‘মিরর মিরর অন দ্য ওয়াল, হু ইজ দ্য ফেয়ারেস্ট অফ দেম অল?’, স্নো হোয়াইট গল্পে আয়নাকে রোজ এই প্রশ্নই করতেন রানি। আয়নার উত্তর ছিল, ‘ইউ মাই কুইন’! তবে সেই আয়না তো আর অঙ্কিতাকে চিনত না! চিনলে নিশ্চিত বলত, বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী সে! এখানে রানি নেই, আছে এক টুকরো বাঁচার স্বপ্নের অঙ্গীকার! নিষ্পাপ এক প্রাণের সমস্ত না পাওয়াকে ভুলে গিয়ে নিজের মনে, নিজের মতো করে বলে চলা। আমিই সুন্দর, আমিই ভালো, আমিই তো সব!

আরও পড়ুন:
অটিজম রোগ নয়। কিন্তু কে বুঝবে কার কথা? প্রায় তিন দশক আগে বর্তমানে যাদবপুরের বাসিন্দা চন্দ্রিমা রুমা দত্ত টের পান তাঁর একমাত্র কন্যাসন্তানের অটিজমের কথা। মেয়ের উঠে বসা, দাঁড়ানো সবকিছু ঠিক থাকলেও আকাশ ভাঙল কিছুদিন পরেই। অঙ্কিতা যখন ৫-৬ বছরের, বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে যান ওঁরা। সেখানেই দত্ত পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন অটিজম কাকে বলে! অঙ্কিতার যখন ১৩ বছর বয়স, বয়ঃজনিত আনুষঙ্গিক সমস্যা জোরালো হয় আরও। বাড়তে থাকে কষ্ট! অঙ্কিতার জীবনকে ঘিরে ধরে নিকষ কালো অন্ধকার। কিন্তু মনের জোর? সঙ্গীতশিল্পী চন্দ্রিমা রুমার জেদ আর একের পর এক উদ্যোগে আলো পায় অঙ্কিতা। তাই, আধো আধো উচ্চারণ, হাঁটতে চলতে বহু প্রতিবন্ধকতার মধ্য়েও সে গেয়ে ওঠে আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে! অঙ্কিতা ঘুরতে ভালোবাসে, অঙ্কিতা পুজো দেয়! ছবি আঁকে! তবে, অন্যদের মতো জটিলতা বোঝে না সে। এক দাদা আর এক ভাইয়ের আদরের হয়েই নিজের দুনিয়ায় ভালো থাকতে চায় বিশেষ মেয়েটি! আর ওকে ভালো রাখতে এক অদম্য লড়াই লড়ে চলেছে ওর পরিবার। হেরে গেলে চলবে কেন?

চন্দ্রিমা রুমা দত্ত নিজেও সঙ্গীতশিল্পী, মেয়ের জন্য কঠিন পথ হাঁটেন রোজ! মেয়ের জন্যই বাঁচা ওঁদের! রুমার কথায়, ‘করোনাকালে মেয়েকে রক্ষা করতে একজনও সহায়ক রাখিনি। যদি মেয়েটার আমার কিছু হয়, সেই ভয়েই! ওকে নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কতবার থমকে গিয়েছি ঠিক নেই। তবে, পিছিয়ে আসিনি কখনও। অঙ্কিতাকে অনেকেই অমর্যাদা করেছেন। অনেক প্রতিযোগিতায় আমার মেয়েকে সুযোগ দিত না। অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে মিশতে দিত না। বহু আত্মীয়রা নিমন্ত্রণ করতেন না। বলে দেওয়া হত, আমার বাড়িতে আর এসো না। কখনও দেখেছি, ভিক্ষুকও বলছেন তোমার মেয়ে কি পাগল!’

অঙ্কিতার মা রুমার আক্ষেপ, ‘সমাজমাধ্যমেও অপদস্থ হতে হয়। আমাদের বাচ্চা আমাদের লজ্জা না, ওরা আমাদের কাছে সম্মান। অনেকেই আমাকে এড়িয়ে যেতেন, পছন্দ করতেন না। আমার সুখ তাঁরা এনজয় করেছেন, কিন্তু মেয়ের বেলায় মেনে নিতে রাজি নন!’ কিন্তু রুমা হারেননি! গানে গানে যুদ্ধজয়ের মতো করেই তিনি বলেন, ‘ওকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে যাই। ও পুজো দেখতে খুব ভালোবাসে। দুর্গাপুজোয় দারুণ ঘুরি আমরা। কে কী বলল, যায় আসে না! ও মিশতে চায়। কেউ এলে নেলপলিশ পরিয়ে দেয়। এগুলোতে শান্তি পাই আমি। বহু মানুষ আমাদের অনাদর করেন। আবার অনেকেই স্নেহ করেন।’ পুজো আসছে মা তো বিশেষদেরও! অঙ্কিতার মা বলছেন, ‘দেবী দুর্গা তো সকলের মা, তাঁর কাছে আবেদন করব, আমি যেন অনেক দিন বাঁচতে পারি। আমাদের মতো মায়েদের মরে গেলেও চোখ দুটো পুড়বে না। আমার মেয়ের জন্য আমাকে বাঁচিয়ে রেখো মা।’
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্যাশলেস থেকে ক্যাশে! প্রশ্নের মুখে ভারতের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা
-
রানি মুখোপাধ্যায়ের মাতৃবিয়োগ, প্রয়াত দেবশ্রীর দিদি কৃষ্ণা মুখোপাধ্যায়
-
ক্ষমতাচ্যুত বিজয়নের পিঠেও দুর্নীতির দাগ! ইডির প্রস্তাবে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ কং সরকারের
-
‘হনুমান মূর্তি গুঁড়িয়ে দাও’, ট্রাম্পের দেশে চরমে হিন্দুবিদ্বেষ! তুঙ্গে বিতর্ক
-
SIR পর্বে বিচারকদের উপর হামলা! মোথাবাড়ি কাণ্ডে সাবিনা ইয়াসমিনকে এনআইএ তলব