Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Fendi’s ₹8.3 Lakh Baguette Bag

কাচ বসানো বিদেশি সাড়ে ৮ লাখি ব্যাগে গুজরাটি শিল্প, তবু ব্রাত্য শিল্পীরা, তুঙ্গে বিতর্ক

গুজরাটের কচ্ছে বসবাসকারী রাবাড়ি সম্প্রদায়ের মহিলারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সূচিশিল্পের কৌশল ধরে রেখেছেন। তাঁদের পোশাক, ব্যাগ, কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রীতে দেখা যায় রঙিন সুতোয় তৈরি জটিল নকশা এবং ছোট ছোট আয়নার ব্যবহার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১৪:৫৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১৪:৫৮

options
link
কাচ বসানো বিদেশি সাড়ে ৮ লাখি ব্যাগে গুজরাটি শিল্প, তবু ব্রাত্য শিল্পীরা, তুঙ্গে বিতর্ক zoom
ফেন্ডি নির্মিত মিররওয়ার্ক ব্যাগেট।
Advertisement

ফ্যাশন র‌্যাম্পে হাঁটছেন মডেলরা, হাতে একরত্তি ছোট্ট ব্যাগ। ব্যাগ ভর্তি রংচঙে সুতোর কাজ, আর খুদে আয়নার টুকরো বসানো। চোখে পড়ার মতো বটে। কারণ পাশ্চাত্য ফ্যাশনে সাধারণত এত রঙের আধিক্য থাকে না। কালো, সাদা, বেইজ, ধূসর— এমন সব রঙই চোখে পড়ে বেশি। ফলে ফ্যাশনপ্রেমীদের জিজ্ঞাসু চোখ ঘিরে ধরে ব্যাগটিকে (Fendi’s ₹8.3 Lakh Baguette Bag)।

Fendi’s ₹8.3 Lakh Baguette Bag: The Indian Craft Behind the Luxury
গুজরাটের রাবারি এলাকার মহিলারা হাতেই বোনেন এমন আয়না ও সুতোর নকশা।

এই ব্যাগের নির্মাতা ইতালীয় বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড ফেন্ডি, সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এটি। একটি নয়, এ ধরনের বেশ কিছু ডিজাইন রাখা হয়েছে সেখানে। প্রতিটিতেই দেখা যাচ্ছে রঙিন সুতোর নকশা আর মিরর-ওয়ার্ক। সূত্র জানায়, এই ব্যাগের দাম ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৩ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করেছে ফেন্ডি। এটি আদতে ফেন্ডির জনপ্রিয় ‘ব্যাগেট’ ব্যাগেরই একটি মিরর-ওয়ার্ক সংস্করণ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গেই শুরু হয়েছে বিতর্কও। অনেকেই এই ব্যাগের নকশার সঙ্গে মিল পেয়েছেন গুজরাটি মিরর-ওয়ার্কের। গুজরাটের কচ্ছে বসবাসকারী রাবাড়ি সম্প্রদায়ের মহিলারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই সূচিশিল্পের কৌশল ধরে রেখেছেন। তাঁদের পোশাক, ব্যাগ, কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রীতে দেখা যায় রঙিন সুতোয় তৈরি জটিল নকশা এবং ছোট ছোট আয়নার ব্যবহার। শুধু সাজসজ্জা নয়, এই কারুশিল্প বহু পরিবারের কাছে একমাত্র জীবিকা। তাদের সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশও বটে।

ফেন্ডির ব্যাগটি ঘিরে মূল প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। সমালোচকদের দাবি, ব্যাগের নকশায় ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকলেও সেই কারুশিল্পের উৎস বা কারিগরদের বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ কোথাও দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে— কোনও স্থানীয় বা আদিবাসী শিল্পরীতিকে আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল পণ্যে ব্যবহার করা হলে তার সাংস্কৃতিক উৎসের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত কি না।

বলা বাহুল্য, প্রায় একই ধরনের কারুকাজের ব্যাগ গুজরাট বা ভারতের অন্যান্য জায়গায় বড়জোর ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করা হয়। যদিও ফেন্ডির ব্যাগকে সরাসরি সেই পণ্যের সমতুল্য বলা যায় না। তবুও এই বিশাল মূল্যবৈষম্য লাভের বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Fendi’s ₹8.3 Lakh Baguette Bag: The Indian Craft Behind the Luxury
প্রাডা নির্মিত কোলাপুরি চপ্পল ঘেঁষা সংস্করণটি।

ফ্যাশনের জগতে এই ঘটনা নতুন নয়। বছরখানেক আগে ইতালীয় লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড প্রাডা বাজারে এনেছিল ছিমছাম এক চপ্পল, যা হুবহু ভারতের কোলাপুরি চপ্পলের মতো দেখতে। সেখানেও এই প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকে কোনও ধরনের ক্রেডিট দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে যথেষ্ট হুলুস্থুল হওয়ায়, পরবর্তীকালে ভারতীয় শিল্পকে সম্মান জানিয়ে ২০০০ জোড়া ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ জুতো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। ফেন্ডি নির্মিত ব্যাগটি নিয়েও যথেষ্ট শোরগোল বেধেছে সোশাল মিডিয়ায়। শেষ অবধি কী ঘটে, তাই এখন দেখার।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.