হাসিনা একা নন, বিশ্ব ইতিহাসে চরম দণ্ড পেয়েছেন যে সব রাষ্ট্রনায়ক
একনজরে দেখে নেওয়া যায় ইতিহাসের সেইসব বিতর্কিত নেতাদের।
সাদ্দাম হোসেন (ইরাক): ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন সাদ্দাম। অত্যন্ত নিষ্ঠুর শাসক হিসেবে পরিচিত। কুর্দ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেন। ইরাকে মার্কিন সেনার অভিযানের পর ২০০৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৬ সালে ইরাকের আদালত ১৯৮২ সালের দাজাইল গণহত্যার অপরাধে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
মুয়াম্মার গদ্দাফি (লিবিয়া): লিবিয়ার এই স্বৈরাচারী শাসক ১৯৬৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর শাসনকালে খনিজ তেলের বিরাট মুনাফায় সমৃদ্ধ হয়েছিল লিবিয়া। একইসঙ্গে বিদ্রোহীদের দমন করতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে গদ্দাফির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ব্যাপক আকার নেয়। এরপর ন্যাটোর সাহায্যে গদ্দাফি সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। গদ্দাফির নিজের শহর সিরতেতে বন্দি হন এই রাষ্ট্রপ্রধান। বিনা বিচারে বিদ্রোহীরা পিটিয়ে খুন করে গদ্দাফিকে।
নিকোলাই চাউচেস্কো (রোমানিয়া): ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন রোমানিয়ান কমিউনিস্ট শাসক নিকোলাই চাউচেস্কো। তাঁর শাসনকালে চরম দারিদ্রে ডুবে যায় রোমানিয়া। অন্যদিকে, চরম বিলাসিতায় ডুবে ছিলেন নিকোলাই। এই অবস্থায় ১৯৮৯ সালে ভয়ংকর বিদ্রোহ শুরু হয় দেশে। রোমানিয়ার সেনাও বিদ্রোহীদের পক্ষ নেয়। বন্দি করা হয় নিকোলাই ও তাঁর স্ত্রীকে। দুর্নীতি ও অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে। ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর গুলি করে হত্যা করা...
চার্লস টেলর (লাইবেরিয়া): ১৯৯৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁকে আফ্রিকার হীরক রাজাও বলা হয়। তাঁর শাসনে লাইবেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চরম আকার নেয়। মৃত্যু হয় লক্ষ লক্ষ মানুষের। ২০০৩ সালে বিদ্রোহীরা দেশ দখল করলে টেলর দেশ ছাড়েন। স্কটল্যান্ডের এক আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। ২০১২ সালে তাঁর ৫০ বছরের কারাদণ্ড হয়।
আরও পড়ুন:
পারভেজ মোশারফ (পাকিস্তান): পাকিস্তানের প্রাক্তন স্বৈরশাসক পারভেজ মোশারফ ছিলেন সেনাপ্রধান। ১৯৯৯ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন তিনি। ২০০৭ সালে সংবিধান অগ্রাহ্য করে জারি করেন জরুরি অবস্থা। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে, তিনি দুবাই পালিয়ে যাওয়ায় সাজা কার্যকর হয়নি। ২০২৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।