একসময়ে ছেলেমেয়েরা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কেউ কেউ আবার বিদেশে চাকরি করতে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করত বাবা-মায়ের কাছে। তবে এখনকার তরুণ-তরুণীরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। পড়াশোনা লাটে তুলে দিনরাত ক্যামেরার সামনে নিজের ছেলেমেয়েকে দেখার কথা অবশ্য আজও ভাবতে পারেন না বহু বাবা-মা। সন্তানের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে শুরু করেন। তবে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া কাজের কথা নয়। বরং জেনে নিন এমন পরিস্থিতিতে বাবা-মায়েরা কী করবেন।
হু হু করে বাড়ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর। নিজের মতো করে জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন তাঁরা। কেউ দেখান রান্নাবান্না, কেউবা সাজগোজ, রূপচর্চার ভিডিও পোস্ট করে ভাইরাল। বহু কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর প্রাত্যহিক জীবনকে তুলে ধরেন রিলস কিংবা ভ্লগে। আর সময় পেলেই মোবাইল স্ক্রল করে তা দেখেই চলেছেন। আর তা দেখতে দেখতে বহু তরুণ-তরুণী কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। যতদিন যাচ্ছে, ততই বাড়ছে সে প্রবণতা। কেন বাড়ছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার ঝোঁক? একে তো বিনা পুঁজিতে স্বাধীনভাবে কিছু করার ইচ্ছা। আর দ্বিতীয়ত জনপ্রিয়তার নেশা।
আরও পড়ুন:

আপনার সন্তানও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার স্বপ্ন দেখলে কী করবেন নিশ্চয়ই ভাবছেন। সরাসরি নাকচ করে দেবেন প্রস্তাব নাকি নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে দেবেন কিংবা বলবেন আগে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে? এমনই নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আপনার মাথায়? প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে,
- সন্তানের প্রস্তাবের সঙ্গে আপনি একমত না-ও হতে পারেন। তবে সরাসরি নাকচ করে দেবেন না। কারণ, সেই সময় আপনার সন্তানও নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সে সফল হবে কিনা, দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে সন্তানকেও। তাই ভেবেচিন্তে পরামর্শ দিন।
- কোন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে চাইছে, তা জিজ্ঞাসা করুন। বুঝিয়ে বলুন এমন কিছু যেন না করে যাতে শালীনতার সীমা লঙ্ঘন হয়। তাতে তার কিংবা আপনার পরিবারের সম্মানহানির সম্ভাবনা থাকে।
- পড়াশোনার পাশাপাশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে কাজ করতে চায় অনেকেই। সেক্ষেত্রে পড়াশোনায় যেন কোনও অবহেলা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বকাঝকা করবেন না। বুঝিয়ে বলুন পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তার কথা।

সন্তানকে বলুন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে কাজ করতেই পারে। তবে তা যেন সন্তানের একমাত্র পেশা না হয়। বিকল্প হিসাবে এগোতেই পারে। তাতে সাফল্য পাওয়া গেলে ভালো। আর না হলে ভেঙে পড়া যাবে না। বরং চেষ্টা করতেই হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘মা নাড়ু বানিয়েছ?’ পুজো এলেই শহিদ ছেলের ডাক মনে পড়ে মমতার
-
দুর্ঘটনার কবলে ফরাক্কা এক্সপ্রেস, লাইন থেকে নেমে গেল ইঞ্জিন, তীব্র আতঙ্কে যাত্রীরা
-
নৈতিকতা ও ন্যায়বিচারের সংঘাত! খার্কি উর্দিতে কতটা জমল করিনা, পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের ‘দায়রা’?
-
মানাসলুর তুষারঝড় থেকে বেঁচে ফেরেন! ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুতে সেই ভয়াবহ অতীত স্মরণ পর্বতারোহীর
-
দেবীর সঙ্গে পূজিতা দুই দাসীও, বাংলার শতাব্দী প্রাচীন পুজোর নেপথ্য কাহিনি কী?