রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতির আড্ডা হতে দেওয়া উচিত নয়। এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল। রবিবার বিজেপির রাজ্য দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে যাদবপুরে সমাবর্তনে রাজ্যপালকে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে। জবাবে তিনি রাজ্যের শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রীর দিকেই ইঙ্গিত করে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজনীতির আড্ডা যেন না হয়। কিন্তু বাংলায় এটা করার চেষ্টা হচ্ছে। এটা সফল হবে না।”
একইসঙ্গে প্যারাটিচার প্রসঙ্গে শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের তোলা অসহযোগিতার অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। পোখরিয়ালের দাবি, বাংলায় শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন্দ্র যে অর্থ দিচ্ছে তা ব্যবহারই করতে পারছে না রাজ্য সরকার। উচ্চ শিক্ষায় দেওয়া অর্থ ব্যবহারই করতে পারেনি রাজ্য। উদাহরন দিয়ে বলেন, সমগ্র শিক্ষায় কেন্দ্রের দেওয়া ১১৭৩ কোটি টাকার মধ্যে ৩৭০ কোটি টাকা খরচ করতে পারেনি রাজ্য সরকার। দেশের নতুন শিক্ষা নীতিতে জ্ঞান-বিজ্ঞান, গবেষনা, ভারতের ইতিহাসকে জানা, ভারতীয় সংস্কৃতি, ভারতীয় ভাবধারা-এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে চলেছে বলে জানিয়েছেন পোখরিয়াল। আঞ্চলিক ২২টি ভাষাকে মজবুত করা হচ্ছে। মাতৃভাষার উপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আরও জোর দিন। কেন্দ্রীয় সরকার পাশে আছে বলেও জানিয়েছেন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী।
রবিবার বাংলায় একদিনের ঝটিকা সফরে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেটের সদস্য তথা কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল। সকালে ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে বিজেপির টিচার্স সেলের সম্মেলনে যোগ দেন তিনি। সেখানে ছিলেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সোজা যান বিজেপির রাজ্য দপ্তরে। এদিন সিএএ ইস্যুতে তৃণমূল ও কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বিরোধীদের পালটা জবাব দিতে সিএএ-র সমর্থনে প্রচারে নেমে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি। এ রাজ্যেও সিএএ-র সমর্থনে প্রচারে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রীরা আসবেন। জানুয়ারি মাসজুড়ে প্রচার হবে।
[আরও পড়ুন: শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আলোচনার জন্য মমতাকে চিঠি, ১ দিনের মধ্যে জবাব পেয়ে খুশি ধনকড়]
রবিবার বনগাঁয় সিএএ-র সমর্থনে মতুয়াগড়ে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুন সিং ও রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে সাংবাদিক সম্মেলনও করেন কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ২০০৫ সালে সংসদে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এখন এটা নিয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেস বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে যারা প্রতারিত হয়ে এসেছে ‘সিএএ’ তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। সিএএ-র যারা বিরোধিতা করছে তারা দেশের সংবিধান মানছে না। সংবিধান ভারতের মানুষের জন্য। দেশকে ধর্মশালা বানানোর জন্য নয়। মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।
তিনি বলেন, সিএএ-র বিরোধিতায় বাংলায় যে পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। যুবকদের হাতে রোজগার দিতে হবে। সরকারি সম্পত্তি নষ্টের জন্য পাথর তুলে দেওয়া উচিত নয়। রাজ্যপাল-নবান্ন সংঘাত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পোখরিয়ালের জবাব, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী দু’টোই সাংবিধানিক পদ। সেই রীতি মেনে চলা উচিত। আজ কেউ রাজ্যপাল, কেউ মুখ্যমন্ত্রী আছেন। কাল তিনি নাও থাকতে পারেন। ঝাড়খণ্ডে হেমন্ত সোরেনের শপথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়া নিয়ে মন্ত্রীর কটাক্ষ, ‘বাংলায় তৃণমূলের জমি আলগা হয়ে যাচ্ছে। তাই অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে।’
সর্বশেষ খবর
-
এবার রবিবারেও খোলা থাকবে ব্যাঙ্ক! উৎসবের আগে পরিষেবা সচল রাখতে বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
-
পুজো মণ্ডপে এলইডি বিজ্ঞাপনে ৫০ হাজার পর্যন্ত কর! পুরসভার নির্দেশে চাপে উদ্যোক্তারা
-
ভক্তের লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর গণপতি দর্শন, চেক বাউন্সকাণ্ডে ‘পাপমোচন’ রাজপালের!
-
সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর! অক্টোবরে অগ্রিম বেতন, পাবেন বর্ধিত ডিএ
-
পুজোয় শাড়ির থেকেও নজর কাড়বে ব্লাউজ! ৫ অন্যধারার ডিজাইনে হয়ে উঠুন অনন্যা