রাজি হয়েও হার্দিককে পাবে না নাইটরা! মুম্বই ক্যাপ্টেনকে পেতে এবার দড়ি টানাটানি এই ৪ দলের
হার্দিকের মুম্বই ছাড়ার জল্পনা শুরু চলতি বছরের আইপিএল চলাকালীনই।
'বরোদা বম্বার' যে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ছেনই, তা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলা যায় না। কারণ, তাঁর আগামী বছরও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, ভারতীয় অলরাউন্ডারকে ঘিরে নিদেনপক্ষে চার-চারটে ফ্র্যাঞ্চাইজির পুনরায় 'চিত্ত চাঞ্চল্য' শুরু হয়েছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তাদের ফোনাফুনি শুরু হয়েছে। যদিও সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনও বহু বাকি।
আরও পড়ুন:
হার্দিকের মুম্বই ছাড়ার জল্পনা শুরু চলতি বছরের আইপিএল চলাকালীনই। হার্দিককে অলিখিত সাসপেন্ড করে দিয়েছে মুম্বই ম্যানেজমেন্ট, এমন গুঞ্জন ছড়ায়। কারণ, নিজের দলের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন হার্দিক। নিজের দলকে ইনস্টাগ্রামে আনফলো করে দিয়েছেন। ফিট হওয়া সত্ত্বেও চোটের দোহাই দিয়ে হার্দিক কয়েকটা ম্যাচ খেলেননি, এমন গুঞ্জনও চলেছে। সঙ্গে ধারাবাহিক ব্যর্থতা। সবমিলিয়ে শোনা যায়, হার্দিককে ঘাড় থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইছে মুম্বই।
কিন্তু দলবদলের বাজারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সেরই এক সূত্র বলছে যে, শেষ পর্যন্ত হার্দিককে ট্রেড না-ও করা হতে পারে। তাদের সবচেয়ে লাভ হয়, হার্দিকের সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসের অক্ষর প্যাটেলকে ট্রেড করলে। মুম্বই টিমের দুর্বলতা একটাই-উঁচু মানের স্পিন বোলার। অক্ষর এলে তাদের সেই সমস্যা মেটে। কিন্তু হার্দিকের সঙ্গে অক্ষরের ট্রেড হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
হার্দিককে নিতে আগ্রহী অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজিই। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এমন দাবি করছে যা মানা কঠিন। রাজস্থান রয়্যালসের যশস্বী জয়সওয়াল কিংবা লখনউ সুপার জায়ান্টসের নিকোলাস পুরানের সঙ্গেও ট্রেড করার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এ সবের এখনও পর্যন্ত কোনও বাস্তবোচিত তথ্য-প্রমাণ নেই। ফলে হার্দিককে আগামী বছর কোন জার্সিতে দেখা যাবে, জল্পনা তুঙ্গে।
আরও পড়ুন:
মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংসও হার্দিককে দলে নিতে বেশ উদ্যোগী। কিন্তু তাদের প্রধান চিন্তা, স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের জায়গায় কোচ নির্বাচন। খবর যা, ধোনি এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সঙ্গে বৈঠক করে সর্বাগ্রে কোচ নির্বাচন করবে সিএসকে। তার পর যদি দেখা যায় যে, হার্দিকের ট্রেড-বিকল্প পড়ে রয়েছে, তা হলে নতুন কোচের মতামত নিয়ে সে দিকে ঘুরতে পারে সিএসকে।
দৌড়ে খুব ভালোভাবে রয়েছে কেকেআর। তারা অবশ্যই হার্দিককে চায়। কারণ, গত দু'বছর ধরে অধিনায়ক-সঙ্কটে ঘোর ভুগেছে তারা। তার উপর এবার থেকে এত দিনের 'মেক শিফট' অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও আর নেই। হার্দিক এলে সেই সঙ্কট মেটে। কিন্তু সেটা করতে গেলে নিজেদের সেরা ব্যাটার বা বোলারকে ছাড়তে হবে কেকেআরকে। যা তারা করতে চায় না।
কেকেআর নাকি হার্দিকের বদলে অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিনকে 'অফার' করতে পারে। কিন্তু সে প্রস্তাব কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, বলা কঠিন। আগামী বছর আইপিএলের পরপরই অ্যাশেজ। আদৌ গ্রিনকে আইপিএল খেলতে দেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া? এবারের আইপিএলেও অজি বোর্ডের নির্দেশে একাধিক ম্যাচে বল করেননি তিনি। গ্রিনের বদলে হার্দিক-এই ট্রেডে মুম্বইকে রাজি করানোও বেশ কঠিন। শেষ পর্যন্ত কোন জার্সি পরবেন পাণ্ডিয়া?