অদ্ভুত সমাপতন! মৃত্যু মিলিয়ে দিল লতা-আশাকে, দুই বোনের অন্তিম ক্ষণের এই মিলগুলি বিস্ময়কর
মৃত্যুপথে মিলে গেল লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলের শেষ সুর। জানেন দুই বোনের মৃত্যুতে কী কী মিল?
আরও পড়ুন:
১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জন্ম লতা মঙ্গেশকরের। আর ১৯৩৩ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর জন্ম আশার। দুই বোনের চার বছরের ব্যবধান। আর সেই চার বছরের ব্যবধানেই প্রয়াত হলেন লতা-আশা। ২০২২ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন লতা। আর ছাব্বিশ সালের ১২ এপ্রিল দিদির মতোই ৯২ বছর বয়েসে পরলোকের উদ্দেশে রওনা হলেন আশা। দুই গায়িকার মৃত্যু তারিখেও ঠিক চার মাসের ব্যবধান। এখানেই শেষ নয়!
আরও পড়ুন:
আশা যখন পেশাদারভাবে গান গাওয়া শুরু করেন, তখন দিদি লতা খ্যাতির শীর্ষে না পৌঁছলেও সঙ্গীতজগতে পায়ের তলার মাটি শক্ত করে ফেলেছিলেন। পাঁচের দশকে লতা যখন সাফল্যের শীর্ষে, তখন বোন আশা পার্শ্বচরিত্রদের কণ্ঠে গান গাওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলেন। লতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে এগিয়ে রাখতেন সঙ্গীত পরিচালকরা। প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল আশা ভোঁসলেকে।
কানাঘুষো সেসময়েই নাকি লতাদিদির সঙ্গে দূরত্বও বেড়ে বোন আশার! আবার পেশার কারণে লতা এবং আশার মনোমালিন্যের ঘটনা কিন্তু অনেকাংশে 'মুচমুচে গসিপে'র আকারে চাউর হয়েছিল। শোনা যায়, ওপি নায়ারের জন্যেই নাকি দুই বোনের মধ্যে বিরোধ ঘটে। কারণ লতা মঙ্গেশকর সেসময়ে সঙ্গীতজগতে খ্যাতনামা হলেও নায়ারের পয়লা পছন্দ ছিল আশা। এবং তিনি নাকি আশা ভোঁসলেকে লতার থেকেও বড় গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন।
আশা গণপত রাওয়ের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন বলে লতা দীর্ঘদিন বোনের সঙ্গে কথা বন্ধ রাখেন। এক সাক্ষাৎকারে আশা জানিয়েছিলেন, "প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। লতাদিদি আমার সঙ্গে বহু দিন কথা বলেননি, কিন্তু সেই বিয়ে সুখের ছিল না।" অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাপের বাড়ি ফিরে যান আশা। সেসময়েই দুই বোনের মান-অভিমানের বরফ গলা শুরু করে। বোনের হাত শক্ত করে ধরেন লতা।
লতা-আশা দুই বোনের শেষকৃত্যও সম্পন্ন হল একই জায়গায়। ২০২২ সালে যেখানে পঞ্চভূতে বিলীন হয়েছিলেন দিদি লতা মঙ্গেশকর, সোমবার বিকেলে সেই শিবাজী পার্কেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য। এ যেন এক অদ্ভূত সমাপতন! কী আশ্চর্য, এক হয়, এক দিন, একই হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সঙ্গীতদুনিয়ার দুই কিংবদন্তি বোন। (ছবি- সংগৃহীত)