মান সিং, তিরাশির বিশ্বজয়ের ৪২ বছর পর নামটা কি কেউ মনে রেখেছেন?
১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো ভারতীয় দলের প্রধান ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সংক্ষিপ্ত ক্রিকেটীয় কেরিয়ারের প্রায় একদশক পর পি আর মান সিং হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এহেন পি আর মান সিং ক্রিকেট বিশ্বে ‘মান সাব’ কিংবা ‘মিস্টার ক্রিকেট’ নামে পরিচিত। মান সাব ১৯৮৩ সালে প্রথমবারের মতো ভারতীয় দলের প্রধান ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আরও পড়ুন:
টিম ম্যানেজারের তাঁর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যাতে ক্রিকেটাররা শুধুমাত্র খেলায় মনোনিবেশ করতে পারেন। মান সিং একাই ১৯৮৩'র ভারতীয় দলের জন্য এমনটা করেছিলেন। যদিও এটা মান সিংয়ের কাছে সমস্যা ছিল না। কারণ এক্ষেত্রে তাঁর একটা সুবিধাও ছিল। তিনি ভারতীয় দলের ১৪ জন খেলোয়াড়কে কয়েক বছর ধরেই চিনতেন। যখন তাঁরা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলতেন, তখন তাঁরা হায়দরাবাদে আসতেন মঈন-উদ-দৌলা গোল্ডকাপ, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ম্যাচ...
মান সিংয়ের জন্য আরেকটি সুবিধা হল, তিনি ম্যাঞ্চেস্টারে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করেছিলেন। সেখানে দু'বছর লিগ ক্রিকেট খেলেছিলেন তিনি। তাই ইংলিশ ক্রিকেট সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে ইতিমধ্যেই এমসিসি'র সদস্য হয়েছিলেন তিনি। তখন ক্রিকেটে এখনকার মতো এত টাকা ছিল না। আজকের মতো এত সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগে বোর্ড বেশি খরচ করতে পারেনি। মান সিং তাঁর আগে ওই পদে দায়িত্ব সামলানো মানুষদের সঙ্গে একজন ম্যানেজারের...
মান সিংয়ের জন্য আরেকটি সুবিধা হল, তিনি ম্যাঞ্চেস্টারে প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করেছিলেন। সেখানে দু'বছর লিগ ক্রিকেট খেলেছিলেন তিনি। তাই ইংলিশ ক্রিকেট সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে ইতিমধ্যেই এমসিসি'র সদস্য হয়েছিলেন তিনি। তখন ক্রিকেটে এখনকার মতো এত টাকা ছিল না। আজকের মতো এত সাপোর্ট স্টাফ নিয়োগে বোর্ড বেশি খরচ করতে পারেনি। মান সিং তাঁর আগে ওই পদে দায়িত্ব সামলানো মানুষদের সঙ্গে একজন ম্যানেজারের...
আরও পড়ুন:
১৯৮৩ সালে পুরো ট্যুরের জন্য মোট ১৫ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তাঁরা। বিশ্বকাপের পর দলকে প্রাইজমানি দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না বোর্ড। ভারত যখন ফাইনাল খেলছিল, তখন লতা মঙ্গেশকর ইংল্যান্ডে উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নরেন্দ্র কুমার প্রসাদরাও সালভে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যদি ভারতে একটি কনসার্ট করতে পারেন লতা। লক্ষ্য ছিল, লতা মঞ্জেশকরের অনুষ্ঠান থেকে উপার্জিত অর্থ খেলোয়াড়দের হাতে 'পুরস্কার' হিসেবে তুলে দেওয়া। প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন...
আসলে ৮৩ বিশ্বকাপ থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে যে ঘটনাগুলি ঘটেছিল, তা পরিবর্তনের দিকে নিয়ে গিয়েছে। বলা চলে ভারতীয় ক্রিকেটের আধুনিকায়ন ঘটে এরপর। ৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে ১১ জনের মধ্যে ১০ জন ভারতীয় ক্রিকেটার স্নাতক ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাঁদের কখনওই পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি। ভিনু মানকড়ের মতো পেশাদাররা ছিলেন, যাঁরা ইংল্যান্ডে লিগ খেলতেন। আজ সেই দিন বদলেছে। এখন একজন কিশোরও ক্রিকেট খেলে...
তৎকালীন ভারতীয় দলের ওপেনার শ্রীকান্তের নামের সঙ্গে জড়িয়ে বিখ্যাত এক উপাখ্যান। সেই সময়ে স্ত্রী-বান্ধবীদের দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। বোর্ডের নিয়ম এই বিষয়ে খুবই কঠোর। ৮৩ বিশ্বকাপের ঠিক আগে কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের বিয়ে হয়। ঘটনাচক্রে বিশ্বকাপের সময় তাঁর স্ত্রী ইংল্যান্ডে বন্ধুর বাড়িতে ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার ব্যাপারে মান সাবের কাছে অনুনয় করেছিলেন শ্রীকান্ত। প্র্যাকটিসের সময় ফিরে আসারও প্রতিশ্রুতি দেন শ্রীকান্ত। মান সাব...
১৯৮৩ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যালকম মার্শালের বাউন্সারে দিলীপ বেঙ্গসরকার আঘাত পান। সরকারি চিকিৎসক তাঁর ক্ষতস্থানে মলম লাগিয়ে দেন। মান সিং ভেবেছিলেন, চোট গুরুতর। তাই আরও মনোযোগের প্রয়োজন। সেই কারণে বেঙ্গসরকারকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বেঙ্গসরকারের ক্ষতস্থানে সেলাইও পড়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় খেলায় অসাধারণ খেলছিলেন সন্দীপ পাতিল। মিডল অর্ডারে শক্ত খুঁটির মতো তাঁকে দেখাচ্ছিল। কিন্তু তিনি ভুল শট খেলে আউট হন। আউট হয়ে...
সাধারণত যখন ভারত বিদেশ সফরে যায়, তখন বিসিসিআই একটি ছোট বিদায়ী অনুষ্ঠান করে। ৮৩-তে তেমন কিছুই ঘটেনি। তবে ভারতীয় দল সান্তাক্রুজ বিমানবন্দরে আটকে পড়ে। বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের লাগেজের ওজন ছিল বেশি। আসলে অনেক ক্রিকেটারই ইংল্যান্ডে বন্ধুদের জন্য আম নিয়ে যাচ্ছিলেন। তা অনাবশ্যক জিনিস নিয়ে গেলে তো তার মাশুল চোকাতে হবে জরিমানা ভরে। কিন্তু মান সিং বা ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের কাছে অত টাকা ছিল না। মান সিং...