BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মমতাকে বরণের পথে উদ্বুদ্ধ ঘিসিংপন্থীরা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 12, 2016 10:11 am|    Updated: July 12, 2016 10:16 am

An Images

কিংশুক প্রামাণিক: দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম পাহাড় সফরে তিনি যে সংবর্ধনার জোয়ারে ভেসে যাবেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না৷ ভালবাসার বন্ধনে এখানেও ডাক ‘দিদি’ ‘দিদি’৷ তাঁকে স্পর্শ করতে লেপচা, ভু্টিয়া, রাই লিম্বু, গোর্খা, তামাং জনজাতির গরিবগুর্বো মানুষগুলো যে দূর গ্রাম থেকে হিলকার্ট রোডে ভিড় জমাবেন, তা কে না জানত৷ কিন্তু এবার কেমন যেন অন্য ছবি তিনি দেখলেন৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারলেন পাহাড়েও যেন বইছে পরিবর্তনের বাতাস৷ তৃণমূলের পতাকা তো রয়েইছে, কিন্তু এবার দেখা গেল মোর্চার তিন রঙা পতাকা সরিয়ে পাহাড়ে আবার সবুজ পতাকার ঢল৷ ভিতরে কুকরি আঁকা পতাকাগুলি দেখলেই মনে পড়ে যায় দার্জিলিংয়ের প্রয়াত মুকুটহীন সম্রাট সুবাস ঘিসিংকে৷
সোমবার মমতাকে সংবর্ধনা জানাতে রোহিণী থেকে দার্জিলিংয়ে ভয় ভেঙে পথে নেমে পড়লেন ঘিসিংয়ের হাজার হাজার সমর্থক৷ তাঁদের মুখে স্লোগান, ‘মমতা দিদি জিন্দাবাদ, লুটেরা বিমল গুরুং মুর্দাবাদ৷ জিটিএ চাই না, চাই সিক্স শিডিউল৷’ খুব তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য৷ অর্থাৎ, আবার পাহাড়কে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্তির পুরনো দাবি নতুন করে উঠে গেল৷ মনে পড়ে যাচ্ছিল সুবাস ঘিসিংকে৷ গোর্খাল্যান্ড পাওয়া সম্ভব নয় বুঝে তিনি এক সময় পাহাড়ের জন্য এই ষষ্ঠ তফসিলের দাবি তুলেছিলেন৷ তাঁর মত ছিল, এই দাবি কেন্দ্র মানলে বিরাট লাভ৷ আগামী দিনে পাহাড়ে প্রভূত উন্নয়ন সম্ভব৷ এমনকী, ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠনের আগে যেভাবে সেই এলাকাকে ষষ্ঠ তফশিলের আওতায় আনা হয়েছিল, সেভাবেই ষষ্ঠ তফসিল পেলে দার্জিলিংয়ের স্বশাসনের স্বপ্ন ভবিষ্যতে সফল হবে৷ বস্তুত, পাহাড়ের মানুষকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জিএনএলএফ যে নতুন করে কোমর বেঁধে ফেলেছে তা এদিন বোঝা গিয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ের জন্য বারবরই লাকি৷ তিনি এলে মেঘ সরিয়ে দেখা দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা৷ এদিন পাহাড়ে বৃষ্টি ছিল না৷ ঝলমলে রোদ৷ মমতার কল্যাণে এই বর্ষাতেও ভরা পর্যটক ম্যালে৷ সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী এসে সোজা উঠে গেলেন রিচমন্ড হিলের বাংলোয়৷ তাঁর সঙ্গী দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেন৷ মঙ্গলবার সকালে পৌনে এগারোটায় প্রণববাবু এসে বাগডোগরা হয়ে লেবং রেসকোর্সে পৌঁছবেন৷ রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানাবেন৷ বিকেলে ম্যালে রাইসিনা হিলের বঙ্গসন্তানের বর্ণময় কর্মজীবনের সংবর্ধনা৷ বুধবার রাজভবনে রাষ্ট্রপতির সম্মানে নৈশভোজ দেবে রাজ্য সরকার৷ এই সমস্ত কর্মসূচিতে সদ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া দার্জিলিংয়ের সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজে কথা বলেছেন তাঁর সঙ্গে৷
সবমিলিয়ে ভিভিআইপিদের আগমনে বর্ষার ম্যালে উৎসবের আনন্দ৷ সর্বদা রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতে মত্ত থাকা মোর্চা নেতারা পাহাড়ে পরিবর্তনের হাওয়া নিশ্চিতভাবে টের পেয়েছেন৷ ষষ্ঠ তফসিলের দাবি জানিয়ে ঘিসিং অনুগামীরা পথে নেমে পড়ায় তারা চিন্তিত৷ ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সংঘাতের পথ ছাড়তে বৈঠকে বসতে চাইছেন গুরুংরা৷ কিন্তু এখনও তা চূড়ান্ত নয়৷ এক সময় সুবাস ঘিসিংকে কার্যত পাহাড় থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল মোর্চা৷ ভয়ে সিটিয়ে যাওয়া জিএনএলএফ নেতৃত্ব মোর্চার বশ্যতা মেনে নেয়৷ কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতেই তৃণমূলকে ধরে বিশেষ করে মমতার আশীর্বাদ মাথার উপর নিয়ে পাহাড়ে নতুন সমীকরণের অঙ্ক ঘিসিং পুত্র মনের৷ সব দেখে মুখ্যমন্ত্রীও তৃপ্ত৷ তবে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি৷ তিনি চান শান্তি বজায় থাকুক৷ ফলে মানুষের সংবর্ধনায় ভেসে তিনি এদিন রয়েছেন নিজস্ব মেজাজে৷ আগামী চার দিন তিনি পাহাড়ে থাকছেন৷ শুক্রবার প্রণববাবুর সঙ্গে বিশেষ বিমানে যাবেন দিল্লি৷ পরদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকা আন্তঃরাজ্য পরিষদের বৈঠক৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement