্পনা উসকে উঠেছে, তবে কি ছেলেকেও নিজের শিবিরে টানতে চলেছেন মুকুল রায়?

জল্পনা ছিল হাজারও৷ শোনা যাচ্ছিল, বাবার পথে ফের হাঁটবেন শুভ্রাংশু৷ দলবদলের জন্য তিনি কয়েকটি শর্ত রেখেছেন৷ তা পূরণ করা হলেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখাবেন মুকুলপুত্র৷ লোকসভার আগেই হয়ত চূড়ান্ত হতে পারে দলত্যাগের বিষয়টি৷ কিন্তু বাস্তবে এসব জল্পনার কার্যকর না হওয়ায় ভোটের দিন ঠিক কী ভূমিকায় দেখা যাবে শুভ্রাংশু রায়কে, নজর ছিল সেদিকে৷ সোমবার বীজপুরে শুভ্রাংশুর অফিসে গিয়ে দেখা গেল, নিজের দায়িত্ব তিনি পালন করছেন যথাযথভাবেই৷ সংবাদ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জানালেন, বারাকপুরের ৭ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এবারও বীজপুর থেকেই সবচেয়ে বেশি লিড পাবেন তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী৷ এবিষয়ে তাঁর কোনও সন্দেহ নেই বলেই জানালেন৷ ২০১৪ সালেও এই বীজপুর কেন্দ্র থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটের লিড পান দীনেশ ত্রিবেদী৷ অশান্তির খবর শুনে বললেন, বীজপুরের বাইরে কী হচ্ছে, তিনি জনেন না৷ নিজের কেন্দ্রের কাজেই তিনি মনোনিবেশ করেছেন৷

[ আরও পড়ুন: ভোটের দিন দাপাদাপিই সার, বারাকপুরে লক্ষ্যভেদ কঠিন অর্জুন সিংয়ের]

কথায় কথায় এল বাবা মুকুল রায়ের প্রসঙ্গ৷ শুভ্রাংশু জানালেন, ‘রাতে ফোন করেছিলেন বাবা৷ বলেছেন, আজ আমি বাবা হয়ে কথা বলছি৷ ভোটের দিন কোনও অশান্তির মধ্যে জড়াবে না৷’ বলার সময় যেন একটু কেঁপে গেল শুভ্রাংশুর গলা৷ বাবার প্রতি ভালবাসা, শ্রদ্ধার প্রকাশে যেন পিছুটান হয়ে দাঁড়াচ্ছে রাজনীতির দ্বন্দ্ব৷ নিজের দায়িত্ব তিনি পালন করলেন হয়ত৷ কিন্তু বাবার পাশে না থাকাটা কি বিদীর্ণ করল তাঁকে? মুখ দেখে অন্তত তা বোঝার উপায় নেই৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement