২১ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  বুধবার ৮ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

বিজেপির ইস্তেহারে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির উল্লেখ, ‘আজাদি’র পক্ষে সুর চড়ালেন নেতারা

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: April 8, 2019 3:50 pm|    Updated: April 8, 2019 6:30 pm

Farooq Abdullah condemns scrapping of Article 370

মাসুদ আহমেদ, শ্রীনগর: ক্ষমতায় ফিরলে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দিতে সচেষ্ট হবে বিজেপি৷ সোমবার ইস্তেহার প্রকাশ করে এই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তির আবহ তৈরি হয়েছে৷ জম্মু-কাশ্মীরে আংশিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার প্রদান সংক্রান্ত আইন ৩৭০ ধারা৷ কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অখণ্ড অংশ হিসেবে রাখতে চেয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতি, ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি ঘটানো হবে৷ ইস্তেহার প্রকাশিত হওয়ার পরই এনসি নেতা তথা জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লার হুঁশিয়ারি, এমনটা হলে দিল্লি যেন মনে না করে কাশ্মীরের ‘আজাদি’-র জন্য আন্দোলন হবে না৷

                                              [ আরও পড়ুন : ঐতিহাসিক জয় হবে, আত্মবিশ্বাসী নাগপুরের ‘স্বপ্নপূর্তি’ নীতীন গড়করি]

সোমবার শ্রীনগরের মুনিয়ারাবাদে ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন ফারুক আবদুল্লা৷ তারই মধ্যে বিজেপির ইস্তেহার প্রকাশিত হয়েছে দিল্লিতে৷ তাতেই উল্লেখ রয়েছে, ক্ষমতায় ফিরলে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারাটি অবলুপ্ত করা হবে৷ বিজেপির ইস্তেহারের এই অংশে কেন কাশ্মীরি নেতাদের এত আপত্তি, তা বুঝতে হলে ৩৭০ ধারার বিশ্লেষণ দরকার৷ ভারতীয় সংবিধানের এই ধারা অনুযায়ী, ভারত ভূখণ্ডের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীর একটি ব্যতিক্রমী রাজ্য৷ যেখানে প্রতিরক্ষা, বিদেশনীতি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে, রাজ্য সরকারের অনুমোদন দরকার৷ যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও অবশ্য প্রয়োজন মনে করলে কেন্দ্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে৷ এখন বিজেপির ইস্তেহার অনুযায়ী, ৩৭০ ধারা অবলুপ্ত করা হলে, ভারত সরকার যে কোনও আইন অন্যান্য রাজ্যের মতো জম্মু-কাশ্মীরেও বলবৎ করতে পারবে৷ রাজ্য সরকারের কোনও অনুমোদন লাগবে না৷ ফলে স্বায়ত্তশাসনের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে৷ যদিও এটা বিজেপির বরাবরের স্ট্র্যাটেজি৷ ভারতের অখণ্ডতা রক্ষার যুক্তিতে ৩৭০ ধারা তুলে দিতে চায় বিজেপি৷ এতদিন এনিয়ে কথাবার্তা হলেও, এবার সরাসরি ইস্তেহারে তা প্রকাশিত হল৷ 

                                              [ আরও পড়ুন : কৃষকদরদী ইস্তেহার প্রকাশ, বিজেপির সংকল্পপত্রে ফের রাম মন্দির তৈরির প্রতিশ্রুতি]

আর এখানেই জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধ৷ সেখানকার ক্ষমতাসীন দল রাজনৈতিক স্বার্থেই স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে৷ তাই বিজেপির ইস্তেহার দেখামাত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা বিরোধিতায় নেমেছেন৷ মুনিয়ারাবাদের জনসভায় তাঁর বক্তব্য, ‘দিল্লি কি মনে করছে ওরা ৩৭০ ধারা তুলে দেবে আর আমরা চুপ করে বসে থাকব? ভুল ভাবছে৷ আমরা অবশ্যই এর বিরোধিতা করব৷ ওদের এটা করতে দিন, আমরাও আজাদির জন্য সরব হব৷’ বিজেপির ইস্তেহার এবং ফারুক আবদুল্লার মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের অন্দরে৷ অভিজ্ঞ মহলের মতে, অখণ্ডতার যুক্তিতে বিজেপির ইস্তেহারে ৩৭০ ধারা অবলুপ্তির বিষয়টি সমর্থনযোগ্য কি না, তা বিতর্কের বিষয়৷তবে এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷   

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে