বিয়ে ছাড়াই সন্তান জন্মে আগ্রহী এ যুগের পৃথারা! তালিকায় শীর্ষে কোন দেশ, কোথায় ভারত?
মহাভারতের যুগে কলঙ্কের দাগ লুকোতে পৃথা তাঁর সন্তানকে নদীতে ভাসিয়েছিলেন। মায়ের সেই কলঙ্কের দাগ আজীবন বহন করতে হয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রের বীর যোদ্ধা কর্ণকে। তবে সময় বদলেছে। বিয়ে, যৌনতা ও সন্তান জন্মের চিরাচরিত ধারা ভেঙে এগোচ্ছে নতুন প্রজন্ম।
আরও পড়ুন:
OECD-এর রিপোর্ট বলছে, বিয়ে ছাড়া সন্তান জন্মের নিরিখে গোটা বিশ্বের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার মহিলারা। এখানে ৮৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বিয়ের আগে। এর ঠিক পরেই তালিকায় যথাক্রমে রয়েছে চিলি (৭৮.১%), কোস্টারিকা (৭৪%) এবং মেক্সিকো (৭৩.৭%)। দাবি করা হচ্ছে, এই দেশগুলিতে বিয়ে নয় লিভ ইন সম্পর্কের প্রবণতা অত্যন্ত বেশি। এই সম্পর্ক সামাজিক ও আইনিভাবেও স্বীকৃত। ফলে এই দেশগুলিতে বিয়ের বাধ্যবাধকতা একেবারেই নেই।
আরও পড়ুন:
নর্ডিক দেশগুলিও তাদের চিরাচরিত রীতি ভাঙতে শুরু করেছে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। যার ছাপ পড়েছে বিবাহ বহির্ভূত সন্তান জন্মে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিয়ের আগে সন্তান জন্মে যথেষ্ট এগিয়ে আইসল্যান্ড (৬৯.৪%), নরওয়ে (৬১.২%), সুইডেন (প্রায় ৫৭.৫%) এবং ডেনমার্ক (প্রায় ৫৪.৭%)। এই দেশগুলির সামাজিক নিরাপত্তা, শিশুদের আইনি সুরক্ষা যথেষ্ট ফলে এখানকার মহিলারা বিয়ে ছাড়া সন্তানের জন্ম দিতে একেবারেই পিছুপা হন না।
ইউরোপের দেশগুলিতে বিয়ের আগে সন্তানের জন্ম দেওয়ার প্রবণতা বাড়লেও এশিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এই প্রবণতা বেশ কম। যেমন জাপানে অবিবাহিত মহিলাদের সন্তান জন্মের হার মাত্র (২.৪৪%), দক্ষিণ কোরিয়ায় (৪.৭%), তুরস্কে (৩.১%), ইজরায়েলে (৮.৬%) এবং গ্রিসে (৯.৭%)। এই অঞ্চলগুলির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় ঐতিহ্য, বিবাহ সংক্রান্ত আইনের পাশাপাশি সামাজিক কলঙ্কের ভয় এখনও প্রবল।
এই তালিকাতেই পড়ে ভারত-সহ প্রতিবেশী দেশগুলি। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে অবিবাহিত মহিলাদের সন্তান জন্মের হার অনেক কম। এটি এক শতাংশেরও নিচে। এর কারণ ভারতে বিবাহ ছাড়া সন্তান জন্মের ঘটনাকে অত্যন্ত ঘৃণ্য নজরে দেখা হয়। পাশাপাশি সিঙ্গেল মাদারদের সমাজে হেনস্থার শিকারও হতে হয়। তাছাড়া ভারতীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক রীতিনীতি বিবাহকে অগ্রাধিকার দেয়।
রিপোর্টে স্পষ্ট যে অবিবাহিত মহিলাদের সন্তান জন্ম শুধুমাত্র সামাজিক পরিবর্তনের ফল নয়, বরং তা অনেক বেশি আইনি কাঠামো, শিশুদের আইনি সুরক্ষা ও সাংস্কৃতিক-সামাজিক রীতির সংমিশ্রণ। তবে আগামী দিনে এই ব্যবধান আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারত এবং অন্যান্য এশীয় দেশগুলিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।