Advertisement
Advertisement
West Bengal Assembly Election

আইএসএফের সঙ্গে জোট কেন? ফ্রন্টের বৈঠক ছাড়ল ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব

হুমায়ুন-সেলিম সাক্ষাৎ নিয়েও ক্ষুব্ধ শরিকরা। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে ফ্রন্টে ইতিমধ্যে হিসেবনিকেশ শুরু হয়ে গিয়েছে।

Advertisement
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১২:৪১

link
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ১২:৪১

options
link
আইএসএফের সঙ্গে জোট কেন? ফ্রন্টের বৈঠক ছাড়ল ক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব zoom
আইএসএফ জোটে না ফরওয়ার্ড ব্লকের। ফাইল ছবি।

হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে বামফ্রন্টের শরিকদের প্রশ্নের মুখে পড়লেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)। ‘সাম্প্রদায়িক’ হুমায়ুনের সঙ্গে কেন আলোচনা করতে গিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম? এই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এতে যে জনমানসে ভুল বার্তা গিয়েছে সেটাও বৃহস্পতিবার বামফ্রন্টের বৈঠকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় সিপিআই, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি। আবার বামফ্রন্টের বাইরে গিয়ে কখনও কংগ্রেস, কখনও আইএসএফের সঙ্গে জোট করতে কেন সিপিএম লাফালাফি করছে, তা নিয়েও তীব্র বিরোধিতা করেন ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়।

সিপিএমের সঙ্গে কংগ্রেস জোট করছে না, বৃহস্পতিবার তা হাইকমান্ডের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) একাই লড়বে এবার কংগ্রেস। ফলে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হওয়ার আর কোনও সম্ভাবনা থাকছে না। কিন্তু এদিন আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে সিপিএমের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে বামফ্রন্টের বৈঠকের মাঝপথেই বেরিয়ে যান ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। নরেনের কথায়, “আমরা শুধু বামফ্রন্টগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই চাইছি। কংগ্রেসকে নিয়ে লড়াই করে মুখ পুড়েছিল। আইএসএফকেও জোটে নেওয়া যাবে না। এই জোট করতে গিয়ে বামপন্থীদের উপর থেকে বিশ্বাস চলে যাচ্ছে মানুষের।”

Advertisement

আইএসএফের সঙ্গে জোট নিয়ে সিপিএমের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে বামফ্রন্টের বৈঠকের মাঝপথেই বেরিয়ে যান ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন চট্টোপাধ্যায় ও সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। 

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হওয়ার আগে বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election) যে আসনে লড়েছিল ফরওয়ার্ড ব্লক, সেই মতো ৩০টি আসন তারা দাবি করেছে বামফ্রন্টের কাছে। এদিকে, এদিন বৈঠকে হুমায়ুন ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন সিপিআইয়ের কেন্দ্রীয় নেতা প্রবীর দেব, আরএসপির রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়। হুমায়ুনের সঙ্গে কেন কথা হচ্ছে? এতে ভুল বার্তা যাচ্ছে, সেলিমকে বলেন প্রবীর দেব। একই প্রশ্ন সেলিমের উদ্দেশে বলেন, আরএসিপর তপন হোড়ও। তপন হোড়ের বক্তব্য, “হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যাই ব্যাখ্যা দেওয়া হোক আমরা এটা মানছি না।” আরএসপিও এদিন বৈঠকে কমবেশি ২৩টি আসন দাবি করেছে। অন্যদিকে, সিপিআই ২০টি আসন চেয়েছে।

ফরওয়ার্ড ব্লক ৩০টি আসন দাবি করেছে বামফ্রন্টের কাছে। আরএসপিও এদিন বৈঠকে কমবেশি ২৩টি আসন দাবি করেছে। অন্যদিকে, সিপিআই ২০টি আসন চেয়েছে।

এদিকে, হুমায়ুন সাক্ষাৎ নিয়ে শরিকদলের নেতাদের প্রশ্নের মুখে পড়ে সেলিম যুক্তি দেন হুমায়ুনের সঙ্গে দেখা করে মন বুঝতে গিয়েছিলেন। কোনও সিদ্ধান্ত কিছু হয়নি। অর্থাৎ, কংগ্রেস আসছে না ভাল, আইএসএফকে নিয়েও আপত্তি আছে এবং হুমায়ুনের সঙ্গে কোনও কথা নয়, এটা এদিন বৈঠকে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর উপস্থিতিতে সেলিমকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন শরিক নেতারা।

গত বুধবার আলিমুদ্দিনে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে বেশিরভাগ সদস্য সেলিমের সঙ্গে তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গটি তুলে বলেছিলেন, ব্যাপারটা যেভাবে উত্থাপন হয়েছে সেটা পার্টির জন্য ভাল হয়নি। বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিনে একটি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছিলেন সেলিম। মনে করা হয়েছিল বিতর্ক থামাতে সেখানে হুমায়ুনের প্রসঙ্গে তিনি পার্টির অবস্থান স্পষ্ট করবেন। কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলনে নিজে সে প্রসঙ্গ তো তোলেনইনি এবং হুমায়ুন নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। এসআইআর-হয়রানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল নিয়ে চাপে সিপিএমও। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে এসআইআর সংক্রান্ত মামলা করেছিলেন মোস্তারি বানু নামে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার যে বধূ, তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দিল সিপিএম।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.